, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট একটি বৃদ্ধাশ্রম।

  • প্রকাশের সময় : ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন রুমা বেগম। মেধা, শিক্ষা আর সাফল্য দিয়ে একসময় নিজের জীবনের গল্প লেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে সেই রুমার ঠিকানা হয়েছে বরিশালের একটি বৃদ্ধাশ্রম।
শিরোনামটি পড়লে প্রথমে হয়তো মনে হবে, এটি একজন সফল মানুষের গল্প। আসলে এটি সাফল্যের পরও জীবনের কোথাও কোথাও কী ভয়াবহ শূন্যতা তৈরি হতে পারে, সেই গল্প।
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার এই বৃদ্ধাশ্রমে এখন প্রায় ৭০ জন প্রবীণ মানুষের বসবাস। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, তাঁদের কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, কেউ সন্তানদের কাছ থেকে দূরে, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে আপনজনের অপেক্ষায় আছেন। এখানে তাঁদের খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু একটি জিনিস কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি দিতে পারে না, সেটি হলো আপন মানুষের সঙ্গ। তথ্যসূত্র যুগান্তর
রুমা বেগম তাঁদেরই একজন।
একসময় তাঁর পরিচয় ছিল মেধা ও সাফল্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া নিশ্চয়ই জীবনের বড় অর্জন। অথচ বয়সের ভারে আজ তাঁর সামনে পড়ে আছে অন্য এক বাস্তবতা। দীর্ঘ সময় চুপচাপ বসে থাকা, নতুন মানুষদের সঙ্গে কথা বলা, পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া আর নিজের জীবনের ফেলে আসা মানুষগুলোর কথা মনে করা।
কী অদ্ভুত জীবন!
একসময় পরীক্ষার ফলাফলের তালিকায় সবার ওপরে থাকা একজন মানুষ আজ জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এই পরীক্ষার কোনো প্রশ্নপত্র নেই, কোনো ফলাফল প্রকাশ হয় না। শুধু আছে অপেক্ষা।
রুমার মতো এই বৃদ্ধাশ্রমে আছেন আসমা, খাদেজা, অঞ্জলী, উষা রানী, বানু ও কহিনূর বেগম। নামগুলো আলাদা, জীবনের গল্পও আলাদা। কিন্তু তাঁদের কথার ভেতরে একটি জায়গায় যেন মিল আছে, বয়সের শেষ প্রান্তে এসে তাঁরা আপন মানুষের সান্নিধ্য খুঁজছেন।
অঞ্জলী রানীর চাওয়াটা আরও ছোট। তাঁর ভাষায়, শেষ বয়সে আর কিছুই চান না। সন্তানরা কাছে এসে একটু বসুক, দুটো কথা বলুক। এতটুকুই।
সারা জীবন সন্তানদের জন্য কত মা-বাবা নিজের স্বপ্ন, আরাম, অর্থ, সময় সবকিছু বিসর্জন দেন। সন্তান বড় হয়, নিজের সংসার হয়, নিজের পৃথিবী তৈরি হয়। তারপর কখনো কখনো সেই পৃথিবীতে বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য জায়গাটা ছোট হতে হতে একসময় একেবারেই হারিয়ে যায়।
তখন একটি বৃদ্ধাশ্রম শুধু একটি ভবন নয়। সেটি হয়ে যায় অনেক মানুষের হারিয়ে যাওয়া ঘরের বিকল্প ঠিকানা।
আর এই ঠিকানাটিও সহজে টিকে নেই। বৃদ্ধাশ্রমটির পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছেন। ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দানবাক্স নিয়ে মানুষের কাছ থেকে সহায়তা সংগ্রহ করে এই প্রবীণদের খাবার ও প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। আরেক প্রতিবেদনে জানা যায়, সেখানে কর্মীদের পাশাপাশি নার্স ও থেরাপিস্টের ব্যবস্থাও রয়েছে এবং বাসিন্দাদের তিনবেলা খাবার দেওয়া হয়।
সেপ্টেম্বরেও এই বৃদ্ধাশ্রমের ৭০ জন বাসিন্দার জন্য মগ ও পানির জগসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটি শুধু আশ্রয় নয়, প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবনটুকু যতটা সম্ভব নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখারও চেষ্টা করছে।
তবু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়।
আমরা সন্তানদের শিক্ষিত করি, প্রতিষ্ঠিত করি, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিই। কিন্তু তাঁদের কি শেখাই, বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে বসে পাঁচ মিনিট কথা বলাটাও দায়িত্ব?
রুমা বেগম হয়তো জীবনের একটি পরীক্ষায় ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ে এসে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কোনো সার্টিফিকেট নয়, কোনো পদমর্যাদা নয়, কোনো অর্থও নয়।
প্রয়োজন একজন মানুষ।
যে মানুষটি পাশে বসে বলবে, “রুমা আপা, কেমন আছেন?”
হয়তো এই একটি প্রশ্নই কোনো কোনো বৃদ্ধাশ্রমের সবচেয়ে বড় ওষুধ।

M Miraz Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট একটি বৃদ্ধাশ্রম।

প্রকাশের সময় : ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন রুমা বেগম। মেধা, শিক্ষা আর সাফল্য দিয়ে একসময় নিজের জীবনের গল্প লেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে সেই রুমার ঠিকানা হয়েছে বরিশালের একটি বৃদ্ধাশ্রম।
শিরোনামটি পড়লে প্রথমে হয়তো মনে হবে, এটি একজন সফল মানুষের গল্প। আসলে এটি সাফল্যের পরও জীবনের কোথাও কোথাও কী ভয়াবহ শূন্যতা তৈরি হতে পারে, সেই গল্প।
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার এই বৃদ্ধাশ্রমে এখন প্রায় ৭০ জন প্রবীণ মানুষের বসবাস। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, তাঁদের কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, কেউ সন্তানদের কাছ থেকে দূরে, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে আপনজনের অপেক্ষায় আছেন। এখানে তাঁদের খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু একটি জিনিস কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি দিতে পারে না, সেটি হলো আপন মানুষের সঙ্গ। তথ্যসূত্র যুগান্তর
রুমা বেগম তাঁদেরই একজন।
একসময় তাঁর পরিচয় ছিল মেধা ও সাফল্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া নিশ্চয়ই জীবনের বড় অর্জন। অথচ বয়সের ভারে আজ তাঁর সামনে পড়ে আছে অন্য এক বাস্তবতা। দীর্ঘ সময় চুপচাপ বসে থাকা, নতুন মানুষদের সঙ্গে কথা বলা, পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া আর নিজের জীবনের ফেলে আসা মানুষগুলোর কথা মনে করা।
কী অদ্ভুত জীবন!
একসময় পরীক্ষার ফলাফলের তালিকায় সবার ওপরে থাকা একজন মানুষ আজ জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এই পরীক্ষার কোনো প্রশ্নপত্র নেই, কোনো ফলাফল প্রকাশ হয় না। শুধু আছে অপেক্ষা।
রুমার মতো এই বৃদ্ধাশ্রমে আছেন আসমা, খাদেজা, অঞ্জলী, উষা রানী, বানু ও কহিনূর বেগম। নামগুলো আলাদা, জীবনের গল্পও আলাদা। কিন্তু তাঁদের কথার ভেতরে একটি জায়গায় যেন মিল আছে, বয়সের শেষ প্রান্তে এসে তাঁরা আপন মানুষের সান্নিধ্য খুঁজছেন।
অঞ্জলী রানীর চাওয়াটা আরও ছোট। তাঁর ভাষায়, শেষ বয়সে আর কিছুই চান না। সন্তানরা কাছে এসে একটু বসুক, দুটো কথা বলুক। এতটুকুই।
সারা জীবন সন্তানদের জন্য কত মা-বাবা নিজের স্বপ্ন, আরাম, অর্থ, সময় সবকিছু বিসর্জন দেন। সন্তান বড় হয়, নিজের সংসার হয়, নিজের পৃথিবী তৈরি হয়। তারপর কখনো কখনো সেই পৃথিবীতে বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য জায়গাটা ছোট হতে হতে একসময় একেবারেই হারিয়ে যায়।
তখন একটি বৃদ্ধাশ্রম শুধু একটি ভবন নয়। সেটি হয়ে যায় অনেক মানুষের হারিয়ে যাওয়া ঘরের বিকল্প ঠিকানা।
আর এই ঠিকানাটিও সহজে টিকে নেই। বৃদ্ধাশ্রমটির পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছেন। ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দানবাক্স নিয়ে মানুষের কাছ থেকে সহায়তা সংগ্রহ করে এই প্রবীণদের খাবার ও প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। আরেক প্রতিবেদনে জানা যায়, সেখানে কর্মীদের পাশাপাশি নার্স ও থেরাপিস্টের ব্যবস্থাও রয়েছে এবং বাসিন্দাদের তিনবেলা খাবার দেওয়া হয়।
সেপ্টেম্বরেও এই বৃদ্ধাশ্রমের ৭০ জন বাসিন্দার জন্য মগ ও পানির জগসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটি শুধু আশ্রয় নয়, প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবনটুকু যতটা সম্ভব নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখারও চেষ্টা করছে।
তবু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়।
আমরা সন্তানদের শিক্ষিত করি, প্রতিষ্ঠিত করি, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিই। কিন্তু তাঁদের কি শেখাই, বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে বসে পাঁচ মিনিট কথা বলাটাও দায়িত্ব?
রুমা বেগম হয়তো জীবনের একটি পরীক্ষায় ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ে এসে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কোনো সার্টিফিকেট নয়, কোনো পদমর্যাদা নয়, কোনো অর্থও নয়।
প্রয়োজন একজন মানুষ।
যে মানুষটি পাশে বসে বলবে, “রুমা আপা, কেমন আছেন?”
হয়তো এই একটি প্রশ্নই কোনো কোনো বৃদ্ধাশ্রমের সবচেয়ে বড় ওষুধ।

M Miraz Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।