, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

– ডোভাল-ওয়াকার কথিত বৈঠক: ঢাকা-দিল্লি অক্ষে কী ঘটছে নেপথ্যে?

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩১ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার,২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👉:- ডোভাল-ওয়াকার কথিত বৈঠক: ঢাকা-দিল্লি অক্ষে কী ঘটছে নেপথ্যে?
👇:- কূটনৈতিক প্রতিবেদক / বিশেষ বিশ্লেষণ:-
👉:- ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে একটি অত্যন্ত গোপনীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে গত কিছুদিন ধরে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কানাঘুষা চলছে।
বলা হচ্ছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অত্যন্ত সংগোপনে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফর করেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ নীতি-নির্ধারক অজিত ডোভাল। তবে এই কথিত সফর নিয়ে সবচেয়ে রহস্যময় দিক হলো—আজ পর্যন্ত ঢাকা কিংবা দিল্লি, কোনো দেশের সরকারই এ বৈঠকের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত (Confirm) বা অস্বীকার (Deny) করেনি। শীর্ষ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াও তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে লিখেছে—‘Neither side has confirmed or denied’।
যদি কূটনৈতিক বা কৌশলগত কোনো প্রয়োজনে এই অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েও থাকে, তবে তা বর্তমান দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তিনটি মৌলিক ও গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়:-তিনটি বড় প্রশ্ন ও ভূ-রাজনীতির সমীকরণ:
১. ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় প্রদান:-২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে যে, সেদিন ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াটি কি তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি যোগাযোগের প্রেক্ষিতেই হয়েছিল? নাকি এটি ছিল দিল্লির নিজস্ব তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত?
২. পুতিন-হাসিনা কথিত ফোনালাপ ও মস্কোর ভূমিকা:-ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও শেখ হাসিনার মধ্যে প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী একটি টেলিফোন আলাপ হয়েছে বলে গুঞ্জন ওঠে। যদিও ভারতের কট্টরপন্থী সাময়িকী ‘Organiser’ নিজেই এ খবরকে ‘অনিশ্চিত বা অপ্রমাণিত সূত্র’ (Unconfirmed reports) বলে উল্লেখ করেছে।
তবে এ গুঞ্জন থেকে একটি প্রশ্ন পরিষ্কার—বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও দিল্লির পাশাপাশি মস্কোও কি নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্রিয় হচ্ছে?
৩. ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান ও দূতের দৌড়ঝাঁপ:-মার্কিন বিশেষ দূতদের ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা কি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন তার পুরনো নীতি পুনর্বিবেচনা করছে?
অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক দল ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত কি কোনো একক যৌথ ফর্মুলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে?
গুজব বনাম বাস্তব কৌশলগত দরকষাকষি-বর্তমান উত্তাল রাজনৈতিক আবহে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের চটকদার তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ছে—যার মধ্যে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’, তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতি কিংবা মিরপুরের বিইউপিতে (BUP) কাল্পনিক বৈঠকের গল্প অন্যতম। তবে তথ্য বিশ্লেষকদের মতে, এগুলোর পেছনে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্যসূত্র নেই।
এগুলোকে নিরেট সত্য হিসেবে না দেখে বরং বড় পরাশক্তিগুলোর (ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া) বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও কূটনৈতিক ‘দরকষাকষি’ (Bargaining) হিসেবে দেখাই যৌক্তিক। উপসংহার: নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেকোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রূপরেখা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো কথিত গোপন বৈঠকের ওপর নয়, বরং নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরের বাস্তব শক্তির ভারসাম্যের ওপর। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের গতিপথ ঠিক কী হবে, তা নির্ধারিত হবে দেশের সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দলগুলোর দূরদর্শিতা এবং এ দেশের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করেই—বাইরের কোনো অদৃশ্য সমীকরণে নয়।

MD Baizid Sarkar’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

– ডোভাল-ওয়াকার কথিত বৈঠক: ঢাকা-দিল্লি অক্ষে কী ঘটছে নেপথ্যে?

প্রকাশের সময় : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন সোমবার,২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👉:- ডোভাল-ওয়াকার কথিত বৈঠক: ঢাকা-দিল্লি অক্ষে কী ঘটছে নেপথ্যে?
👇:- কূটনৈতিক প্রতিবেদক / বিশেষ বিশ্লেষণ:-
👉:- ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে একটি অত্যন্ত গোপনীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে গত কিছুদিন ধরে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কানাঘুষা চলছে।
বলা হচ্ছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অত্যন্ত সংগোপনে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফর করেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ নীতি-নির্ধারক অজিত ডোভাল। তবে এই কথিত সফর নিয়ে সবচেয়ে রহস্যময় দিক হলো—আজ পর্যন্ত ঢাকা কিংবা দিল্লি, কোনো দেশের সরকারই এ বৈঠকের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত (Confirm) বা অস্বীকার (Deny) করেনি। শীর্ষ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াও তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে লিখেছে—‘Neither side has confirmed or denied’।
যদি কূটনৈতিক বা কৌশলগত কোনো প্রয়োজনে এই অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েও থাকে, তবে তা বর্তমান দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তিনটি মৌলিক ও গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়:-তিনটি বড় প্রশ্ন ও ভূ-রাজনীতির সমীকরণ:
১. ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় প্রদান:-২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে যে, সেদিন ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াটি কি তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি যোগাযোগের প্রেক্ষিতেই হয়েছিল? নাকি এটি ছিল দিল্লির নিজস্ব তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত?
২. পুতিন-হাসিনা কথিত ফোনালাপ ও মস্কোর ভূমিকা:-ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও শেখ হাসিনার মধ্যে প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী একটি টেলিফোন আলাপ হয়েছে বলে গুঞ্জন ওঠে। যদিও ভারতের কট্টরপন্থী সাময়িকী ‘Organiser’ নিজেই এ খবরকে ‘অনিশ্চিত বা অপ্রমাণিত সূত্র’ (Unconfirmed reports) বলে উল্লেখ করেছে।
তবে এ গুঞ্জন থেকে একটি প্রশ্ন পরিষ্কার—বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও দিল্লির পাশাপাশি মস্কোও কি নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্রিয় হচ্ছে?
৩. ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান ও দূতের দৌড়ঝাঁপ:-মার্কিন বিশেষ দূতদের ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা কি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন তার পুরনো নীতি পুনর্বিবেচনা করছে?
অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক দল ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত কি কোনো একক যৌথ ফর্মুলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে?
গুজব বনাম বাস্তব কৌশলগত দরকষাকষি-বর্তমান উত্তাল রাজনৈতিক আবহে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের চটকদার তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ছে—যার মধ্যে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’, তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতি কিংবা মিরপুরের বিইউপিতে (BUP) কাল্পনিক বৈঠকের গল্প অন্যতম। তবে তথ্য বিশ্লেষকদের মতে, এগুলোর পেছনে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্যসূত্র নেই।
এগুলোকে নিরেট সত্য হিসেবে না দেখে বরং বড় পরাশক্তিগুলোর (ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া) বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও কূটনৈতিক ‘দরকষাকষি’ (Bargaining) হিসেবে দেখাই যৌক্তিক। উপসংহার: নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেকোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রূপরেখা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো কথিত গোপন বৈঠকের ওপর নয়, বরং নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরের বাস্তব শক্তির ভারসাম্যের ওপর। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের গতিপথ ঠিক কী হবে, তা নির্ধারিত হবে দেশের সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দলগুলোর দূরদর্শিতা এবং এ দেশের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করেই—বাইরের কোনো অদৃশ্য সমীকরণে নয়।

MD Baizid Sarkar’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।