
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রাচীন ইহুদী নারীদের নেকাব দিয়ে মাথা, মুখমন্ডল ও বক্ষদেশ আবৃত করে রাখতে হতো। আবার কখনও কখনও এই নেকাব নিম্নদেশ পর্যন্ত নেমে যেতো। ইসলাম ধর্ম পৃথিবীতে আসার হাজার হাজার বছর পূর্বে আরবে নারীদের মধ্যে পর্দা প্রথা ছিল। আরবে এই পর্দা প্রথার জনক হচ্ছে ইহুদী ধর্ম। ইহুদীদের অনুকরণ করে খ্রিষ্টানরাও তাদের ধর্মে খ্রিষ্টান নারীদের জন্য পর্দা বাধ্যতামূলক করেছিলো। খ্রিষ্টানদের বাইবেলে নিউ টেস্টামেন্ট বলছে, ‘ কোন নারী যদি মাথা ও বুক ঢেকে না রাখে তবে তার মাথা মুন্ডন করে দিতে হবে !
ইসলাম ধর্মেও একি পর্দা প্রথার কথা এসেছে এবং পর্দা না করলে নারীদের সরাসরি জাহান্নামে নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।ইসলাম ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মেও পর্দা প্রথার কথা বলা হয়েছে।
ইহুদী ধর্ম যেহেতু খ্রিষ্টান ধর্মের আগে পৃথিবীতে এসেছে সেহেতু ইহুদী ধর্মের নারীরা এখন পর্দা প্রথা মানেনা। ইহুদী ধর্মকে অনুসরণ করে খ্রিষ্টান নারীরাও পর্দা প্রথা থেকে বের হয়ে এসেছে এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ নারীদেরও এখন দেখবেন তারা এখন আর পর্দা প্রথা করেনা।যুগে যুগে সময়ের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। এজন্য এখন ইহুদী , খ্রিষ্টান ও হিন্দু নারীরা পৃথিবীর বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হয়ে নিজেদের মেধাকে সারাবিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরছেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে মুসলিম বিশ্বের নারীরা। তাদের পিছিয়ে থাকার কারণ তাদের পোশাক নাকি জ্ঞান ও বিজ্ঞানের চর্চায় তাদের পিছিয়ে যাওয়া এর উত্তর তারাই খুঁজে বের করুক।
এই পুরো পৃথিবীতে ৬০ জন নোবেল বিজয়ী নারীদের মধ্যে পৃথিবীর ৫৭ টি মুসলিম দেশ থেকে একজনও মুসলিম নারী বিজ্ঞানী নেই।খ্রিষ্টান , ইহুদী ও হিন্দু নারীরা পোশাকের স্বাধীনতা ভোগ করলেও পুরো পৃথিবীতে অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া একজন নারী নেই।
এর কারণ অবশ্যই পোশাক নয় । জ্ঞান ও বিজ্ঞানে অল্প কিছু দেশ বাদে পুরো পৃথিবীর কোথাও নারীদের সমান শিক্ষার সুযোগ ও গবেষণার সুযোগ কোনটাই দেওয়া হয়নি। ইহুদী , খ্রিষ্টান সহ পৃথিবীর সব ধর্মেই নারীর উচ্চ শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।নারীরা যখনি এগিয়ে যেতে চেয়েছে তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্ম।জ্ঞান ও বিজ্ঞানের এই যুগে এসেও পৃথিবীর কিছু দেশের পুরুষ মনে করে নারীদের উচ্চ শিক্ষার দরকার নেই।
নারীরা যে মানুষ তাদেরও যে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আছে তা এই পৃথিবীর অধিকাংশ পুরুষই মানতে চায় না।
পুরুষ শাসিত এই সমাজে নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটাই যেন পাপ। পুরুষের চুল দেখা গেলে পাপ হয় না কিন্তু নারীর চুল দেখা গেলেই পাপ হয়ে যায়। নারীদের পারিবারিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে লজ্জার বস্ত করে রাখা হয়েছে।
নারীদের প্রতি এই অবিচারের যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো ইহুদীদের আমল থেকে। খ্রিষ্টানরা নারীদের উচ্চ শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিলো।কারণ আজ থেকে দুই থেকে তিন হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ছিলোনা। পৃথিবীতে যে বিশ্ববিদ্যালয় হবে এটাই পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থের জানা ছিলোনা। পৃথিবীতে যে একদিন মাইক্রো বায়োলজিক্যাল ল্যাব হবে এবং সেখানে নারীরা কাজ করবে এটা পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থ কল্পনাও করতে পারেনি। পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি পৃথিবী থেকে ৪০০ কিঃমিঃ উপরে বসে নারী বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা করবে। মানুষ যে কোনদিন পৃথিবী নামক ভূপৃষ্ঠ ছেড়ে মহাকাশে নিজেদের বসতবাড়ি করে নিবে তা এই পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থ একটিবারের জন্যও বুঝতে পারেনি।।।যদি বুঝতে পারতো তবে ধর্মে ধর্মে পৃথিবীতে এতো বিভেদ থাকতোনা । ধর্মের নামে অহেতুক মানুষ মানুষকে নিয়ে ঘৃণা ছড়াতো না। আজ দিনশেষে আপনি যেমন মানুষ ঠিক তেমনি খ্রিষ্টান মেসিও মানুষ । হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি যেমন মানুষ ঠিক তেমনি যার ফেসবুক চালাচ্ছেন সেই ইহুদী জুকারবার্গও একজন মানুষ। ধর্মের জন্য কাউকে ঘৃণা করা এটা মানসিক অসুস্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।।
দিনশেষে তামিম ইকবাল যেমন একজন মানুষ ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা সারাহ গিলবার্টও একজন মানুষ।
ধর্মে ধর্মে এবং নারী ও পুরুষে বিভেদ না করে সবাই মানুষ হওয়ার শিক্ষা নিন।
হালাল ও হারাম নিয়েও ইহুদী ও মুসলমানদের মধ্যে খুব মিল দেখা যায়। বেলজিয়াম সরকার পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বেলজিয়ামের রাস্তায় ইহুদী ও মুসলমান হালাল মাংসের পক্ষে বেলজিয়াম সরকারের বিরুদ্ধে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে যায়। ১৯৩১ সালে হিটলার জার্মানিতে পশু জবাই নিষিদ্ধ করলে ধর্মীয় হালাল মাংসের জন্য ইহুদীরা জার্মানীর রাস্তায় নেমে পড়ে।।।
মৌলবাদ ইস্যুতেও ইহুদী ও মুসলমানদের মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে। এদের মধ্যে চরম উগ্রবাদ ও মৌলবাদের চিত্র ইতিহাস সাক্ষী। ইহুদী ধর্মীয় মৌলবাদীরা অর্থোডক্সরা ইহুদী নারীদের নেকাব বা পর্দা করা বাধ্যতামূলক করলে পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে হাজার হাজার নারী রাস্তায় নেমে পড়ে। হালাল ও হারামের এক দুষিত সমাজ ব্যবস্থা যখন পৃথিবীকে দূষিত করছে তখন ইহুদী ধর্মীয় নেতা শমূলে বটিচের মেয়ে চানা হালাল ” সেক্স শপ” খুলতে চেয়েছেন ইসরায়েলে।।
আমরা সবকিছুতেই হালাল ও হারাম এইভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে আজো পৃথিবীতে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি । পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষ মিলে আমরা হারাম ও হালালের পেছনে ছুটেছি। ধর্মে ধর্মে মানুষকে বিভক্ত করে নিরীহ মানুষ হত্যা করেছি অথচ আজও আমরা একটা মানবিক পৃথিবী তৈরি করতে পারিনি।।
থার্ড আই’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















