, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজার লেখা “আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি: ইস্ট পাকিস্তান ১৯৬৯-১৯৭১

  • প্রকাশের সময় : ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ পড়া হয়েছে

জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজার লেখা “আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি: ইস্ট পাকিস্তান ১৯৬৯-১৯৭১” বইটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল, কারণ এটি একজন শীর্ষ পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। তিনি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (GOC) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তার বইটিতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং বাঙালি সেনাদের নিয়ে তিনি যে বিস্তারিত সামরিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
বইটিতে তিনি পাকিস্তানের সামরিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী (বাঙালি) নিয়ে “পিওর ব্যাটালিয়ন” (Pure battalions) গঠন করা পাকিস্তানের মতো একটি বিভক্ত রাষ্ট্রের জন্য বড় ভুল ছিল। তিনি মনে করতেন, সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো হওয়া উচিত মিশ্র (Mixed), যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানি এবং বাঙালি সেনারা একসঙ্গে থাকবে। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে গড়ে তোলায়, এটি পরোক্ষভাবে একটি “আলাদা সেনাবাহিনী” বা “বাঙালি সেনাবাহিনীতে” রূপ নিচ্ছিল, যা পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন খাদিম হুসেইন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী মিলে সামরিক অভিযানের নকশা বা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ তৈরি করেন। এই অপারেশনের প্রথম এবং প্রধান টার্গেটই ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)। রাজা তাঁর বইয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, বাঙালি সেনাদের হাতে অস্ত্র রেখে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা অসম্ভব ছিল। তাই “পাকিস্তান রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার” সামরিক কৌশল হিসেবেই তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, সবার আগে বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে অতর্কিতে আক্রমণ করে তাদের নিরস্ত্র (Disarm) করতে হবে।
বইটিতে তিনি পাকিস্তানের সামরিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী (বাঙালি) নিয়ে “পিওর ব্যাটালিয়ন” (Pure battalions) গঠন করা পাকিস্তানের মতো একটি বিভক্ত রাষ্ট্রের জন্য বড় ভুল ছিল। তিনি মনে করতেন, সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো হওয়া উচিত মিশ্র (Mixed), যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানি এবং বাঙালি সেনারা একসঙ্গে থাকবে। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে গড়ে তোলায়, এটি পরোক্ষভাবে একটি “আলাদা সেনাবাহিনী” বা “বাঙালি সেনাবাহিনীতে” রূপ নিচ্ছিল, যা পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

The Saifullah’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজার লেখা “আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি: ইস্ট পাকিস্তান ১৯৬৯-১৯৭১

প্রকাশের সময় : ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজার লেখা “আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি: ইস্ট পাকিস্তান ১৯৬৯-১৯৭১” বইটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল, কারণ এটি একজন শীর্ষ পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। তিনি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (GOC) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তার বইটিতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং বাঙালি সেনাদের নিয়ে তিনি যে বিস্তারিত সামরিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
বইটিতে তিনি পাকিস্তানের সামরিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী (বাঙালি) নিয়ে “পিওর ব্যাটালিয়ন” (Pure battalions) গঠন করা পাকিস্তানের মতো একটি বিভক্ত রাষ্ট্রের জন্য বড় ভুল ছিল। তিনি মনে করতেন, সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো হওয়া উচিত মিশ্র (Mixed), যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানি এবং বাঙালি সেনারা একসঙ্গে থাকবে। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে গড়ে তোলায়, এটি পরোক্ষভাবে একটি “আলাদা সেনাবাহিনী” বা “বাঙালি সেনাবাহিনীতে” রূপ নিচ্ছিল, যা পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন খাদিম হুসেইন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী মিলে সামরিক অভিযানের নকশা বা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ তৈরি করেন। এই অপারেশনের প্রথম এবং প্রধান টার্গেটই ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)। রাজা তাঁর বইয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, বাঙালি সেনাদের হাতে অস্ত্র রেখে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা অসম্ভব ছিল। তাই “পাকিস্তান রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার” সামরিক কৌশল হিসেবেই তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, সবার আগে বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে অতর্কিতে আক্রমণ করে তাদের নিরস্ত্র (Disarm) করতে হবে।
বইটিতে তিনি পাকিস্তানের সামরিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী (বাঙালি) নিয়ে “পিওর ব্যাটালিয়ন” (Pure battalions) গঠন করা পাকিস্তানের মতো একটি বিভক্ত রাষ্ট্রের জন্য বড় ভুল ছিল। তিনি মনে করতেন, সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো হওয়া উচিত মিশ্র (Mixed), যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানি এবং বাঙালি সেনারা একসঙ্গে থাকবে। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে গড়ে তোলায়, এটি পরোক্ষভাবে একটি “আলাদা সেনাবাহিনী” বা “বাঙালি সেনাবাহিনীতে” রূপ নিচ্ছিল, যা পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

The Saifullah’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।