
অনলাইন বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনৈতিক আলোচনা ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘শারমিন চৌধুরী হাইলাইটস’-এ অংশ নিয়ে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘সেন্ট্রাল কমান্ড’ নিয়ে রনির বিশ্লেষণ:-গোলাম মাওলা রনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার প্রধান শর্ত হলো শক্তিশালী সেন্ট্রাল কমান্ড। কিন্তু এখন বিএনপির সেই সেন্ট্রাল কমান্ড কার্যকরভাবে কাজ করছে না। গত ১৭ বছর চরম প্রতিকূলতার মধ্যে দলটির সাংগঠনিক কমান্ড যাদের হাতে ন্যস্ত ছিল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং রাষ্ট্র ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সেই মানুষগুলোর হাতে আজ কার্যত কোনো কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ অবশিষ্ট নেই।”
মাঠপর্যায়ের বিশৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডের সংকট:-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলাম মাওলা রনির এই পর্যবেক্ষণটি সাম্প্রতিক নানা মাঠপর্যায়ের ঘটনার সাথে প্রাসঙ্গিক। ৫ আগস্টের পর থেকে সারা দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার ও শোকজ করা সত্ত্বেও তৃণমূলকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্র থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের একের পর এক ঘটনা প্রমাণ করে যে, দলের কমান্ডিং কাঠামোর সাথে মাঠপর্যায়ের সংযোগে কোথাও বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হয়েছে।
নেতৃত্বের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা:-আলোচনায় গোলাম মাওলা রনি ইঙ্গিত করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে জেল-জুলুম সহ্য করা নেতাদের তুলনায় নতুন করে ক্ষমতার বলয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের কারণে দলের ভেতরে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃশ্যমান কর্তৃত্ব থাকলেও তা তৃণমূল পর্যন্ত নিরঙ্কুশভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে বিএনপি যদি দ্রুত তাদের অভ্যন্তরীণ ‘চেইন অব কমান্ড’ পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তবে এই সমন্বয়হীনতা আগামী দিনগুলোতে দলটির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক জটিলতা ডেকে আনতে পারে
MD Baizid Sarkar’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















