, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার লোভে পিঠটান দেওয়ার গল্প মমতার : নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার মহাকাব্য শেখ হাসিনার

  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ পড়া হয়েছে
অনলাইন শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
রাজনীতির মঞ্চটা বড় অদ্ভুত। এখানে ক্ষমতার আলো যখন নেভে, তখনই চেনা যায় আসল রূপ। দুই বাংলার দুই নেত্রী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শেখ হাসিনা—দুজনেই নিজ নিজ ভূখণ্ডে দীর্ঘ সময় ধরে রাজত্ব করেছেন, তৈরি করেছেন নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল বা সংকটের মুহূর্তে তাদের দলের নেতাকর্মীদের আচরণ ইতিহাসের পাতায় দুটি ভিন্ন ভিন্ন গল্পের জন্ম দিয়েছে।
একদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, আর অন্যদিকে বাংলাদেশের মাটি। একপাশে ক্ষমতার লোভে পিঠটান দেওয়ার গল্প, অন্যপাশে বুক পেতে গুলি নিয়েও শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার মহাকাব্য।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আমরা দেখছি এক চরম বাস্তববাদী ও স্বার্থান্বেষী চিত্র। ক্ষমতার গদিতে সামান্য টান লাগতেই কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘তৃণমূল’ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
যে দলটিকে তিনি নিজের রক্ত-ঘামে গড়ে তুলেছিলেন, সেই দলেরই প্রথম সারির নেতারা, তার অতি বিশ্বস্ত সহচররা রাতারাতি ভোল বদলে ফেললো।
তাকে দল থেকে উচ্ছেদ করার চক্রান্ত করে, তার হাত ছেড়ে দিয়ে তারা অবলীলায় হাত মেলালো বিরোধী শিবির বিজেপির সঙ্গে।
কাল যে নেত্রীকে ‘দিদি’ বলে স্লোগান দিয়েছিল, আজ ক্ষমতার লোভে তাকেই একলা ফেলে তারা চলে গেল নতুন প্রভুর খোঁজে।
এই রাজনীতি আবেগের নয়, এই রাজনীতি স্রেফ হিসেব-নিকেশের। এখানে নেত্রীর প্রতি আনুগত্যের চেয়ে চেয়ারের মোহই বড়।
কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে চিত্রটা সম্পূর্ণ অন্যরকম, যা রাজনৈতিক ইতিহাসের সব সমীকরণকে স্তব্ধ করে দেয়।
২০২৪ সালের অভিশপ্ত আগস্টের পরের গল্প ক্ষমতার নয়, গল্পটা বুক ফাটা কান্নার, আর সেই কান্নাকে শক্তিতে রূপান্তর করার এক অবিনশ্বর জেদের।
৫ আগস্টের পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চলছে জেল, জুলুম, নির্মম অত্যাচার এবং অগণিত হত্যাযজ্ঞ। বাড়িঘর পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে, জীবন বাঁচাতে অনেককে ফেরারি হতে হয়েছে।
প্রতিদিন খবর আসে কোনো না কোনো কর্মীর লাশ নদী বা খালে ভেসে উঠেছে, কিংবা রিমান্ডের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কোনো ভাইয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলছে।
তখন অন্য কর্মীদের চোখ দিয়ে জল ঝরে ঠিকই, কিন্তু তাদের হাত দুটো মুঠো হয়ে যায় প্রতিজ্ঞায়। ভয় তাদের ছোঁয় না, তাদের কণ্ঠস্বর কাঁপে না।
বুক টান করে তারা স্লোগান দিয়ে যায় শেখ হাসিনার নামে। মৃত্যু বা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও এই কর্মীরা নতজানু হয় না। বুক চিরে রক্ত ঝরলেও তাদের মুখ থেকে শেষ স্লোগানটা হয় ❝জয় বাংলা❞।
এতসব ঝড়-ঝাপটা, রক্তপাত আর মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের চোখেমুখে ভয়ের চেয়ে বেশি খেলা করে অটুট প্রতিজ্ঞা। তারা তাদের ❝আপা❞-কে ভুলে যায়নি, তাকে পিঠ প্রদর্শন করেনি। এই ভরসা, বিশ্বাস কোনো জাগতিক লোভের নয়, এটা দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা এক আত্মিক বন্ধন।
শত অত্যাচার সহ্য করেও আওয়ামী লিগের তৃণমূল কর্মীরা আজ এক সুরে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—তারা তাদের নেত্রীকে, তাদের আপাকে সসম্মানে বাংলার মাটিতে ফিরিয়ে আনবেনই।
এই লড়াই শুধু টিকে থাকার নয়, এই লড়াই তাদের অস্তিত্বের প্রতীক, তাদের ভালোবাসার নেত্রীকে দেওয়া কথার লড়াই।
ঐদিকে পশ্চিমবঙ্গ দেখাচ্ছে ক্ষমতা চলে গেলে কিভাবে আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে দল ভাঙা যায়, নেত্রীকে একা ফেলে শত্রু শিবিরে যোগ দেওয়া যায়। আর বাংলাদেশ দেখাচ্ছে ক্ষমতা হারানোর পর, সব হারিয়েও কীভাবে নেত্রীর আদর্শকে বুকে আঁকড়ে ধরে মরতে জানা যায়।
একদিকে ক্ষমতার স্বার্থে দলত্যাগ আর বেইমানির গল্প, অন্যদিকে জীবন বাজি রেখে নেত্রীর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা আর একনিষ্ঠতার ইতিহাস।
রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু ইতিহাসের আদালত যখন বিচার করতে বসবে, তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের এই আত্মত্যাগ আর অটুট আনুগত্য পৃথিবীর যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য এক অনন্য ও আবেগময় উদাহরণ হয়ে থাকবে।(এখানে মমতা ব্যানার্জি কে সাপোর্ট করে পোস্ট টা দেওয়া হয়নি ,ভারতের রাজনীতি এরকম যখন যে সরকার থাকে নেতাগণ সেই দলে চেয়ার আর টাকার জন্য যোগ দেয় ।ভারতীয় রাজনীতিতে আদর্শ বলে কিছু নেই সব টাকা আর সার্থ)

Hammad Ali Johan Mollick’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন। মতামতঃ

জনপ্রিয়

ক্ষমতার লোভে পিঠটান দেওয়ার গল্প মমতার : নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার মহাকাব্য শেখ হাসিনার

প্রকাশের সময় : ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
অনলাইন শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
রাজনীতির মঞ্চটা বড় অদ্ভুত। এখানে ক্ষমতার আলো যখন নেভে, তখনই চেনা যায় আসল রূপ। দুই বাংলার দুই নেত্রী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শেখ হাসিনা—দুজনেই নিজ নিজ ভূখণ্ডে দীর্ঘ সময় ধরে রাজত্ব করেছেন, তৈরি করেছেন নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল বা সংকটের মুহূর্তে তাদের দলের নেতাকর্মীদের আচরণ ইতিহাসের পাতায় দুটি ভিন্ন ভিন্ন গল্পের জন্ম দিয়েছে।
একদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, আর অন্যদিকে বাংলাদেশের মাটি। একপাশে ক্ষমতার লোভে পিঠটান দেওয়ার গল্প, অন্যপাশে বুক পেতে গুলি নিয়েও শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার মহাকাব্য।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আমরা দেখছি এক চরম বাস্তববাদী ও স্বার্থান্বেষী চিত্র। ক্ষমতার গদিতে সামান্য টান লাগতেই কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘তৃণমূল’ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
যে দলটিকে তিনি নিজের রক্ত-ঘামে গড়ে তুলেছিলেন, সেই দলেরই প্রথম সারির নেতারা, তার অতি বিশ্বস্ত সহচররা রাতারাতি ভোল বদলে ফেললো।
তাকে দল থেকে উচ্ছেদ করার চক্রান্ত করে, তার হাত ছেড়ে দিয়ে তারা অবলীলায় হাত মেলালো বিরোধী শিবির বিজেপির সঙ্গে।
কাল যে নেত্রীকে ‘দিদি’ বলে স্লোগান দিয়েছিল, আজ ক্ষমতার লোভে তাকেই একলা ফেলে তারা চলে গেল নতুন প্রভুর খোঁজে।
এই রাজনীতি আবেগের নয়, এই রাজনীতি স্রেফ হিসেব-নিকেশের। এখানে নেত্রীর প্রতি আনুগত্যের চেয়ে চেয়ারের মোহই বড়।
কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে চিত্রটা সম্পূর্ণ অন্যরকম, যা রাজনৈতিক ইতিহাসের সব সমীকরণকে স্তব্ধ করে দেয়।
২০২৪ সালের অভিশপ্ত আগস্টের পরের গল্প ক্ষমতার নয়, গল্পটা বুক ফাটা কান্নার, আর সেই কান্নাকে শক্তিতে রূপান্তর করার এক অবিনশ্বর জেদের।
৫ আগস্টের পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চলছে জেল, জুলুম, নির্মম অত্যাচার এবং অগণিত হত্যাযজ্ঞ। বাড়িঘর পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে, জীবন বাঁচাতে অনেককে ফেরারি হতে হয়েছে।
প্রতিদিন খবর আসে কোনো না কোনো কর্মীর লাশ নদী বা খালে ভেসে উঠেছে, কিংবা রিমান্ডের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কোনো ভাইয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলছে।
তখন অন্য কর্মীদের চোখ দিয়ে জল ঝরে ঠিকই, কিন্তু তাদের হাত দুটো মুঠো হয়ে যায় প্রতিজ্ঞায়। ভয় তাদের ছোঁয় না, তাদের কণ্ঠস্বর কাঁপে না।
বুক টান করে তারা স্লোগান দিয়ে যায় শেখ হাসিনার নামে। মৃত্যু বা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও এই কর্মীরা নতজানু হয় না। বুক চিরে রক্ত ঝরলেও তাদের মুখ থেকে শেষ স্লোগানটা হয় ❝জয় বাংলা❞।
এতসব ঝড়-ঝাপটা, রক্তপাত আর মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের চোখেমুখে ভয়ের চেয়ে বেশি খেলা করে অটুট প্রতিজ্ঞা। তারা তাদের ❝আপা❞-কে ভুলে যায়নি, তাকে পিঠ প্রদর্শন করেনি। এই ভরসা, বিশ্বাস কোনো জাগতিক লোভের নয়, এটা দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা এক আত্মিক বন্ধন।
শত অত্যাচার সহ্য করেও আওয়ামী লিগের তৃণমূল কর্মীরা আজ এক সুরে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—তারা তাদের নেত্রীকে, তাদের আপাকে সসম্মানে বাংলার মাটিতে ফিরিয়ে আনবেনই।
এই লড়াই শুধু টিকে থাকার নয়, এই লড়াই তাদের অস্তিত্বের প্রতীক, তাদের ভালোবাসার নেত্রীকে দেওয়া কথার লড়াই।
ঐদিকে পশ্চিমবঙ্গ দেখাচ্ছে ক্ষমতা চলে গেলে কিভাবে আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে দল ভাঙা যায়, নেত্রীকে একা ফেলে শত্রু শিবিরে যোগ দেওয়া যায়। আর বাংলাদেশ দেখাচ্ছে ক্ষমতা হারানোর পর, সব হারিয়েও কীভাবে নেত্রীর আদর্শকে বুকে আঁকড়ে ধরে মরতে জানা যায়।
একদিকে ক্ষমতার স্বার্থে দলত্যাগ আর বেইমানির গল্প, অন্যদিকে জীবন বাজি রেখে নেত্রীর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা আর একনিষ্ঠতার ইতিহাস।
রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু ইতিহাসের আদালত যখন বিচার করতে বসবে, তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের এই আত্মত্যাগ আর অটুট আনুগত্য পৃথিবীর যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য এক অনন্য ও আবেগময় উদাহরণ হয়ে থাকবে।(এখানে মমতা ব্যানার্জি কে সাপোর্ট করে পোস্ট টা দেওয়া হয়নি ,ভারতের রাজনীতি এরকম যখন যে সরকার থাকে নেতাগণ সেই দলে চেয়ার আর টাকার জন্য যোগ দেয় ।ভারতীয় রাজনীতিতে আদর্শ বলে কিছু নেই সব টাকা আর সার্থ)

Hammad Ali Johan Mollick’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন। মতামতঃ