, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি-ডিম-আটা-মুরগি

  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৯ পড়া হয়েছে

অনলাইন শুক্রবার০৪সেপ্টেম্বর ২০২৬

এদিকে নতুন করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেশকিছু পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাসান তালুকদার বলেন, ভোজ্যতেলের দাম, আটা-ময়দা, চিনি, সব ধরনের ডাল, গুঁড়া দুধ, সাবান, ওয়াশিং পাউডারসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই উচ্চমূল্যে ডিম বিক্রি হচ্ছে। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল। বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত দুই কেজির আটা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও একই আটা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। খোলা আটার দামও বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা।

মাছের বাজারে অবশ্য স্বস্তি ফেরেনি। চলতি সপ্তাহের বাজারদরে তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ইলিশের দামও বেশ চড়া; ৯০০ থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২,২৫০ থেকে ২,৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের অনেকে মাছ কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন।

মুরগির বাজারেও বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণে ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাড্ডার মাছ ব্যবসায়ী আবির ইসলাম বলেন, নানা কারণে মাছের সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হারে। এ দাম সহজে কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান।

মহাখালী কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা মধুবাগের বাসিন্দা সামিয়া জাহান বলেন, সবজির দাম কিছুটা সহনীয় হলেও সব পণ্যই তো বাড়তির দিকে। বাজারে ডিম ও মাছের দাম অনেক বাড়তি। এতে আমাদের মতো মানুষের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ কম থাকার অজুুহাতে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। বাজারে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০, শসা ৫০ থেকে ৬০, করলা ৮০, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ও আলুর দামে অবশ্য তেমন পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের চড়া দাম এবং ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বাজারের চাপ কমেনি। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শুধু একটি-দুটি পণ্যের দাম কমানো নয়, বরং সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

 

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি-ডিম-আটা-মুরগি

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন শুক্রবার০৪সেপ্টেম্বর ২০২৬

এদিকে নতুন করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেশকিছু পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাসান তালুকদার বলেন, ভোজ্যতেলের দাম, আটা-ময়দা, চিনি, সব ধরনের ডাল, গুঁড়া দুধ, সাবান, ওয়াশিং পাউডারসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই উচ্চমূল্যে ডিম বিক্রি হচ্ছে। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল। বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত দুই কেজির আটা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও একই আটা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। খোলা আটার দামও বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা।

মাছের বাজারে অবশ্য স্বস্তি ফেরেনি। চলতি সপ্তাহের বাজারদরে তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ইলিশের দামও বেশ চড়া; ৯০০ থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২,২৫০ থেকে ২,৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের অনেকে মাছ কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন।

মুরগির বাজারেও বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণে ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাড্ডার মাছ ব্যবসায়ী আবির ইসলাম বলেন, নানা কারণে মাছের সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হারে। এ দাম সহজে কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান।

মহাখালী কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা মধুবাগের বাসিন্দা সামিয়া জাহান বলেন, সবজির দাম কিছুটা সহনীয় হলেও সব পণ্যই তো বাড়তির দিকে। বাজারে ডিম ও মাছের দাম অনেক বাড়তি। এতে আমাদের মতো মানুষের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ কম থাকার অজুুহাতে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। বাজারে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০, শসা ৫০ থেকে ৬০, করলা ৮০, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ও আলুর দামে অবশ্য তেমন পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের চড়া দাম এবং ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বাজারের চাপ কমেনি। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শুধু একটি-দুটি পণ্যের দাম কমানো নয়, বরং সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।