বিপুল এ অর্থ ব্যয় করেও নগরের জলজট না কমার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো-প্রথমত খুলনা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান ৩০ থেকে ৬০ ফুট চওড়া ২২টি প্রাকৃতিক খালকে সরু কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা, অপরিকল্পিত নগরায়ণে জলাধার-পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা এবং পানি নিষ্কাশনে ড্রেনগুলোর তলদেশে সঠিক ঢাল বজায় না রেখে রাস্তা-ড্রেন তিন থেকে চার ফুট উঁচু করাই মূলত দায়ী। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সম্পাদক কুদরত-ই খুদা বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্প এখন সিটি করপোরেশনের গলার কাঁটা। ত্রুটিপূর্ণ নকশায় সড়ক-ড্রেন উঁচু করায় শহরের হাজার হাজার বাড়িঘর ড্রেনের উচ্চতার তুলনায় নিচে চলে গেছে। প্রকল্প সুপারভিশন কাজে যুক্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলী বলেন, সার্ভে ডিজাইন করার সময় সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতার রিডিউস লেভেল (আরএল) মেথডে শহরের বিভিন্ন স্থানে বেঞ্চমার্ক তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কোথাও কোথাও রাস্তা-ড্রেন উঁচু করা হয়। তিনি বলেন, মুজগুন্নি এলাকার রাস্তা ওয়াটার লেভেলের নিচে, বৃষ্টিতে সেখানে পানি জমে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। তাহলে উপায় কি? রাস্তা উঁচু করতে হবে। আর রাস্তা উঁচু হলে সারাউন্ডিং এরিয়া ডুবে যাবে-এটাই স্বাভাবিক। তবে অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী দাবি করেন, প্রকল্পে বড় সমস্যা এর ফিজিবিলিটি স্টাডিতে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। কোথা থেকে কী পরিমাণ পানি কোথায় নেওয়া হবে ফিজিবিলিটি স্টাডিতে তা ছিল না। আমাদেরকে আগে থেকে কত কিলোমিটার ড্রেন কত টাকায় কোথায় নির্মাণ করা হবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ডিজাইনে হ্যাম্পার করে আমাদের মতো কাজ করতে দেওয়া হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাংলাদেশ বলেন, ডিজাইনে চওড়া খাল ও ড্রেন সরু করে পানির ধারণ ক্ষমতা কমানো হয়েছে। সড়ক ও ড্রেনের বেড উঁচু করা হয়েছে। এত উঁচু করে ড্রেন করার প্রয়োজন ছিল না। শহরের মধ্য দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ২২টি প্রধান খাল ছিল। সেই খালগুলোকে সামনে রেখে ডিজাইন করা উচিত ছিল। পানি স্বাভাবিকভাবে ঢালুতে নামবে। কিন্তু যেখানে ঢালু সেখানে রাস্তা উঁচু করা হয়েছে। ফলে পানি বের হতে পারছে না।






















