, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

অসমাপ্ত এইসব বাক্যই আমাদের অসমাপ্ত জীবনের ইতিহাস।

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৩৪ পড়া হয়েছে

·অনলাইন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

কত কথা বলব বলে রেখে দিই—ভাবি, সময় হলে বলব। অথচ সময় আসে, শুধু সেই বলা আর হয়ে ওঠে না। তারপর নিজেকেই বোঝাই—সময় সব বদলে দেবে। মানুষ দূরে যাবে, স্মৃতি মলিন হবে, অভিমান তার অর্থ হারাবে; পুরোনো শূন্যতার ওপর একদিন নতুন কোনো জীবন জন্ম নেবে।
কিন্তু সময়ের কাজ কি সত্যিই সবকিছু মুছে দেওয়া?
সময় অনেক কিছু সরিয়ে নেয়, কিন্তু সবকিছু থেকে আমাদের মুক্ত করে না। কিছু স্মৃতি পুরোনো হয়, অথচ শেষ হয় না। কিছু মানুষের অনুপস্থিতি এত দীর্ঘ হয়ে ওঠে যে, একসময় সেই অনুপস্থিতিই এক ধরনের উপস্থিতি হয়ে আমাদের সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করে। আর কিছু কথা—যেগুলো ঠিক সময়ে বলা হয়নি—সময় পেরিয়ে গেলেও মরে না।
বলা কথার অন্তত একটি ভাগ্য আছে। তার উত্তর হতে পারে, প্রত্যাখ্যান হতে পারে, ক্ষমা কিংবা বিচ্ছেদ হতে পারে। কিন্তু না-বলা কথার কোনো ভাগ্য নেই। তাই তার মৃত্যুও নেই। সে থেকে যায়—সম্ভাবনা হয়ে, অনুশোচনা হয়ে, কখনো অকারণ মায়া হয়ে।
অসমাপ্ত এইসব বাক্যই আমাদের অসমাপ্ত জীবনের ইতিহাস।
শরীরের বয়স আমরা আয়নায় দেখি; মনের বয়স দেখার কোনো আয়না নেই। অথচ মনও বুড়িয়ে যায়—যা বলতে পারেনি তার ভারে, যা ভুলতে পারেনি তার স্মৃতিতে, আর যা কোনোদিন ঘটেনি অথচ ঘটতে পারত—তার অদ্ভুত শোকে।
এই ‘হতে পারত’-এরও এক ধরনের শোক আছে। কারণ মানুষ শুধু হারানো বাস্তবতার জন্য কাঁদে না; কখনো কখনো সে এমন এক জীবনের জন্যও শোক বহন করে, যে জীবনটি কোনোদিন ঘটেইনি।
তারপর কষ্টগুলো আর আলাদা করে চেনা যায় না। নদীর মতো এসে তারা একই সমুদ্রে মেশে। বাইরে থেকে মানুষটিকে স্বাভাবিকই দেখায়—সে কথা বলে, হাসে, কাজ করে, জীবন চালিয়ে যায়। শুধু তার ভেতরে নিঃশব্দে বেঁচে থাকে কয়েকটি না-বলা বাক্য, কয়েকটি না-ঘটা জীবন।
শেষ পর্যন্ত আমরা বোধহয় শুধু একটি জীবন বাঁচি না।
একটি জীবন বাঁচি পৃথিবীর সামনে,
আর অসংখ্য জীবন বাঁচি নিজের ভেতরে—যেগুলোর কোনো সাক্ষী থাকে না।
তারপর একদিন গল্প থেকে স্মৃতি হই,
স্মৃতি থেকে দীর্ঘশ্বাস,
দীর্ঘশ্বাস থেকে নিঃশ্বাস।
আর পৃথিবী কোনোদিন জানতেই পারে না—
একটি মানুষের একটি জীবনের ভেতর
কতগুলো জীবন অসমাপ্ত থেকে গিয়েছিল।
অন্তদর্শনের খসড়া ১০
স্নিগ্ধা রেজওয়ানা
২৫ শে অগাস্ট, ২০২৬
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

Rezwana Karim Snigdha’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

অসমাপ্ত এইসব বাক্যই আমাদের অসমাপ্ত জীবনের ইতিহাস।

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

·অনলাইন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

কত কথা বলব বলে রেখে দিই—ভাবি, সময় হলে বলব। অথচ সময় আসে, শুধু সেই বলা আর হয়ে ওঠে না। তারপর নিজেকেই বোঝাই—সময় সব বদলে দেবে। মানুষ দূরে যাবে, স্মৃতি মলিন হবে, অভিমান তার অর্থ হারাবে; পুরোনো শূন্যতার ওপর একদিন নতুন কোনো জীবন জন্ম নেবে।
কিন্তু সময়ের কাজ কি সত্যিই সবকিছু মুছে দেওয়া?
সময় অনেক কিছু সরিয়ে নেয়, কিন্তু সবকিছু থেকে আমাদের মুক্ত করে না। কিছু স্মৃতি পুরোনো হয়, অথচ শেষ হয় না। কিছু মানুষের অনুপস্থিতি এত দীর্ঘ হয়ে ওঠে যে, একসময় সেই অনুপস্থিতিই এক ধরনের উপস্থিতি হয়ে আমাদের সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করে। আর কিছু কথা—যেগুলো ঠিক সময়ে বলা হয়নি—সময় পেরিয়ে গেলেও মরে না।
বলা কথার অন্তত একটি ভাগ্য আছে। তার উত্তর হতে পারে, প্রত্যাখ্যান হতে পারে, ক্ষমা কিংবা বিচ্ছেদ হতে পারে। কিন্তু না-বলা কথার কোনো ভাগ্য নেই। তাই তার মৃত্যুও নেই। সে থেকে যায়—সম্ভাবনা হয়ে, অনুশোচনা হয়ে, কখনো অকারণ মায়া হয়ে।
অসমাপ্ত এইসব বাক্যই আমাদের অসমাপ্ত জীবনের ইতিহাস।
শরীরের বয়স আমরা আয়নায় দেখি; মনের বয়স দেখার কোনো আয়না নেই। অথচ মনও বুড়িয়ে যায়—যা বলতে পারেনি তার ভারে, যা ভুলতে পারেনি তার স্মৃতিতে, আর যা কোনোদিন ঘটেনি অথচ ঘটতে পারত—তার অদ্ভুত শোকে।
এই ‘হতে পারত’-এরও এক ধরনের শোক আছে। কারণ মানুষ শুধু হারানো বাস্তবতার জন্য কাঁদে না; কখনো কখনো সে এমন এক জীবনের জন্যও শোক বহন করে, যে জীবনটি কোনোদিন ঘটেইনি।
তারপর কষ্টগুলো আর আলাদা করে চেনা যায় না। নদীর মতো এসে তারা একই সমুদ্রে মেশে। বাইরে থেকে মানুষটিকে স্বাভাবিকই দেখায়—সে কথা বলে, হাসে, কাজ করে, জীবন চালিয়ে যায়। শুধু তার ভেতরে নিঃশব্দে বেঁচে থাকে কয়েকটি না-বলা বাক্য, কয়েকটি না-ঘটা জীবন।
শেষ পর্যন্ত আমরা বোধহয় শুধু একটি জীবন বাঁচি না।
একটি জীবন বাঁচি পৃথিবীর সামনে,
আর অসংখ্য জীবন বাঁচি নিজের ভেতরে—যেগুলোর কোনো সাক্ষী থাকে না।
তারপর একদিন গল্প থেকে স্মৃতি হই,
স্মৃতি থেকে দীর্ঘশ্বাস,
দীর্ঘশ্বাস থেকে নিঃশ্বাস।
আর পৃথিবী কোনোদিন জানতেই পারে না—
একটি মানুষের একটি জীবনের ভেতর
কতগুলো জীবন অসমাপ্ত থেকে গিয়েছিল।
অন্তদর্শনের খসড়া ১০
স্নিগ্ধা রেজওয়ানা
২৫ শে অগাস্ট, ২০২৬
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

Rezwana Karim Snigdha’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।