
অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
আওয়ামী লীগ কেন দল গোছাতে পারছে না? সমস্যাটা কি সাংগঠনিক কাঠামোতেই?
বাংলাদেশে বিভাগ ৮টি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও ৮ জন। কিন্তু এই আটজন কোথাকার মানুষ এবং কোন বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছিলেন, একবার পাশাপাশি দেখুন:
এখানেই আমার প্রশ্ন।
ঢাকার দায়িত্বে অরিজিনাল ঢাকার নেতা কোথায়?
চট্টগ্রামের দায়িত্বে চট্টগ্রামের মাটি থেকে উঠে আসা, সারা চট্টগ্রামে পরিচিত নেতা কোথায়?
রংপুরের দায়িত্বে রংপুর অঞ্চলের পরীক্ষিত নেতা কোথায়?
একজন কেন্দ্রীয় নেতা যত বড় বা যোগ্যই হোন না কেন, একটি অঞ্চলে সংগঠন শক্তিশালী করতে সেই এলাকার রাজনৈতিক ইতিহাস, মানুষের মনস্তত্ত্ব, তৃণমূলের কর্মী, স্থানীয় কোন্দল এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা জানা বিরাট শক্তি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ তৈরি হয়েছিল মাটি ও মানুষের রাজনীতি দিয়ে। নেতার পরিচয় শুধু কেন্দ্রীয় পদে ছিল না, মাঠের কর্মীর কাছেও ছিল।
তাহলে আজ কেন বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় সেই অঞ্চলের মাটি থেকে উঠে আসা, ব্যাপক পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে না?
আমি বলছি না অন্য জেলার একজন নেতা অন্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অবশ্যই পারবেন। কিন্তু আজ যখন দলকে আবার তৃণমূল থেকে সংগঠিত করার প্রশ্ন এসেছে, তখন স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও শিকড়ের রাজনীতিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
আট বিভাগে আটজন সাংগঠনিক সম্পাদক থাকলেই হবে না। দরকার এমন আটজন শক্তিশালী সংগঠক, যাদের নিজ নিজ অঞ্চলের কর্মীরা চেনে, বিশ্বাস করে এবং যাদের একটি ডাকে তৃণমূল সংগঠিত হতে পারে।
দল গোছাতে হলে আগে সংগঠনের এই বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে।
আর এখানেই আরও একটি কঠিন বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা দরকার।
উপরে যে আটজন সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলে সেই ধরনের নিজস্ব শিকড়, সর্বস্তরের পরিচিতি ও স্থানীয় সাংগঠনিক প্রভাব আছে কি না, সেটাও প্রশ্নের বিষয়। একজন নেতাকে এক অঞ্চল থেকে তুলে এনে আরেক অঞ্চলের মাথায় বসিয়ে দিলেই সেই অঞ্চলের কর্মীরা তাঁকে আপন করে নেবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাজনীতির নিজস্ব একটি আঞ্চলিক চরিত্র আছে। এখানকার রাজনৈতিক সম্পর্ক, কর্মীদের আবেগ, পুরোনো নেতৃত্ব, স্থানীয় বলয় এবং সাংগঠনিক সমীকরণ বাইরে থেকে দেখলে পুরোটা বোঝা কঠিন।
ঢাকার মাথায় এমন কাউকে বসানো হলো, যার রাজনৈতিক শিকড় ঢাকায় নয়। চট্টগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হলো এমন কাউকে, যার নিজের রাজনৈতিক উত্থান চট্টগ্রামের মাটি থেকে নয়। তাহলে প্রশ্ন করতেই হয়, ঢাকার নিজস্ব নেতৃত্ব কোথায়? চট্টগ্রামের নিজস্ব নেতৃত্ব কোথায়?
রাজনীতিতে শুধু কেন্দ্রের পরিচয় দিয়ে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা যায় না। বাইরে থেকে কাউকে এনে দায়িত্ব দিলে স্থানীয় কর্মীদের কাছে তিনি অনেক সময় ‘ভাড়াটিয়া নেতা’ বা বাইরের লোক হিসেবেই বিবেচিত হতে পারেন। আর স্থানীয় নেতৃত্বকে বারবার বাইপাস করা হলে ক্ষোভ, দূরত্ব ও সাংগঠনিক বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্ব যারা বোঝেন না, তাদের পক্ষে শুধু কেন্দ্রীয় পদ-পদবি দিয়ে এই দুই অঞ্চলের জটিল সাংগঠনিক বাস্তবতা সামলানো কঠিন।
স্থানীয় নেতৃত্বকে বাইপাস করে বাইরে থেকে নেতা এনে মাথায় বসিয়ে দিলে কাগজে সংগঠন চালানো যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে সংগঠন গড়া যায় না।
আওয়ামী লীগকে যদি সত্যিই আবার শক্তিশালী করতে হয়, তাহলে প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি, স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ঢাকার নেতৃত্বে ঢাকার মাটির গন্ধ থাকতে হবে।
চট্টগ্রামের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের মাটির গন্ধ থাকতে হবে।
প্রতিটি বিভাগের নেতৃত্বে সেই অঞ্চলের কর্মীদের আস্থা থাকতে হবে।
তবেই কেন্দ্র আর তৃণমূলের দূরত্ব কমবে। তবেই দল সত্যিকার অর্থে আবার গোছানো সম্ভব হবে।
Sayed Mahmood Rashad Haider’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















