, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

আওয়ামী লীগ নিয়ে সমঝোতার নেপথ্যে ত্রিবেদী

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ পড়া হয়েছে
অনলাইন বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬
আওয়ামী লীগ নিয়ে সমঝোতার নেপথ্যে ত্রিবেদী
কূটনীতিক প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে সরকারের তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের পর নেপথ্যে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবজমিন-এ প্রকাশিত তথ্য এবং কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ ধারণা নয়। ‘মাঝখান থেকে কেউ’ উদ্যোগ নিতে চাইলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে পারেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
একই সময়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকা-দিল্লি তৎপরতা সামনে এসেছে। ৫ অক্টোবর রাতে তিনি ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি যান। পরদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান আলোচনায় আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
এর আগেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পর ত্রিবেদী দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ফলে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তার ভূমিকা এখন নজরে রয়েছে।
সমঝোতার আলোচনায় ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিতে হলে দিল্লির সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যেও তৃতীয় পক্ষকে সরাসরি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে।
ত্রিবেদী নিজেও সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন তিনি।
তবে ভারত বা বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত দীনেশ ত্রিবেদীকে কোনো রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঘোষণা করেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা আলোচনা শুরু হওয়ারও নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে দিল্লির মধ্যস্থতার বিষয়টি এখনো কূটনৈতিক সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তারপরও ঘটনাগুলোর সময়কাল প্রশ্ন তৈরি করছে। একদিকে সরকারের তথ্য উপদেষ্টা প্রকাশ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগের কথা বলছেন, অন্যদিকে একই সময়ে ভারতের হাইকমিশনার দিল্লিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করছেন।
এখন মূল প্রশ্ন, এটি কি বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা, নাকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে পর্দার আড়ালে নতুন কোনো সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা চলছে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও কূটনীতিক পরবর্তী পদক্ষেপের কি হচ্ছে তার উপর।

Abar71 / আবার৭১’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

আওয়ামী লীগ নিয়ে সমঝোতার নেপথ্যে ত্রিবেদী

প্রকাশের সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬
আওয়ামী লীগ নিয়ে সমঝোতার নেপথ্যে ত্রিবেদী
কূটনীতিক প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে সরকারের তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের পর নেপথ্যে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবজমিন-এ প্রকাশিত তথ্য এবং কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ ধারণা নয়। ‘মাঝখান থেকে কেউ’ উদ্যোগ নিতে চাইলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে পারেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
একই সময়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকা-দিল্লি তৎপরতা সামনে এসেছে। ৫ অক্টোবর রাতে তিনি ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি যান। পরদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান আলোচনায় আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
এর আগেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পর ত্রিবেদী দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ফলে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তার ভূমিকা এখন নজরে রয়েছে।
সমঝোতার আলোচনায় ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিতে হলে দিল্লির সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যেও তৃতীয় পক্ষকে সরাসরি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে।
ত্রিবেদী নিজেও সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন তিনি।
তবে ভারত বা বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত দীনেশ ত্রিবেদীকে কোনো রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঘোষণা করেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা আলোচনা শুরু হওয়ারও নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে দিল্লির মধ্যস্থতার বিষয়টি এখনো কূটনৈতিক সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তারপরও ঘটনাগুলোর সময়কাল প্রশ্ন তৈরি করছে। একদিকে সরকারের তথ্য উপদেষ্টা প্রকাশ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগের কথা বলছেন, অন্যদিকে একই সময়ে ভারতের হাইকমিশনার দিল্লিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করছেন।
এখন মূল প্রশ্ন, এটি কি বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা, নাকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে পর্দার আড়ালে নতুন কোনো সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা চলছে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও কূটনীতিক পরবর্তী পদক্ষেপের কি হচ্ছে তার উপর।

Abar71 / আবার৭১’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।