, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মনিরুলের বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

  • প্রকাশের সময় : ১১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৭ পড়া হয়েছে
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মনিরুল হাওলাদার বাড়ি। মঙ্গলবার তোলাছবি : 

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় মনিরুল হাওলাদার (২৪) নামের এক তরুণ জড়িত বলে জানা গেছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকায়। মনিরুল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা।

হামলার ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে যান স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা–কর্মীরা। একপর্যায়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ সম্পর্কে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকে মনিরুলের বাড়িতে সকাল থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করেছে। যেহেতু ঘটনা দেশের বাইরে, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওই দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মনিরুলের বাড়িতে এখনো ঘটেনি। কেউ যেন তাঁদের বাড়িঘরে হামলা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে পুলিশ সর্তক আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহযোগিতাও করছেন।’

ইতালিপ্রবাসী মনিরুল ইসলাম ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরে তিনি দেশ ছাড়েন।

আজ সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে লোকজন ভিড় করতে থাকেন। মনিরুলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সকালই মনিরুলের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আসতে শুরু করে। পরে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়েছে। কোথায় গেছে তা বলতে পারছি না।’

সকাল সকালই মনিরুলের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আসতে শুরু করে। পরে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়েছে। কোথায় গেছে তা বলতে পারছি না।

রফিকুল ইসলাম, মনিরুলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই

মনিরুলের বাড়ি দুটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর। একটি চারচালা, অপরটি দোচালা। বাড়িতে তাঁর মা ও বড় ভাই থাকেন। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল। এলাকায় থাকা অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মনিরুল গ্রামের বাড়িতে এখনো বাড়িঘর করতে পারেননি। ঋণের বোঝা ওর মা ও ভাইয়ের মাথার ওপরে। টাকাপয়সা কামানো বাদ দিয়ে বিদেশে গিয়াও দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এদেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সাথে নাই।’

জেলা ছাত্রশক্তি সদস্যসচিব আরিয়ান সায়েম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে ঢাকা থেকে জুলাইযোদ্ধা আয়ান মাদারীপুরে আসেন। পরে আমরা পুলিশ নিয়ে মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে যাই। মনিরুলের বাড়িতে তালা দেওয়া। আমরা আসার আগেই তাঁরা ঘর ছেড়ে চলে যান। মনিরুলের বাড়িতে আধা ঘণ্টা ছিলাম। কেউ মব করার চেষ্টাও করেনি। আমরা আসার পরে কেউ কিছু করেছে কিনা জানি না।’

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মনিরুলের বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

প্রকাশের সময় : ১১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মনিরুল হাওলাদার বাড়ি। মঙ্গলবার তোলাছবি : 

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় মনিরুল হাওলাদার (২৪) নামের এক তরুণ জড়িত বলে জানা গেছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকায়। মনিরুল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা।

হামলার ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে যান স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা–কর্মীরা। একপর্যায়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ সম্পর্কে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকে মনিরুলের বাড়িতে সকাল থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করেছে। যেহেতু ঘটনা দেশের বাইরে, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওই দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মনিরুলের বাড়িতে এখনো ঘটেনি। কেউ যেন তাঁদের বাড়িঘরে হামলা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে পুলিশ সর্তক আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহযোগিতাও করছেন।’

ইতালিপ্রবাসী মনিরুল ইসলাম ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরে তিনি দেশ ছাড়েন।

আজ সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে লোকজন ভিড় করতে থাকেন। মনিরুলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সকালই মনিরুলের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আসতে শুরু করে। পরে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়েছে। কোথায় গেছে তা বলতে পারছি না।’

সকাল সকালই মনিরুলের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আসতে শুরু করে। পরে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়েছে। কোথায় গেছে তা বলতে পারছি না।

রফিকুল ইসলাম, মনিরুলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই

মনিরুলের বাড়ি দুটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর। একটি চারচালা, অপরটি দোচালা। বাড়িতে তাঁর মা ও বড় ভাই থাকেন। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল। এলাকায় থাকা অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মনিরুল গ্রামের বাড়িতে এখনো বাড়িঘর করতে পারেননি। ঋণের বোঝা ওর মা ও ভাইয়ের মাথার ওপরে। টাকাপয়সা কামানো বাদ দিয়ে বিদেশে গিয়াও দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এদেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সাথে নাই।’

জেলা ছাত্রশক্তি সদস্যসচিব আরিয়ান সায়েম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে ঢাকা থেকে জুলাইযোদ্ধা আয়ান মাদারীপুরে আসেন। পরে আমরা পুলিশ নিয়ে মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে যাই। মনিরুলের বাড়িতে তালা দেওয়া। আমরা আসার আগেই তাঁরা ঘর ছেড়ে চলে যান। মনিরুলের বাড়িতে আধা ঘণ্টা ছিলাম। কেউ মব করার চেষ্টাও করেনি। আমরা আসার পরে কেউ কিছু করেছে কিনা জানি না।’