
অনলাইন শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
মিডিয়া ওয়াচ
অন্তর্বর্তী সরকারের আরও একটা বাটপারি প্রকল্প
আজ সকালে অনলাইন পত্রপত্রিকা ঘাটতে ঘাটতে প্রথম আলোর একটা খবর দেখলাম। শিরোনাম ছিল ‘নাগরিক সেবা কেন্দ্র–অন্তর্বর্তী সরকার বলেছিল ‘যুগান্তকারী’ উদ্যোগ, এখন ঝুলছে তালা। রিপোর্টের লিংক কমেন্টে।
রিপোর্টটা পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিল আমাদের একদার শ্রদ্ধেয় মুহাম্মদ ইউনুসকে দেশের অধিকাংশ মানুষ কেন এখন বিশ্ব বাটপাড় বা বাটপাড় লরিয়েট বলে। আপনাদের হয়তো স্মরণ আছে ২০২৪ সালে ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি জাতিকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল– আমরা ছোট মাঠে খেলিনা, আমরা বড় মাঠের প্লেয়ার; আমরা কারো কাছে যাব না, সবাই আমাদের কাছে আসবে; সারা বিশ্ব এখন আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে; দেশে বিনিয়োগের বন্যা বয়ে যাবে; আমার কাছে বড় বড় রাষ্ট্র নেতারা ফোন করে বলছেন কত লোক পাঠাতে পারবে, আমরা সবাইকে নেব ইত্যাদি।
সেগুলো যে ছিল সবই ভাঁওতাবাজি এবং কথার ফুলঝুরি তা আমরা কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলাম। এরপর দেশের মধ্যে তিনি বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের কথা ফলাও করে প্রচার করে দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এর ফলে দেশের মানুষ একটা বিরাট পরিবর্তন দেখতে পারবে।
এই উদ্যোগের মধ্যে একটা ছিল নাগরিক সেবা কেন্দ্র চালু। ২০২৫ সালে, অর্থাৎ গত বছর ২৬ মে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস এটির উদ্বোধন করে বলেছিলেন, ‘দালাল চক্রের দৌরাত্ম কমাতে; নানাবিধ হয়রানি রোধে ও ভোগান্তিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে’।
এই প্রকল্পের মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আইসিটি বিশেষজ্ঞ ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘শূন্য বাজেটে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করেই সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব’। প্রথম আলো রিপোর্টার তার সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তৈয়ব সাহেবকে পাওয়া যায়নি। তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ এ বছর নির্বাচনের চার দিন পরই, দেশ ছেড়ে চলে যান।
প্রথম আলো রিপোর্ট বলছে, প্রকল্পটি উদ্বোধনের পরপরই কয়েক মাসের মধ্যেই এটা বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা শহরের ছটি জায়গায় এই পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল। এজন্য বিভিন্ন সরকারি অফিসের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু যে উদ্যোক্তারা এগুলো পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন কোনরকম সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে কিছুদিনের মধ্যেই তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় নাগরিকরাও আর সেই কেন্দ্রগুলোতে যেতেন না। এখন ছয়টি কেন্দ্রই প্রায় তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।
মোহাম্মদপুর কেন্দ্রের একজন উদ্যোক্তা প্রথম আলোকে বলেন, সরকার প্রতিশ্রুত সুযোগ-সুবিধা, যেমন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা সহ কোন কিছুই তাদের দেওয়া হয়নি। শুধু কয়েকটা টেবিল চেয়ার ছাড়া। তারা নিজেদের ল্যাপটপ এনে কাজ শুরু করলেও কাঙ্খিত সেবাগুলো, যেমন জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট, এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত কাজ, পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন ইত্যাদি কোন কিছুই তারা দিতে পারেনি। প্রকৃত সেবা না পেয়ে সেবা গ্রহীতারাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে উদ্যোক্তার আর্থিক ক্ষতি হয় এবং কিছুদিন পরই তিনি ওই কেন্দ্র ত্যাগ করে চলে যান।
এ প্রসঙ্গে আপনাদের স্মরণ করিয়ে দেই যে, ইউনুস খুব গর্ব করে বলেছিলেন, পাসপোর্ট পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং তাদেরকে পাসপোর্ট অফিসে যেয়ে আর হয়রানীর সম্মুখীন হতে হবে না। তারা ঘরে বসেই পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
বাস্তবে এই হয়রানির কোন উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হয়েছে।
আজকে রিপোর্টটা পড়ার পর বারবার মনে হচ্ছিল এই বাটপার লরিয়েট দিনের পর দিন শুধু মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের এবং তার অনুগতদের স্বার্থ উদ্ধার করা। এদের মধ্যে ছিলেন উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় অনেক সহকারী, বিশেষ সহকারি যাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ জনের কাছাকাছি ছিল। এদের অধিকাংশের কাজ ছিল শুধুমাত্র ঘন ঘন বিদেশ যাওয়া এবং এসে নানা কল্পকাহিনী দেশবাসীকে শোনানো। এদের কারো কথা এখন আর আমরা শুনতে পাই না। অনেকে চলে গেছেন আর যারা দেশে আছেন তারাও হয়তো চুপচাপ আছেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই বাটপারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা বর্তমান তারেক রহমান সরকার নেয়নি। অনেক জায়গা থেকে দাবি করা হয়েছিল তার আমলের সমস্ত কার্যকলাপের উপর একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। এদের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ আছেন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নির্বিকার। উল্টো ইউনূসকে তিনি নানাভাবে প্রটেকশন দিয়ে চলেছেন। আমি প্রায়ই ভাবি যে এ দেশটা কি লুটেরাদের স্বর্গ রাজ্য! একেক জন ক্ষমতায় আসবে, আর লুটপাট করে চলে যাবে; তার কিছু হবে না। ইউনুস সহ তার সমস্ত পরিষদ বর্গের পিছনে রাষ্ট্রের কত টাকা খরচ হয়েছে এটা জানার অধিকার তো আমার মত প্রতিটি নাগরিকের আছে। কারণ এটাতো ট্যাক্সপেয়ারের টাকা। এ সরকার আসার পর আবারো প্রমাণ হচ্ছে জবাবদিহিতা বলে কোন জিনিস এ দেশে নেই।
Arshad Mahmud’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।




















