, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ চুক্তি : ৯৭ শতাংশ পণ্য পাবে শুল্ক সুবিধা

  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ১৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬,
এ চুক্তির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই ধরনের সুবিধার আওতায় আসবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্যধর্মী চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, সিইপিএ কার্যকর হলে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাত পণ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্ক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ। এমন একটি বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন এবং এজন্য বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সিইপিএসহ এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। টেক্সটাইল খাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের বহুমুখীকরণের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই দেশকেই রপ্তানি ও আমদানির পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।

ইয়ো হান-কু আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও শিল্প সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।

 

জনপ্রিয়

বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ চুক্তি : ৯৭ শতাংশ পণ্য পাবে শুল্ক সুবিধা

প্রকাশের সময় : ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬,
এ চুক্তির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই ধরনের সুবিধার আওতায় আসবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্যধর্মী চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, সিইপিএ কার্যকর হলে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাত পণ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্ক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ। এমন একটি বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন এবং এজন্য বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সিইপিএসহ এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। টেক্সটাইল খাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের বহুমুখীকরণের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই দেশকেই রপ্তানি ও আমদানির পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।

ইয়ো হান-কু আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও শিল্প সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।