, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা:কুত্তামিজান’সহ১৫ জন জড়িত

  • প্রকাশের সময় : ০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৪ পড়া হয়েছে
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহত আলতাব হোসেন ঢাকার মালিবাগে এসবির কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি বড়দেশি এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা সিটি এলাকায় তার দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মসজিদের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকেও মারধর করা হয়। তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।

আলতাবের কাছে তার ছোট ছেলে আরিফুল ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এসময় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম কারখানায় ছিলেন না। পরে আরিফুল ও তার বাবা কারখানার বাইরে বের হন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের দাবি, গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরিবারের ভাষ্য, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘সাদা প্রাইভেট কারে এসে নেশা করতেন’

নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ছুটি থাকায় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। শরিফুলের অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে দিয়ে নিয়মিত ঘোরাফেরা করত। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকতেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের কারখানার বাম পাশে একটি জায়গায় বালু ফেলায় সেখানে মাঠের মতো জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই স্থানে ওই ব্যক্তিরা নেশা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গ্রেফতার এক

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে। আবুল কাশেম, ‘কুত্তা মিজান’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন এ ঘটনায়১৫ জন ছিলেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা:কুত্তামিজান’সহ১৫ জন জড়িত

প্রকাশের সময় : ০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন,রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহত আলতাব হোসেন ঢাকার মালিবাগে এসবির কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি বড়দেশি এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা সিটি এলাকায় তার দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মসজিদের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকেও মারধর করা হয়। তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।

আলতাবের কাছে তার ছোট ছেলে আরিফুল ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এসময় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম কারখানায় ছিলেন না। পরে আরিফুল ও তার বাবা কারখানার বাইরে বের হন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের দাবি, গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরিবারের ভাষ্য, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘সাদা প্রাইভেট কারে এসে নেশা করতেন’

নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ছুটি থাকায় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। শরিফুলের অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে দিয়ে নিয়মিত ঘোরাফেরা করত। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকতেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের কারখানার বাম পাশে একটি জায়গায় বালু ফেলায় সেখানে মাঠের মতো জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই স্থানে ওই ব্যক্তিরা নেশা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গ্রেফতার এক

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে। আবুল কাশেম, ‘কুত্তা মিজান’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন এ ঘটনায়১৫ জন ছিলেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।