
অনলাইন শুক্রবার ২৫সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে এক নজিরবিহীন ও রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণত ওয়াশিংটনে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এলে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাদের হোয়াইট হাউসেই স্বাগত জানান। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প চিরাচরিত কূটনৈতিক প্রথা ভেঙে ওয়াশিংটনের সামরিক বিমানঘাঁটিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে- শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে রানওয়েতে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ লালগালিচা বিছানো হয়েছিল। এছাড়া আকাশে মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান উড়িয়ে (Military Flyover) এবং দুই দেশের জাতীয় সংগীত ও সামরিক অনার গার্ডের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথা ভেঙে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমানবন্দরে গিয়ে শি জিনপিংকে স্বাগত জানানো বিশ্বকে এই বার্তাই দেয় যে, বর্তমান বিশ্বে আমেরিকা আর একক আধিপত্যবাদী পরাশক্তি নয়। চীন যে আমেরিকার সমকক্ষ একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি, সেই বাস্তবতাকে বিশ্বমঞ্চে অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে একটি বর্ণাঢ্য দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের (State Dinner) আয়োজন করেন। এই নৈশভোজে দুই দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসা ক্ষেত্রের টাইটানরা উপস্থিত ছিলেন।
নৈশভোজের সময় ট্রাম্প ও শি জিনপিং একে অপরের মধ্যকার চমৎকার বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে একটি ‘ন্যাড়া ঈগল’ (Bald Eagle)-এর মূর্তি উপহার দেন।
আমেরিকা ও চীন তাদের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুল্ক স্থগিতের মেয়াদ (Trade Truce) আরও বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে। প্রাচীন ঐতিহাসিক তত্ত্বের (থুসিডাইডস ট্র্যাপ) উদাহরণ টেনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন যে, উদীয়মান শক্তি এবং ক্ষয়িষ্ণু শক্তির মধ্যকার সংঘাত এড়ানো সম্ভব।
জাপানের বিশ্লেষকদের অভিমত—ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এই অতি-উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনের রাজকীয় সংবর্ধনাকে জাপান এবং ভারত—উভয় দেশই অত্যন্ত গভীর উদ্বেগ, সতর্কতা এবং এক ধরনের কৌশলগত অ্যালার্ট (High Alert) হিসেবে দেখছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য ঠেকাতে আমেরিকা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান মিলে যেখানে ‘কোয়াড’ (Quad) জোটকে শক্তিশালী করছিল, সেখানে আমেরিকার এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তন জাপান ও ভারতকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
জাপান সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের সাথে বড় কোনো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্য চুক্তি করার স্বার্থে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে আপস করতে পারেন। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি স্থগিত করে রেখেছেন।
জাপানের নাগরিক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে যে, চীন যদি জাপান বা তাইওয়ানে সামরিক আগ্রাসন চালায়, সেক্ষেত্রে আমেরিকা সত্যিই এগিয়ে আসবে কি না। এই কারণে জাপান এখন আমেরিকার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের সামরিক বাজেট দ্বিগুণ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
কৃত্তিবাস কাশীরাম’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















