, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী

  • প্রকাশের সময় : ১৭ ঘন্টা আগে
  • ২০ পড়া হয়েছে

·অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য চিত্রনায়িকা, পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী-র জীবন ও কর্মের আদ্যোপান্ত ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
​ব্যক্তিগত পরিচিতি ও জন্মস্থান
​পূর্ণ নাম: মিনা পাল (পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে নাম রাখা হয় ‘কবরী সারোয়ার’ এবং জীবনের শেষভাগে সারাহ বেগম কবরী)।
​ডাকনাম: মিনা।
​জন্মতারিখ: ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই।
​জন্মস্থান: ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) বোয়ালিয়া, চট্টগ্রাম জেলা।
​পিতা-মাতা: পিতা শ্রী কৃষ্ণ দাস পাল এবং মাতা লাবণ্য প্রভা পাল।
​বাসস্থান ও ঠিকানা
​কবরীর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বোয়ালিয়ায়। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় (যেমন: গুলশান, উত্তরা) বসবাস করেছেন।
​শিক্ষাজীবন
​কবরী তার শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। তিনি চট্টগ্রামের স্থানীয় বিদ্যালয় থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত অল্প বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজের লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে একজন মননশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
​কর্মজীবন (চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি)
​চলচ্চিত্রের শুরু: মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অভিষেক ঘটে। এই ছবিটি তাঁর জীবনে দারুণ সাফল্য এনে দেয়।
​সুপরিচিত ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র: তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে সাত ভাই চম্পা, অরুণ বরুণ কিরণমালা, তিতাস একটি নদীর নাম, রংসুরা, সুজন সখী, নীল আকাশের নিচে, অবুঝ মন, সারেং বউ ইত্যাদি।
​’মিষ্টি মেয়ে’ উপাধি: বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের এই অভিনেত্রীকে দর্শকরা ভালোবেসে ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে উপশোভিত করেছিলেন। তাঁর সাবলীল অভিনয় ও মিষ্টি হাসি দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিল।
​পরিচালনা: অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সফলভাবে চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। ২০০৬ সালে তাঁর প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আয়না’ মুক্তি পায়।
​রাজনীতি ও সমাজসেবা: ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
​সাহিত্য ও পুরস্কার
​লেখালেখির জগতেও তাঁর পদচারণা ছিল। তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতি টুকু থাক’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
​বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে তিনি একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা লাভ করেন।
​জীবনাবসান
​২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকাময় করোনা মহামারীর সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এই বরেণ্য অভিনেত্রী মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান, কে জৈন কিংবা কে ৪২০০টি ধর্ম্বাবলম্বীর একটি – এটি আমি জানতে চাইনি, চাই না কখনো।
ধর্মান্তরিত হতে হতে পৃথিবীতে আজ ৪২০০টি ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য চিত্রনায়িকা, পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী
আঞ্জুমান আরা খান কলি
𝒦𝑜𝓁𝒾 | কলি

কলি বিবি’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী

প্রকাশের সময় : ১৭ ঘন্টা আগে

·অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য চিত্রনায়িকা, পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী-র জীবন ও কর্মের আদ্যোপান্ত ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
​ব্যক্তিগত পরিচিতি ও জন্মস্থান
​পূর্ণ নাম: মিনা পাল (পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে নাম রাখা হয় ‘কবরী সারোয়ার’ এবং জীবনের শেষভাগে সারাহ বেগম কবরী)।
​ডাকনাম: মিনা।
​জন্মতারিখ: ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই।
​জন্মস্থান: ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) বোয়ালিয়া, চট্টগ্রাম জেলা।
​পিতা-মাতা: পিতা শ্রী কৃষ্ণ দাস পাল এবং মাতা লাবণ্য প্রভা পাল।
​বাসস্থান ও ঠিকানা
​কবরীর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বোয়ালিয়ায়। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় (যেমন: গুলশান, উত্তরা) বসবাস করেছেন।
​শিক্ষাজীবন
​কবরী তার শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। তিনি চট্টগ্রামের স্থানীয় বিদ্যালয় থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত অল্প বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজের লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে একজন মননশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
​কর্মজীবন (চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি)
​চলচ্চিত্রের শুরু: মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অভিষেক ঘটে। এই ছবিটি তাঁর জীবনে দারুণ সাফল্য এনে দেয়।
​সুপরিচিত ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র: তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে সাত ভাই চম্পা, অরুণ বরুণ কিরণমালা, তিতাস একটি নদীর নাম, রংসুরা, সুজন সখী, নীল আকাশের নিচে, অবুঝ মন, সারেং বউ ইত্যাদি।
​’মিষ্টি মেয়ে’ উপাধি: বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের এই অভিনেত্রীকে দর্শকরা ভালোবেসে ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে উপশোভিত করেছিলেন। তাঁর সাবলীল অভিনয় ও মিষ্টি হাসি দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিল।
​পরিচালনা: অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সফলভাবে চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। ২০০৬ সালে তাঁর প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আয়না’ মুক্তি পায়।
​রাজনীতি ও সমাজসেবা: ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
​সাহিত্য ও পুরস্কার
​লেখালেখির জগতেও তাঁর পদচারণা ছিল। তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতি টুকু থাক’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
​বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে তিনি একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা লাভ করেন।
​জীবনাবসান
​২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকাময় করোনা মহামারীর সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এই বরেণ্য অভিনেত্রী মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান, কে জৈন কিংবা কে ৪২০০টি ধর্ম্বাবলম্বীর একটি – এটি আমি জানতে চাইনি, চাই না কখনো।
ধর্মান্তরিত হতে হতে পৃথিবীতে আজ ৪২০০টি ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য চিত্রনায়িকা, পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী
আঞ্জুমান আরা খান কলি
𝒦𝑜𝓁𝒾 | কলি

কলি বিবি’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।