
অনলাইন মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আর দেরি না করেই রান্না করলাম। খাওয়া শেষে শরীরটা ক্লান্ত হয়ে এলো। একটা ঘুম দিলাম। অসংখ্য দুঃস্বপ্ন দেখলাম। বহুদিন পর এমন অসময়ের ঘুমের সাক্ষী হলাম আমি। রাত দশটা পর্যন্ত একটানা ঘুমালাম।ঘুম থেকে উঠে লিখতে বসলাম –
আমার এসব উদ্ভট লেখা হয়তো কেউ পড়বে না।আমার লেখার হুক ছিলো – আর সময় নষ্ট না করা। অর্থাৎ সারাদিন যেমনি কাটুক, বাসায় ফিরে আমি খেয়েছি।এই লেখায় কোন সাসপেন্স নেই। কিন্তু আমার দেখা দুঃস্বপ্ন এই লেখার সাসপেন্স হতে পারে। এখানে অসংখ্য জীবন্ত চরিত্র আছে।এই লেখাটির ক্লাইমেক্স আমাকে কোন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে পারেনি।
সন্ধ্যার পর আমি কয়েকটি বিষয় নিয়ে খুব গভীরভাবে ভেবেছি।
গ্রীনল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে হাজার হাজার তিমির আগমন ।
শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের ঐতিহাসিক বিরোধ ।
বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর আরেক বদ্বীপ নেদারল্যান্ডস যেভাবে আজকে সারাবিশ্বের অন্যতম সুখী মানুষ ও শান্তির দেশ।
এসব ভাবতে ভাবতে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের একটা পোস্টে আমার চোখ পড়লো।সেটি হলো –
‘ প্রোফাইল পিকচার লাল হোক , প্রোফাইল পিকচার কালো হোক , বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাংলাদেশের সকল তরুণদের নিয়েই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপহার দেয়া লাল সবুজের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”
অবশ্যই এই মুহূর্তে সাদ্দামের এই বক্তব্য বুদ্ধিদীপ্ত ও বিচক্ষণতার পরিচয়।তার এই বক্তব্য ঘিরে কেউ শেখ মুজিবুর রহমানের রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমার উদাহরণ ও এর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। মজার বিষয় হচ্ছে – এই সব আহম্মকদের অধিকাংশ শেখ মুজিবুর রহমানের রাজাকারদের ” সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা ” পড়েই দেখেনি। প্রথমে ওরা বঙ্গবন্ধুর রাজাকারদের ” সাধারণ ক্ষমা ” , তৎকালীন পরিস্থিতি ও পরবর্তী অধ্যায় পড়ে আসুক। এর এক সেকেন্ড আগেও এদের সাথে বিতর্কের নূন্যতম ইচ্ছে আমার নেই।
সাদ্দাম যখন ছাত্রলীগের সভাপতি হয় তখন আমি দেশের বাইরে। খুব সুন্দর করে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। ২০২৪ সালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মায়ের মৃত্যুতে সাদ্দামের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। ভীষণ ব্যস্ত একজন মানুষ সেই মুহূর্তেও আমাকে খানিকটা সময় দিয়েছিল।এটা তার ভাল মানসিকতার উদাহরণ। কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতারা ছাত্রলীগের মত সংগঠনের দায়িত্ব পালনে কতটুকু যোগ্যতা , দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ।
কালো ও লাল এই দুটো শব্দ একটা দেশের মানুষের দুটো ভাগ করে দেওয়ার চিহ্ন। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর একটি দেশের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।এই বিভক্তি কিন্তু আজকের নয়।এর ইতিহাস বেশ পুরোনো। ঠিক তেমনি হঠাৎ করেই একদিনে গ্রীনল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে তিমি মাছ ডুকেনি। ২০০৬ সাল থেকে ঢুকতে ঢুকতে আজ হাজার হাজার তিমিতে পরিণত হয়েছে ২০২৬ সালে। এটার মূল কারণ হচ্ছে ” জলবায়ু পরিবর্তন” । খাদ্যের জন্য দলে দলে তিমি গ্রীনল্যান্ডের দিকে যাত্রা করেছে।তাই দেশের বিভক্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ গঠনে কাজে লাগানো এটাও একটি দূরদর্শী চিন্তার ফসল।এই চিন্তা সাদ্দামের মাথা থেকে নয় , বরং এই সুন্দর দর্শনের স্রষ্টা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা।সাদ্দামরা তাকে অনুসরণ করছেন মাত্র।
শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি ও স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এই দুইভাগে বিভক্ত।শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী একটি যুদ্ধ হচ্ছে কারবালার ঐতিহাসিক যুদ্ধ। সম্ভবত ৭২ জনকে সেখানে হত্যা করা হয়েছে। এই শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের বিরোধের সুত্রপাত হচ্ছে , রাসূলের মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচন নিয়ে। অর্থাৎ ক্ষমতার গদি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সারাবিশ্বের মুসলমান শিয়া ও সুন্নি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। শিয়া ও সুন্নি এই বিরোধকে কাজে লাগিয়েছিলো শিয়া থেকে বের হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করা একদল খারেজী মুসলমান।এই খারেজী মুসলমান হচ্ছে আজকের জামায়াত শিবির।
ইতিহাসে এদের কোন ক্ষমা নেই , হবে না। সবকিছুর ডিটেইলস বলার সময় এখনও আসেনি।
বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর আরেক বদ্বীপ হচ্ছে নেদারল্যান্ডস। ওদের দেশে জিয়াউর রহমান , খন্দকার মোশতাক ও মীরজাফর নেই। তাদের দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে দুই ভাগ নয় , বরং দেশের স্বার্থে ওরা সবাই এক। তাই সমুদ্রের উপর রাজত্ব করে নেদারল্যান্ডস এখনও টিকে আছে উন্নত দেশ হয়ে।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস হচ্ছে মীর জাফরের ইতিহাস। এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস হচ্ছে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানের বন্দুকের নল দিয়ে একটি রাষ্ট্রকে জাতির পিতা হত্যার মধ্য দিয়ে অস্তিত্বহীন করে দেওয়ার ইতিহাস।তাই এখানে ভবিষ্যতের প্রতিটি পা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ফেলতে হবে ।
নেদারল্যান্ডসের মানুষ তাদের রক্ষা করতে সমুদ্রের উপর আফসলুইটডাইক ও ডেল্টা ওয়ার্কস নামক দুটো বিশাল বাঁধ দিয়েছে। এভাবে নেদারল্যান্ডস নিজেদের নিরাপদ করেছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বাঁচাতে হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশের দুর্নীতির সিস্টেম উপড়ে ফেলতে হবে। ব্রিটিশের ” ডিভাইড এন্ড রুলস” দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে দুইভাগে বিভক্ত করা জামায়াত শিবিরের শেকড়সহ উপড়ে ফেলতে হবে।তবেই কেবল বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। রাজনৈতিক দল শতাধিক থাকতে পারে , কিন্তু জামায়াত শিবির চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধীরা এই দেশে আর ইহজনমেও রাজনীতি করতে পারবে না।
গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত। গ্রীনল্যান্ড ও নেপালের জলবায়ুর পরিবর্তন একদিনে হয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতি বুঝতে হলে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস জানতে হবে। বেশীরভাগ মানুষই বাংলাদেশের মুখস্থ ইতিহাস জানে, কিন্তু সঠিক ইতিহাস জানে না। এজন্য এই দুঃসময়ে ছাত্রলীগ , যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কোন একটি দল থেকেও একজন ক্রাইসিস লিডারশিপ তৈরি হয়নি এবং এর অস্তিত্ব আমি দেখিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হামলায় যখন ব্রিটেন প্রায় ধ্বংসের মুখে তখন তাদের জন্য ত্রাণকর্তা হয়ে এসেছিলেন উইনস্টন চার্চিল। সাদ্দামকে নিয়ে আমার লেখার কোন আগ্রহ ছিলো না। কিন্তু এই কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে লিখতে বাধ্য হলাম। তিনি সেদিন জনতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন –
” We shall flight on the beaches.”
আমি নিজে সাদ্দামকে প্রায় ১৭ বার কল করেছিলাম।আমার একটি কলও রিসিভ হয়নি। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে হলে বঙ্গবন্ধুর মতো ইউনিয়ন ও উপজেলার সভাপতি ও সম্পাদকের নাম আগে মুখস্থ করো। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের সভাপতি ও সেক্রেটারির নাম কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের মতো মানব মস্তিষ্কের হার্ডডিস্ক হিপোক্যাম্পাস এর যত্ন নাও। দলের সুদিনে নেতা হওয়া সহজ , কিন্তু দুর্দিনে নেতৃত্ব দেওয়া সহজ নয়। নিজেদের মস্তিষ্কের নিওকর্টেক্সের অনুশীলন করো।
একজন দক্ষ সংগঠকের অন্যতম দূরদর্শিতা হচ্ছে দলের দুর্দিনে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করে দায়িত্ব বন্টন। তাদের ডেলিগেশন ও মেন্টরশিপ বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ।যার তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ যত শক্তিশালী , দুর্দিনে সে তত বড় শক্তিশালী নেতায় পরিণত হয়। এখন ভাব নেওয়ার সময় নয় , এটা শেখার সময়। ছাত্রলীগ থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। সাদ্দামের মতো ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ নেতারাই আগামীতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে। কিন্তু তার জন্য তোমরা কি আদৌ প্রস্তুত?
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় চৌরিচোরার ঘটনায় মহাত্মা গান্ধী হঠাৎ অসহযোগ আন্দোলন পরিহার করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখিয়েছেন।
তাই রাজনীতিতে কখন পিছু হটতে হবে , কখন আপস করতে হবে আর কখন আক্রমণাত্মক হতে হবে – এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র বঙ্গবন্ধুর মতো দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ছিলো। যার কিছুটা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা । এজন্য বঙ্গবন্ধুর পরে বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রপ্রধানের নাম শেখ হাসিনা। রাজনীতি করতে হলে তাই শেখ হাসিনাকে দেখে শিখো।।
গত দুই বছরে শেখ হাসিনাকে আমি অসংখ্যবার কল দিয়েছি। কিন্তু একটিবারের জন্যও শেখ হাসিনা আমার কল রিসিভ করেননি। অথচ তিনি আমাকে না দেখেই দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন , ” তোমরা লুসিড ড্রিম পড়ো।” তাহলে শেখ হাসিনা ও লুসিড ড্রিমের মাঝখানে বাঁধা হয়ে কারা দাঁড়িয়ে আছে। সত্যের এই মুখোশ একদিন প্রকৃতির নিয়মেই খুলে যাবে। আমি সেই দিনের অপেক্ষায়।
আমি তোমাদের মত বড় নেতা নই। আমার পরিচয় দেওয়ার কোন পদবী নেই। এখন প্রায় রাত ১ টার উপরে বাজে। আমি না ঘুমিয়ে এখনও দেশকে নিয়ে ভাবছি।এখানেই আমি তোমাদের চেয়ে আলাদা। এভাবে ভাবতে আমি অন্ধকার দেখেছি , দুঃস্বপ্ন দেখেছি এবং সবশেষ ক্লান্ত হয়ে আজ সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমিও উইনস্টন চার্চিলের মতো বলছি –
” We shall fight on the beaches. we shall fight on the landing grounds . we shall fight in the fields and in the streets , we shall fight in the hills ; we shall never surrender .”
” আমরা সৈকতে লড়াই করব, অবতরণস্থলে লড়াই করব, মাঠে ও রাস্তায় লড়াই করব, পাহাড়ে লড়াই করব ; আমার কখনোই আত্মসমর্পণ করব না।”
আমার পরিচয় – আমি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের নাগরিক।আমি স্ট্রাটেজিক ফোরসাইট ক্যাকটাস। তবুও আমি খুবই তুচ্ছ একজন মানুষ। আমি আসলে কিছুই না, কেউ না। আমি শুধুই একজন মেসেঞ্জার বা বার্তাবাহক।
সত্য সবসময় সুন্দর।
১৫ ই ভাদ্র , ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০ আগষ্ট , ২০২৬
#অফটপিক
থার্ড আই’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















