
·অনলাইন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
একাত্তরে নববধূ আবিরন বেওয়ার স্বামী হোসেন মুক্তিযুদ্ধে গেছেন, এই খবর পেয়ে তাঁদের বাড়িতে হা/ম/লা চালায় পা/কিস্তানি সে/নারা। এসময় বাড়ি থেকে পা/লানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সে/নাদের হাতে ধরা পড়েন আবিরন। তাঁকে ধরে কয়েকজন মিলে ধ/র্ষ/ণ করে ফে/লে রেখে যায় তারা।
এরপর আবিরনের জীবনে নেমে আসে আরেক দুঃ/সহ অধ্যায়। তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে আর বাড়িতে আশ্রয় দেননি। বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে যান তিনি। সেখানে মা কাছিরন (বাতাসি) বেওয়া মেয়েকে আশ্রয় দেন। কিন্তু মেয়েকে আশ্রয় দেওয়ার এই অপরাধে আবিরনের বাবা আজিমুদ্দিন তাঁর মা কাছিরনকে তা/লাক দেন।
এরপর কাছিরন বেওয়া মেয়েকে নিয়ে নিজের বাবা ইউসুফের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সেখানেও মা-মেয়ের আশ্রয় হয়নি। সে সময় আবিরনের নানি কাচুয়ানী তাঁদের নিজের কাছে রাখতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অন্যের বাড়ির পাশে ঝুপড়ি তুলে সেখানে বসবাস করতে থাকেন মা-মেয়ে।
পরে কাছিরন বেওয়ার বাবা মারা গেলে এবং আবিরনের নানার কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁরা সেই বাড়িতে আশ্রয় পান। এভাবেই জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আবিরন বেওয়া তাঁর জীবনের গল্প বলে আসছেন।
এখনও নিঃসন্তান আবিরন বেওয়া তাঁর মা কাছিরন বেওয়ার সঙ্গেই আছেন।
এমন যার জীবনের ট্রা/জেডি, শুনেছিলাম সেই আমিরনের নাকি মুক্তিযোদ্ধার সনদ হয়নি!
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কালে গ্রামে তাঁদের বাড়ি। আবিরনের স্বামীর বাড়ি ছিল রাজারহাট উপজেলার ফরকেরহাটে। তাঁর বাবার বাড়ি ছিল মুক্তারাম এবং নানার বাড়ি কালে। শুনেছি বর্তমানে মায়ের সঙ্গে কালে গ্রামেই থাকছেন তিনি।
একসময় কাছিরন বেওয়া জীর্ণ একটি ভাঙা টিনের ঝুপড়িতে থাকতেন। বছর কয়েক আগে জাপানপ্রবাসীদের সহায়তায় তাঁকে একটি ছোট্ট টিনের ঘর দেওয়া হয়। ঘর পাওয়ার পর কাছিরন বলেছিলেন,
“এখন তো আমার ম/রার সময়, ঘর দিয়া আমার আর কি হবে?”
ছবিতে বামে আবিরন বেওয়া এবং ডানে তাঁর মা কাছিরন বেওয়া।
আলোকচিত্রী: মোস্তফা হোসেইন/ বাদুছস
#bdcs #LiberationWar1971 #মুক্তিযুদ্ধ #বীরাঙ্গনা #আবিরনবেওয়া #itihaserkhojegiridhar #giridhardey #বাদুছস #গিরিধরদে #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর
বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।




















