, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​প্রতিহিংসাদিয়ে দল চালানো যায়, কিন্তু দেশ চালানো যায়না।

  • প্রকাশের সময় : ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন  বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

বিএনপি পথ হারিয়ে দিশেহারা। অবশ্য যে দলের নেতার তথ্য উপদেষ্টা কষা জায়েদ আর সহকারী বিকাশ রাশেদের মতো ‘রত্ন’, সেই দল যে পদে পদে ভুল করে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে এটা তো একেবারেই সাধারণ অঙ্ক, সিম্পল বিষয়!

​গতকাল বিএনপি-জামায়াত তাদের তথাকথিত ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ দিয়ে যা করালো, তার খেসারত তাদের দীর্ঘমেয়াদে দিতে হবে এটা একদম লিখে রাখতে পারেন। দেশের সাংস্কৃতিক ‘সফট পাওয়ার’-এর ওপর আঘাত হেনে এরা নিজেদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করল।
​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) গঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যার পরিকল্পনাকারী আর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য। সেই সংস্থাকে নিজেদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষোভ মেটানোর মঞ্চ বানিয়ে ফেলা কি ট্রাইব্যুনালের প্রতি চরম অবমাননা নয়?
​২৮ জন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ভালো কথা! কিন্তু এই তালিকায় ফেরদৌস বা আসাদুজ্জামান নূরের মতো দু-একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পাশাপাশি আর কারা আছেন? পেশাদার শিল্পী, অভিনয়শিল্পী, গায়ক!
​আর নাটকের চূড়ান্ত রূপ হলো- যে হিরো আলম আর সাংবাদিক আনিস আলমগীর জুলাই আন্দোলনে সরাসরি রাজপথে ও সোশাল মিডিয়ায় জনতার পক্ষে লড়লেন, বিএনপি-জামায়াতের ভুঁইফোড় ফোরাম তাদের নামও বানিয়ে দিল গণহত্যার উসকানিদাতা!
​হাহাকার আর অন্ধত্ব কতটা চরম হলে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের নামই ট্রাইব্যুনালের আসামি তালিকায় তুলে দেওয়া হয়?
​অবশ্য এদের কাছে সংস্কৃতির ‘সফট পাওয়ার’ বোঝার আশা করাই ভুল। যে দলের ইতিহাসে সংস্কৃতি বলতে ছিল অশ্লীল আর সস্তা বিনোদন, তারা শিল্প-সাহিত্য আর সংস্কৃতির গুরুত্ব বুঝবে কীভাবে? বিশ্বের ইতিহাসে কোনো দল দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে স্থায়ী প্রতিপক্ষ বানিয়ে টিকতে পারেনি। বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের এভাবে নির্বিচারে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিএনপি পুরো সমাজের চোখে এখন একটি ‘সংস্কৃতিবিরোধী’ অপশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
​ভুলের পর ভুল করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা আর বালির বাঁধ তৈরি করা একই কথা। রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের মতো সংগঠনের মাধ্যমে এই নাটক সাজিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে আরো একবার বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো।
​প্রতিহিংসার রাজনীতি দিয়ে দল চালানো যায়, কিন্তু দেশ চালানো যায়না।

Tarek Hasan Biplob’s Post

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

​প্রতিহিংসাদিয়ে দল চালানো যায়, কিন্তু দেশ চালানো যায়না।

প্রকাশের সময় : ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

অনলাইন  বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

বিএনপি পথ হারিয়ে দিশেহারা। অবশ্য যে দলের নেতার তথ্য উপদেষ্টা কষা জায়েদ আর সহকারী বিকাশ রাশেদের মতো ‘রত্ন’, সেই দল যে পদে পদে ভুল করে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে এটা তো একেবারেই সাধারণ অঙ্ক, সিম্পল বিষয়!

​গতকাল বিএনপি-জামায়াত তাদের তথাকথিত ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ দিয়ে যা করালো, তার খেসারত তাদের দীর্ঘমেয়াদে দিতে হবে এটা একদম লিখে রাখতে পারেন। দেশের সাংস্কৃতিক ‘সফট পাওয়ার’-এর ওপর আঘাত হেনে এরা নিজেদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করল।
​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) গঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যার পরিকল্পনাকারী আর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য। সেই সংস্থাকে নিজেদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষোভ মেটানোর মঞ্চ বানিয়ে ফেলা কি ট্রাইব্যুনালের প্রতি চরম অবমাননা নয়?
​২৮ জন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ভালো কথা! কিন্তু এই তালিকায় ফেরদৌস বা আসাদুজ্জামান নূরের মতো দু-একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পাশাপাশি আর কারা আছেন? পেশাদার শিল্পী, অভিনয়শিল্পী, গায়ক!
​আর নাটকের চূড়ান্ত রূপ হলো- যে হিরো আলম আর সাংবাদিক আনিস আলমগীর জুলাই আন্দোলনে সরাসরি রাজপথে ও সোশাল মিডিয়ায় জনতার পক্ষে লড়লেন, বিএনপি-জামায়াতের ভুঁইফোড় ফোরাম তাদের নামও বানিয়ে দিল গণহত্যার উসকানিদাতা!
​হাহাকার আর অন্ধত্ব কতটা চরম হলে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের নামই ট্রাইব্যুনালের আসামি তালিকায় তুলে দেওয়া হয়?
​অবশ্য এদের কাছে সংস্কৃতির ‘সফট পাওয়ার’ বোঝার আশা করাই ভুল। যে দলের ইতিহাসে সংস্কৃতি বলতে ছিল অশ্লীল আর সস্তা বিনোদন, তারা শিল্প-সাহিত্য আর সংস্কৃতির গুরুত্ব বুঝবে কীভাবে? বিশ্বের ইতিহাসে কোনো দল দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে স্থায়ী প্রতিপক্ষ বানিয়ে টিকতে পারেনি। বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের এভাবে নির্বিচারে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিএনপি পুরো সমাজের চোখে এখন একটি ‘সংস্কৃতিবিরোধী’ অপশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
​ভুলের পর ভুল করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা আর বালির বাঁধ তৈরি করা একই কথা। রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের মতো সংগঠনের মাধ্যমে এই নাটক সাজিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে আরো একবার বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো।
​প্রতিহিংসার রাজনীতি দিয়ে দল চালানো যায়, কিন্তু দেশ চালানো যায়না।

Tarek Hasan Biplob’s Post

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।