, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

সালাহউদ্দিন পূত্রের পর শাহে আলমের পূত্রের টেন্ডার

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৯ পড়া হয়েছে

অনলাইন বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালাহউদ্দিন আহমেদ এর পূত্রের পর এবার এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পূত্রের ও নিজের প্রতিষ্ঠানে মোট ৭১ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়ার সুষ্পষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। যা সরাসরি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তথা স্বার্থের দ্বন্দ/স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট উদাহরণ।
২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বগুড়ার রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার চুক্তি দেয়।চুক্তি-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসের ১০০% শেয়ারের মালিক প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও তার ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।
পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য ওই দরপত্রটি প্রকাশ করা হয় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে। অথচ মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই দরপত্রটিই পেয়ে যায় তার সে ও তার ছেলের মালিকানাধীন কোম্পানি। যা সরাসরি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।
দরপত্রের সময় শাহে আলম ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিকের পরিচালক। তাকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বিসিকের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন।
বিসিকের ওই চুক্তি পাওয়ার সময় মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে ছিলেন।নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত শাহে আলমের পরিবারের দুটি প্রতিষ্ঠান—
– রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস
– মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং
—বিসিক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছ থেকে ৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অন্তত ১২টি কাজ পায়।
মীর শাহে আলম বিসিক পরিচালক থাকাকালে তার পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৬টি চুক্তি পায়। এবং প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৬টি চুক্তি দেওয়া হয় তারই ও তার ছেলের কোম্পানিকে।যা আবারও সুস্পষ্ট কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট প্রমাণ করে।
১২টি চুক্তির মধ্যে ২টি রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস এবং ১০টি মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পায়।
এব্যাপারে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এটিকে সুস্পষ্ট স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেছেন এবং তথ্য সঠিক হলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
ওদিকে, সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার বলেছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সন্তানদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ পেলে সেটি অবশ্যই স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। কারন সরকারি পদে থাকাবস্থায় এভাবে সরকারি দরপত্র কিংবা কাজ সরকারের কোন ব্যক্তিমালিকানাধীন কিংবা তার কোন আত্মীয় তা নিতে পারেনা।
সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সরকারি পদে থাকা ব্যক্তির লাভজনক পদে থাকা বা মুনাফাভিত্তিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা/পরিচালনায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। কিন্ত তবুও মীর শাহে আলম তার সরকারি পদ কাজ লাগিয়ে তার ও তার ছেলের মালিকানাধীন কোম্পানিকে সরকারি দরপত্র পাইয়ে দিয়েছে। যা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।
মীর শাহে আলমের সাথে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তি দেখান, সে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ছেলের কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন করে আরেকজনকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেই কোম্পানিটি সরকারি দায়িত্ব পেলেও তা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট নয়।
অথচ এটাই হলো শুভঙ্করের ফাকি। কেননা ঠিক এভাবেই বিগত পতিত লীগ আমলে এমপি মন্ত্রীরা নিজেদের কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন করে সরকারি দাপট খাটিয়ে ঠিকই সেই কোম্পানিতে সরকারি টেন্ডার দরপত্র বাগিয়ে নিতো। যেন সরাসরি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে না পারে। ঠিক সেই কাজটাই করেছেন মীর শাহে আলম। অতএব মীর শাহে আলমের কর্মকাণ্ডে সুস্পষ্টভাবে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট ফুটে উঠেছে।
এখানেই শেষ নয়,নিয়োগ তদবির নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৪ মার্চ আব্দুর রশীদ মিয়াকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, শাহে আলমের প্রভাবেই এই নিয়োগ হয়েছিল এমনকি তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও বিষয়টি জানতেন দেননি তিনি।
অথচ আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে আগের সুস্পষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো, যার ফলে থাকায় মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, শাহে আলমের প্রভাব শুধু নিজের মন্ত্রণালয়েই সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি পদায়ন ও বদলিতেও তার ভূমিকা নিয়ে সচিবালয়ে আলোচনা রয়েছে। অর্থাৎ সে শুধু নিজের মন্ত্রনালয়েই নয়, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়েও সে প্রভাব খাটিয়ে থাকে।
এই হলো আমাদের এমপি মন্ত্রীদের কারবার। তারা সরকারি দাপট খাটিয়ে নিজের,আত্মীয় সন্তানদের মালিকানাধীন কোম্পানিনে সরকারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করছে, অথচ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করছে। এমনটা ঠিক পতিত আওয়ামিলীগ এর আমলেও হতো। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এখন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দ্বারা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলো। না জানি সরকারের মধ্যে এমন আরো কত উদাহরণ থাকতে পারে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই নতুন বাংলাদেশে সরকারি দাপট খাটিয়ে জনগনের সাথে প্রতারণার এমন নজির সত্যিই হতাশাজনক। একের পর এক সুস্পষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ সামনে আসছে অথচ তারেক রহমান তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদেরকেই আরো দূর্নীতি অনিয়ম করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এভাবে কি একটা দেশ চলতে পারে! এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আই হ্যাভ এ প্ল্যানেরই অংশ কিনা তা জানতে চায় জনগন।

Md. Mehedi Hasan’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

সালাহউদ্দিন পূত্রের পর শাহে আলমের পূত্রের টেন্ডার

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালাহউদ্দিন আহমেদ এর পূত্রের পর এবার এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পূত্রের ও নিজের প্রতিষ্ঠানে মোট ৭১ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়ার সুষ্পষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। যা সরাসরি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তথা স্বার্থের দ্বন্দ/স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট উদাহরণ।
২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বগুড়ার রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার চুক্তি দেয়।চুক্তি-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসের ১০০% শেয়ারের মালিক প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও তার ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।
পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য ওই দরপত্রটি প্রকাশ করা হয় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে। অথচ মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই দরপত্রটিই পেয়ে যায় তার সে ও তার ছেলের মালিকানাধীন কোম্পানি। যা সরাসরি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।
দরপত্রের সময় শাহে আলম ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিকের পরিচালক। তাকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বিসিকের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন।
বিসিকের ওই চুক্তি পাওয়ার সময় মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে ছিলেন।নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত শাহে আলমের পরিবারের দুটি প্রতিষ্ঠান—
– রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস
– মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং
—বিসিক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছ থেকে ৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অন্তত ১২টি কাজ পায়।
মীর শাহে আলম বিসিক পরিচালক থাকাকালে তার পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৬টি চুক্তি পায়। এবং প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৬টি চুক্তি দেওয়া হয় তারই ও তার ছেলের কোম্পানিকে।যা আবারও সুস্পষ্ট কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট প্রমাণ করে।
১২টি চুক্তির মধ্যে ২টি রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস এবং ১০টি মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পায়।
এব্যাপারে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এটিকে সুস্পষ্ট স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেছেন এবং তথ্য সঠিক হলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
ওদিকে, সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার বলেছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সন্তানদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ পেলে সেটি অবশ্যই স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। কারন সরকারি পদে থাকাবস্থায় এভাবে সরকারি দরপত্র কিংবা কাজ সরকারের কোন ব্যক্তিমালিকানাধীন কিংবা তার কোন আত্মীয় তা নিতে পারেনা।
সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সরকারি পদে থাকা ব্যক্তির লাভজনক পদে থাকা বা মুনাফাভিত্তিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা/পরিচালনায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। কিন্ত তবুও মীর শাহে আলম তার সরকারি পদ কাজ লাগিয়ে তার ও তার ছেলের মালিকানাধীন কোম্পানিকে সরকারি দরপত্র পাইয়ে দিয়েছে। যা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।
মীর শাহে আলমের সাথে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তি দেখান, সে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ছেলের কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন করে আরেকজনকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেই কোম্পানিটি সরকারি দায়িত্ব পেলেও তা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট নয়।
অথচ এটাই হলো শুভঙ্করের ফাকি। কেননা ঠিক এভাবেই বিগত পতিত লীগ আমলে এমপি মন্ত্রীরা নিজেদের কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন করে সরকারি দাপট খাটিয়ে ঠিকই সেই কোম্পানিতে সরকারি টেন্ডার দরপত্র বাগিয়ে নিতো। যেন সরাসরি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে না পারে। ঠিক সেই কাজটাই করেছেন মীর শাহে আলম। অতএব মীর শাহে আলমের কর্মকাণ্ডে সুস্পষ্টভাবে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট ফুটে উঠেছে।
এখানেই শেষ নয়,নিয়োগ তদবির নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৪ মার্চ আব্দুর রশীদ মিয়াকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, শাহে আলমের প্রভাবেই এই নিয়োগ হয়েছিল এমনকি তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও বিষয়টি জানতেন দেননি তিনি।
অথচ আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে আগের সুস্পষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো, যার ফলে থাকায় মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, শাহে আলমের প্রভাব শুধু নিজের মন্ত্রণালয়েই সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি পদায়ন ও বদলিতেও তার ভূমিকা নিয়ে সচিবালয়ে আলোচনা রয়েছে। অর্থাৎ সে শুধু নিজের মন্ত্রনালয়েই নয়, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়েও সে প্রভাব খাটিয়ে থাকে।
এই হলো আমাদের এমপি মন্ত্রীদের কারবার। তারা সরকারি দাপট খাটিয়ে নিজের,আত্মীয় সন্তানদের মালিকানাধীন কোম্পানিনে সরকারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করছে, অথচ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করছে। এমনটা ঠিক পতিত আওয়ামিলীগ এর আমলেও হতো। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এখন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দ্বারা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলো। না জানি সরকারের মধ্যে এমন আরো কত উদাহরণ থাকতে পারে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই নতুন বাংলাদেশে সরকারি দাপট খাটিয়ে জনগনের সাথে প্রতারণার এমন নজির সত্যিই হতাশাজনক। একের পর এক সুস্পষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ সামনে আসছে অথচ তারেক রহমান তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদেরকেই আরো দূর্নীতি অনিয়ম করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এভাবে কি একটা দেশ চলতে পারে! এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আই হ্যাভ এ প্ল্যানেরই অংশ কিনা তা জানতে চায় জনগন।

Md. Mehedi Hasan’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।