
পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন পুতিন। আমেরিকার বিরুদ্ধে গিয়ে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়াকে সমর্থনের জন্য বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারকে এক রাতেই হত্যা করেছিল মার্কিন সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই।১৯৪৫ সালের কোল্ড ওয়ারের সময় থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা শুরু করে আমেরিকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল রাশিয়ার।
১৯৪৭- ১৯৪৮ এই সময়টা সোভিয়েত ও আমেরিকার ইতিহাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।১৯৪৮ সালে চেকোস্লাভিয়ায় কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় এলে আমেরিকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।একই সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিন ব্লকেড দেয়।এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইউরোপে একটি ফাঁদ পাতেন।১৯৪৮ সালের ব্রাসেলস চুক্তিকে কেন্দ্র করে ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ন্যাটো গঠিত হয়। ইউরোপকে সোভিয়েত ও আমেরিকা দুটো ব্লকে বিভক্ত করে ফেলে আমেরিকা। ব্রিটিশের কাছে থেকে এই ডিভাইড এন্ড রুলস পলিসি শিখেছে আমেরিকা। বিশ্বকে শাসন করতে হলে দেশগুলোকে ভাগ করে দিতে হবে।এই ১৯৪৭ ও ৪৮ সালে পৃথিবীতে আরও দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় ইসরায়েল ও আমেরিকা। এসবের নেপথ্যে নায়ক ছিল আমেরিকা।

১৯৪৮ সালে পূর্ব ইউরোপের ৮ টি দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে থাকলেও জোসেফ স্টালিনের সাথে বিরোধে জড়িয়ে তারা সোভিয়েত ব্লক থেকে বের হয়ে যায়। ১৯৯১ সালে মিখাইল গর্বাচেব আমিরিকার পাপেট হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ১৫ টুকরো করে ১৫ টি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।এই ১৫ টি রাষ্ট্রের মধ্যে পৃথিবীর মানচিত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেন নামক দুটো
স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। অর্থাৎ এই ইউক্রেন রাষ্ট্রটি ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।
পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন নামক এক পরাশক্তি।জন্ম হয় আমেরিকার নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার।

২০০০ সালে সর্বপ্রথম পুতিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেই সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। পুতিনের সাথে তখন থেকেই শেখ হাসিনার সম্পর্ক। এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক আজ ২৬ বছরে পা দিয়েছে।গত ২৬ বছরের শাসনে পুতিন সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই হারানো জৌলুস ফিরিয়ে এনেছেন । অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত রাশিয়াকে তিনি আবার এক বিশাল পরাশক্তিতে রূপান্তর করেছেন। রাশিয়ার চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার বিপরীতে ভ্লাদিমির পুতিন ” ভার্টিক্যাল অফ পাওয়ার ” পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৭১ সালের সেই জৌলুস ফিরে পায় বাংলাদেশ ও রাশিয়া।২০১০ সালেই পুতিনের শেখ হাসিনার বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নবযাত্রা শুরু হয়।২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতে রাশিয়া প্রায় ১৩.৬৫ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার , গ্যাসকূপ খনন সহ রাশিয়ার সহযোগিতা বাংলাদেশকে এশিয়ার এমার্জিং টাইগারে পরিণত করেছিল।

রাশিয়া ও ইউক্রেন এই দুটো রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারতের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ইউক্রেনের অবস্থান পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের মাঝখানে। অর্থাৎ ইউক্রেনের একটা অংশের মানুষ রাশিয়ার সমর্থনে থাকে , আর অন্য আরেকটি অংশের মানুষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে থাকে। বিভক্তির এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনকে অস্থিতিশীল করে দিয়েছিলো আমেরিকা। ইউক্রেনের জ্বালানি খাত রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল ছিল। রাশিয়া ছিল ইউক্রেনের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশ ২০২৪ সালে যেভাবে আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়েছে , ঠিক একই ভুল করেছিল ইউক্রেন আজ থেকে ১২ বছর আগে , ২০১৪ সালে। বাংলাদেশের অধিকাংশ অবকাঠামো যেমন ভারতের তৈরি ছিল , ঠিক তেমনি ইউক্রেনের অধিকাংশ অবকাঠামো ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি। এই রাশিয়া নির্ভরশীলতা থেকে ইউক্রেনকে বের করে আনার জন্য আমেরিকা জেলেনেস্কি নামক এক জোকারকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়ে ছিলো। একইভাবে ভারতকে দূর্বল করার জন্য বাংলাদেশে ইউনূস ও তারেক রহমানের মতো পাপেটকে ক্ষমতায় বসানোর পেছনেও হাত হচ্ছে আমেরিকার। একইভাবে সিরিয়ায় রাশিয়া সমর্থিত বাশার আল আসাদ সরকারের পতনও করেছে আমেরিকা।এর উদ্দেশ্য আবারও পরাশক্তি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়া রাশিয়াকে যেকোনো মূল্যে ঠেকানো।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন খুবই বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ শাসক। আমেরিকা ভেবেছিল রাশিয়া ৩-১০ দিনেই ইউক্রেন দখল করে ফেলবে, আমেরিকার পাতানো ফাঁদে আটকে যাবে রাশিয়া। ইউক্রেনকে আরেক আফগানিস্তান বানিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি চিরতরে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলো আমেরিকা। কিন্তু বুদ্ধিমান পুতিন সারাবিশ্বকে ৬৪ কিলোমিটার লম্বা সামরিক বহর দেখিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে গেছেন। পুরো ইউক্রেন দখল না করে ইউক্রেনের নির্দিষ্ট অঞ্চল দখলে মনযোগী হয়েছেন। এতে করে সারাবিশ্বে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেল। পুনরায় চাঙ্গা হতে থাকলো রাশিয়ার অর্থনীতি।সিরিয়া হারানোর পর ইরানকে বুকে টেনে নিল পুতিন। উদ্দেশ্য আমেরিকাকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তেল ও গ্যাসের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধেও লাভবান হয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়াকে দূর্বল করার জন্য আমেরিকা রাশিয়া সমর্থিত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উঠিয়ে নিয়ে গেল। ভেনেজুয়েলার তেল ও সম্পদের মালিক দাবি করতে থাকলো আমেরিকা। একইভাবে গ্রিনল্যান্ডের উপর চোখ পড়লো আমেরিকা। এখানেই নিজের খেলাটা খেলে নিলেন পুতিন। শত্রু যখন তোমার চেয়েও অনেক শক্তিশালী হয় তখন তাকে স্বৈরাচারী হতে সুযোগ দাও। গ্রীন ল্যান্ডের উপর আমেরিকার নজর পড়ায় আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে সন্দেহের তৈরি হলো।এই সন্দেহের সুযোগ নিবেন ভ্লাদিমির পুতিন।এর জন্য ইউক্রেন যুদ্ধকে তিনি আরও দীর্ঘায়িত করবেন।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকাকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করতে রাশিয়া ও চীন মিলে “ডি – ডলারাইজেশন ” শুরু করলো।এর বিরুদ্ধে আমেরিকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে তাদের অস্ত্র বানালো। ট্যারিফ ও বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করে দিলো। এই ট্যারিফের ফাঁদে আবার পা দিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ঋণ ও মুদ্রাস্ফীতি আমেরিকার বাজারকে অস্থিতিশীল করলো।১৯৯৯ সালে পৃথিবীর মোট রিজার্ভের ৭১ শতাংশ ছিল আমেরিকার ডলারের দখলে। আজ তা ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে ।

চীন ও ভারতের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধের জন্য ব্রিকস এখনও সেভাবে সফলতার মুখ দেখেনি।তবে পুতিনও হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। ডলারের বাইপাস সার্জারি করতে পারলেই পৃথিবীতে আমেরিকার একক আধিপত্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। সুইফটের বিকল্প হিসেবে ব্রিকস পে , লোকাল কারেন্সি সিস্টেম , ব্রিকসের নিজস্ব নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু করেছে আমেরিকার একক আধিপত্যকে। মাত্র ১০০ বিলিয়ন ডলার মূলধন নিয়ে শুরু করা নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বিকল্প ইকোনমি সৃষ্টি করছে। নতুন নতুন দেশ ব্রিকসের সাথে নিজেদের যুক্ত করছে।
ভারত ও চীনের দ্বন্ধের সমাধান করতে পারলেই ব্রিকস হবে আগামীর অন্যতম গ্লোবাল ইকোনমি।

রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে ইউক্রেনের জেলেনেস্কি উন্নত ইউক্রেনের কবর নিজ হাতেই খুঁড়ে নিলেন।একই আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়ে বাংলাদেশের কবর খুঁড়লেন
তারেক রহমান সহ বিএনপি ও জামায়াত। ২০২১ সালে বাংলাদেশ নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য হয়েছে।একই ব্রিকসের সদস্য হতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলো পশ্চিমা ঋণের ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিকল্প তহবিলের সন্ধান করছে।রুপি – ইউয়ান ও রুবলের বাণিজ্য নিস্পত্তি ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে।ডি ডলারাইজেশনের এই প্রক্রিয়ায় ভারত, চীন ও রাশিয়া সফর হয়ে গেলে তাই হবে আগামীদিনে আমেরিকার জন্য অন্যতম বড় ধাক্কা।

পুতিন খুবই ঠান্ডা মাথার এক খেলোয়াড়। দীর্ঘ ৪৫ বছর লড়াই করে আমেরিকা সোভিয়েত ইউনিয়নকে ১৫ টুকরো করতে পেরেছিল। পুতিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেই ১৫ টুকরাকে আবার রাশিয়ার সাথে জুড়তে চাইছেন। পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার অর্থনীতি গত ২৫ বছরে ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্র থেকে রাশিয়া আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এক অর্থনৈতিক পরাশক্তি।২০০১ সালে পুতিন যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তখন রাশিয়ার জিডিপি ছিল মাত্র ৩২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজকের রাশিয়ার জিডিপি ২.৬৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার গড় আয় মাত্র ২,২৪৮ থেকে এখন ১৮,৫২৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫ টুকরো হয়ে যাওয়া ছিলো বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ – রাজনৈতিক বিপর্যয়।ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড় পুতিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়ে ” ইউরেশীয় বলয় ” গড়ে তুলছেন।সেই ১৫ টুকরা এক টুকরো বেলারুশকে পুতিন ইতিমধ্যে নিজের বুকে টেনে নিয়েছেন ।ন্যাটোর বিপরীতে রাশিয়া , বেলারুশ , আর্মেনিয়া , কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এই পাঁচ টুকরো নিয়ে পুতিন ( CSTO) জোট গঠন করেছেন।২০১৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙা টুকরোগুলো নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে পুতিন গঠন করেছেন ( EAEU) অর্থনৈতিক ইউনিয়ন। পশ্চিমাদের দিকে ঝুঁকে পড়া ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অঞ্চল ক্রিমিয়া পুতিন দখল করে নিয়েছেন।যে ইউরোপকে আমেরিকা দুই ভাগে ১৯৪৮ সালে যে ইউরোপকে আমেরিকা বিভক্ত করেছিল সেই পূর্ব ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি ও সার্বিয়া , স্লোভাকিয়াকে পুতিন আবার নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন।মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ড গড়ে তুলতে মলদোভা ও জর্জিয়াকে নিজের দিকেই টেনে রাখছেন পুতিন। পৃথিবীর ৪৩ শতাংশ ইউরোনিয়াম উৎপাদন করা কাজাখস্তান ধীরে ধীরে রাশিয়ার বলয়ে ধাবিত হচ্ছে। উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের প্রাকৃতিক গ্যাস ও এশিয়ার কেন্দ্রীয় রুটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে রাশিয়া হবে বিশ্ব জ্বালানির জায়ান্ট। মধ্যে এশিয়ার ইউরোনিয়াম ও জ্বালানির একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে রাশিয়ার রোসাটম কোম্পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। আমাদের বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই রোসাটম করেছে।

আজকের ইউরোপের বাজার রাশিয়ার ঐতিহাসিক সস্তা পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহের উপর গড়ে উঠেছিল।
ভৌগলিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল ছিল।জার্মানি , ইতালি ও হাঙেরীর মত দেশগুলো এখনও রুশ পাইপলাইনের উপর নির্ভর। হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো কোন সমুদ্র বন্দর না থাকায় এখনও রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও ইউরোপের ৪০ শতাংশ গ্যাস যেতো রাশিয়া থেকে। ইউরোপের বাজার নির্ভরশীলতা কমিয়ে রাশিয়া এখন সাইবেরিয়া -২ পাইপলাইনের কাজ শুরু করেছে। তাদের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার এখন ভারত ও চীন। ভবিষ্যতে জ্বালানিকে ভূ- রাজনৈতিক সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে রাশিয়া। এই আধুনিক রাশিয়ার ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন পুতিন। আগামী ছয় বছরের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া পুতিন আগামীর বিশ্বে অনেককিছুই নিয়ন্ত্রণ করবেন।
রাশিয়া – ইউক্রেন ও আমেরিকা – ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানির যত কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে ততই শক্তিশালী হবে রাশিয়া। অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটে পড়বে ইউরোপের মত দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যত দীর্ঘস্থায়ী হবে ততই রাশিয়ার লাভ।এতে ইউরোপের দেশগুলো গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট ও কৌশলগত বিপদে পড়বে।বিকল্প উৎসের খোঁজে তারা রাশিয়া নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা ও তীব্র মুদ্রাস্ফীতি শুরু হলে ইউরোপ ভূ- রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হবে। এখানেই পুতিনের জয়। বিশ্ব রাজনীতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই বিভাজনের সুযোগ নিতেই বসে আছেন ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড় পুতিন।
ভ্লাদিমির পুতিন, আপনি দীর্ঘজীবী হোন।
লুসিড ড্রিমের বন্ধুত্বের অনুরোধ ঝুলিয়ে না রেখে এইবার অন্তত গ্রহণ করুন।।
” দ্য গ্রে কার্ডিনাল অব রাশিয়া” – পর্ব: ১ (২৭ পর্বের মেগা সিরিজের ১ম পর্ব)
সত্য সবসময় সুন্দর
১৪ ই আশ্বিন , ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
লুসিড ড্রিম’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।