, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“সিটিং সেক্রেটারিকে গ্রেফতার করা যাবে না:দুদক চেয়ারম্যান!

  • প্রকাশের সময় : ১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ২৬ পড়া হয়েছে

অনলাইন ১৭ জুলাই ২০২৬

“সিটিং সেক্রেটারিকে গ্রেফতার করা যাবে না, খুব বিপ্লবী হয়ে গেছো?”—আইনি সুরক্ষার আড়ালে যখন চোর পাহারা দেয় স্বয়ং দুদক চেয়ারম্যান!
রীতিমতো গায়ের পশম খাড়া হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা! আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক ডিজি মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টটি প্রমাণ করে দিল, আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাওয়া হয়েছে এবং কীভাবে আমলানির্ভর দুদক চোরদের আস্তানা পাহারা দিয়েছে।
ঘটনা ২০১৮ সালের। দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান তখন তুঙ্গে। একে একে ৬২ জন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
ঠিক তখনই মুনীর চৌধুরীর ফোনে এক বজ্রাঘাতের মতো ক্ষুদে বার্তা: “স্যার, সচিবকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছি। অবশিষ্ট ৭০ লাখ টাকা দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করবে।” কোটি টাকার ঘুষের সরাসরি প্রমাণ!
আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক রেড অ্যালার্ট জারি করে অভিযানের সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, তখনই হাজির হলেন স্বয়ং দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ!
লাল চোখ উঁচিয়ে ধমকের সুরে বললেন, “Sitting Secretary (দায়িত্বরত সচিব) কে গ্রেফতার করা যাবে না। খুব বিপ্লবী হয়ে গেছো?”
ভাবা যায়? যে প্রতিষ্ঠানের কাজ চোর ধরা, তার চেয়ারম্যানের প্রধান মাথাব্যথা চোরের “সচিব” পদমর্যাদা নিয়ে!
দেশের আইনের চোখে সবাই সমান হলেও, দুদকের কাছে আমলারা ছিলেন স্পর্শাতীত দেবতা। শুধু অভিযান আটকেই ক্ষান্ত হননি তৎকালীন চেয়ারম্যান, উল্টো মুনীর চৌধুরীকে ভয় দেখাতে শুরু করেন।
—”প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে, তোমার দেলোয়ারের মতো পরিণতি হবে।” এই ছিল আমাদের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরের ‘শাহী ফরমান’!
সততার পুরস্কার হিসেবে শেষমেশ মুনীর চৌধুরীকে দুদক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে পাঠিয়ে এই আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেটকে রক্ষা করা হয়েছিল।
আওয়ামী সরকারের পতনের পর সত্য উন্মোচিত হয়েছে। সেই ‘স্পর্শাতীত’ ত্রাণ সচিব শাহ কামালের বাসা থেকে পরবর্তী সময়ে বস্তা বস্তা কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।
সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে শাহ কামালকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ। কি ভয়ঙ্কর তথ্য!
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এই দুর্নীতিবাজ আওয়ামী ঘনিষ্ঠ সচিবকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে নিজেও লাভবান হয়েছেন।
কিন্তু মুনীর চৌধুরীর পোস্টের সবচেয়ে ভয়াবহ অংশটি দেখুন—এই চোর সচিব কিসের টাকা খেয়েছিল? দেশের দরিদ্র মানুষের ত্রাণসামগ্রীর ঢেউটিনের ‘Thickness’ বা পুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে!
যে টিনের পুরুত্ব কমিয়ে দিলে তা কাগজের চালায় পরিণত হয়, ঝড়-বৃষ্টিতে দরিদ্র মানুষের মাথার ছাদ উড়ে যায়—সেই গরিবের রক্ত চোষা টাকা আমলারা পকেটে পুরেছে আর দুদক চেয়ারম্যান ফাইল আটকে তাদের বাঁচিয়েছে!
আইন নিজের গতিতে চললে এই শাহ কামাল ২০১৮ সালেই জেলের ভাত খেত। কিন্তু ইকবাল মাহমুদের মতো দালালদের কারণে তারা আরও ৬ বছর বুক ফুলিয়ে দুর্নীতি করার সুযোগ পেয়েছে।
এই আমলাতান্ত্রিক মাফিয়া চক্র এবং তাদের দোসর সাবেক দুদক কর্মকর্তাদের শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, এদের প্রকাশ্য আদালতে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গরিবের হাহাকার আর কতকাল এভাবে ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকবে?
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

“সিটিং সেক্রেটারিকে গ্রেফতার করা যাবে না:দুদক চেয়ারম্যান!

প্রকাশের সময় : ১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

অনলাইন ১৭ জুলাই ২০২৬

“সিটিং সেক্রেটারিকে গ্রেফতার করা যাবে না, খুব বিপ্লবী হয়ে গেছো?”—আইনি সুরক্ষার আড়ালে যখন চোর পাহারা দেয় স্বয়ং দুদক চেয়ারম্যান!
রীতিমতো গায়ের পশম খাড়া হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা! আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক ডিজি মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টটি প্রমাণ করে দিল, আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাওয়া হয়েছে এবং কীভাবে আমলানির্ভর দুদক চোরদের আস্তানা পাহারা দিয়েছে।
ঘটনা ২০১৮ সালের। দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান তখন তুঙ্গে। একে একে ৬২ জন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
ঠিক তখনই মুনীর চৌধুরীর ফোনে এক বজ্রাঘাতের মতো ক্ষুদে বার্তা: “স্যার, সচিবকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছি। অবশিষ্ট ৭০ লাখ টাকা দিলে ফাইলে স্বাক্ষর করবে।” কোটি টাকার ঘুষের সরাসরি প্রমাণ!
আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক রেড অ্যালার্ট জারি করে অভিযানের সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, তখনই হাজির হলেন স্বয়ং দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ!
লাল চোখ উঁচিয়ে ধমকের সুরে বললেন, “Sitting Secretary (দায়িত্বরত সচিব) কে গ্রেফতার করা যাবে না। খুব বিপ্লবী হয়ে গেছো?”
ভাবা যায়? যে প্রতিষ্ঠানের কাজ চোর ধরা, তার চেয়ারম্যানের প্রধান মাথাব্যথা চোরের “সচিব” পদমর্যাদা নিয়ে!
দেশের আইনের চোখে সবাই সমান হলেও, দুদকের কাছে আমলারা ছিলেন স্পর্শাতীত দেবতা। শুধু অভিযান আটকেই ক্ষান্ত হননি তৎকালীন চেয়ারম্যান, উল্টো মুনীর চৌধুরীকে ভয় দেখাতে শুরু করেন।
—”প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে, তোমার দেলোয়ারের মতো পরিণতি হবে।” এই ছিল আমাদের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরের ‘শাহী ফরমান’!
সততার পুরস্কার হিসেবে শেষমেশ মুনীর চৌধুরীকে দুদক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে পাঠিয়ে এই আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেটকে রক্ষা করা হয়েছিল।
আওয়ামী সরকারের পতনের পর সত্য উন্মোচিত হয়েছে। সেই ‘স্পর্শাতীত’ ত্রাণ সচিব শাহ কামালের বাসা থেকে পরবর্তী সময়ে বস্তা বস্তা কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।
সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে শাহ কামালকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ। কি ভয়ঙ্কর তথ্য!
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এই দুর্নীতিবাজ আওয়ামী ঘনিষ্ঠ সচিবকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে নিজেও লাভবান হয়েছেন।
কিন্তু মুনীর চৌধুরীর পোস্টের সবচেয়ে ভয়াবহ অংশটি দেখুন—এই চোর সচিব কিসের টাকা খেয়েছিল? দেশের দরিদ্র মানুষের ত্রাণসামগ্রীর ঢেউটিনের ‘Thickness’ বা পুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে!
যে টিনের পুরুত্ব কমিয়ে দিলে তা কাগজের চালায় পরিণত হয়, ঝড়-বৃষ্টিতে দরিদ্র মানুষের মাথার ছাদ উড়ে যায়—সেই গরিবের রক্ত চোষা টাকা আমলারা পকেটে পুরেছে আর দুদক চেয়ারম্যান ফাইল আটকে তাদের বাঁচিয়েছে!
আইন নিজের গতিতে চললে এই শাহ কামাল ২০১৮ সালেই জেলের ভাত খেত। কিন্তু ইকবাল মাহমুদের মতো দালালদের কারণে তারা আরও ৬ বছর বুক ফুলিয়ে দুর্নীতি করার সুযোগ পেয়েছে।
এই আমলাতান্ত্রিক মাফিয়া চক্র এবং তাদের দোসর সাবেক দুদক কর্মকর্তাদের শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, এদের প্রকাশ্য আদালতে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গরিবের হাহাকার আর কতকাল এভাবে ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকবে?
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।