
তবে দেশে এলপিজি আমদানির পরিমাণের হিসাবে সার্বিক সরবরাহ সংকটের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি করা এলপিজির বড় একটি অংশ স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে না ছেড়ে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি।’
সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এনএসআই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
দাম বাড়ার পেছনে প্রকৃত সরবরাহ সংকট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে এনএসআই। একই সঙ্গে পণ্য মজুদ করে রাখা, চালান বাজারে ছাড়তে দেরি করা বা অন্য কোনো কারণে দাম বাড়ছে কি না, সেটিও তদন্ত করতে বলা হয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে বড় আমদানিকারকদের কাছে থাকা এলপিজির মজুদের জরুরি হিসাব করার নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। এতে প্রতিটি চালান কখন এসেছে, কখন খালাস হয়েছে, কত পণ্য মজুদ রয়েছে এবং কবে বাজারে ছাড়া হয়েছে—এসব তথ্য রাখতে বলা হয়েছে।
অক্টোবরে দাম বাড়ার আগে আমদানি করা কত পরিমাণ এলপিজি দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে ছাড়া হয়নি, তা বের করতেও বলেছে এনএসআই। বাড়তি দাম বা বেশি মুনাফার আশায় কোনো আমদানিকারক বা বাজারের অন্য কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে চালান ছাড়তে দেরি করেছে কি না, সেটিও তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাজারে যে পরিমাণ এলপিজি মজুদ থাকার কথা বলা হচ্ছে, তা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে বলেছে সংস্থাটি।
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এলপিজি আমদানি, মজুদ ও বাজারে সরবরাহের তথ্য নজরদারির সুপারিশ করেছে এনএসআই। সরবরাহে বাধা বা অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সংস্থাটি পর্যাপ্ত আমদানি করা এলপিজি বাজারে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। এতে অতিরিক্ত মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি ঠেকানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বা অনুমোদন ছাড়া এলপিজি মজুদ করলে সংশ্লিষ্ট অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতারা আইন লঙ্ঘন করবেন বলেও সতর্ক করেছে এলওএবি। এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সরকারও এলপিজির বাজারে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এলওএবি জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এলওএবি। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে নাম থাকা ওমেরা পেট্রোলিয়াম চালান আটকে রেখে বাজারে সরবরাহ কমানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ওমেরা পেট্রোলিয়ামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করাকে তারা সব সময় অগ্রাধিকার দেন। বাজারে অস্থিরতা বা সরবরাহে সমস্যা হলেও এই নীতি থেকে তারা সরে আসেননি।
প্রতিবেদনে নাম থাকা আরেকটি কম্পানির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি চালানের গতিবিধি নথিভুক্ত থাকে। তাই অভিযোগটি তাদের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন করলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিয়ে তারা তার জবাব দিতে পারবেন।
\





















