, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

দেশের সব দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক :ঝুঁকিতে শিশুরা

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৬৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই এই ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব মিলেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় উদ্বেগের বিষয়।

‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে যবিপ্রবির একদল গবেষক। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে এটি পরিচালিত হয়। গবেষকদের দাবি, দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং মানবদেহে এর প্রবেশ ও ঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম কোনো বিস্তৃত গবেষণা।

৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই প্লাস্টিক কণা

গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা দুধ: ১৭টি (ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত)। ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ: ১২টি। অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য: ১২টি।

মাইক্রোস্কোপ এবং এফটিআইআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেখা যায়, সব কটি নমুনার ভেতরেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে।

দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি বা পাইপের সংস্পর্শে এসে এসব প্লাস্টিক কণা দুধে মিশতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

দুধে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের বেশিরভাগই ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং আকারে ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। কাঁচা দুধে ৭৭.৪৮% এবং ব্র্যান্ডের দুধে ৮২.৮৩% কণা ছিল আঁশ আকৃতির। এতে পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস ও পলিস্টাইরিনের মতো ক্ষতিকর পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরের ওজন কম এবং দুধের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্ভাব্য হার অনেক বেশি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টার ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের জোর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

দেশের সব দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক :ঝুঁকিতে শিশুরা

প্রকাশের সময় : ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

অনলাইন বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই এই ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব মিলেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় উদ্বেগের বিষয়।

‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে যবিপ্রবির একদল গবেষক। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে এটি পরিচালিত হয়। গবেষকদের দাবি, দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং মানবদেহে এর প্রবেশ ও ঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম কোনো বিস্তৃত গবেষণা।

৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই প্লাস্টিক কণা

গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা দুধ: ১৭টি (ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত)। ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ: ১২টি। অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য: ১২টি।

মাইক্রোস্কোপ এবং এফটিআইআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেখা যায়, সব কটি নমুনার ভেতরেই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে।

দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি বা পাইপের সংস্পর্শে এসে এসব প্লাস্টিক কণা দুধে মিশতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

দুধে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের বেশিরভাগই ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং আকারে ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। কাঁচা দুধে ৭৭.৪৮% এবং ব্র্যান্ডের দুধে ৮২.৮৩% কণা ছিল আঁশ আকৃতির। এতে পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস ও পলিস্টাইরিনের মতো ক্ষতিকর পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরের ওজন কম এবং দুধের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্ভাব্য হার অনেক বেশি।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টার ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের জোর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।