
অনলাইন বৃহস্পতিবার০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুন্দরী প্রতিযোগিতার গাউন সাধারণত সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার জন্যই ডিজাইন করা হয়। ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় এবার ১১১টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি একটি পর্বে মিস ওয়ার্ল্ড উগান্ডা ত্রিভিয়া এল মুহোজা যে পোশাক পরেছেন, তা নজর কেড়েছে দর্শকমহলে। ‘ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড’ পর্বের জন্য তৈরি এ পোশাকের নকশার অনুপ্রেরণা মূলত সি সেকশন বা সিজারিয়ান সেকশন। এ গাউনে তুলে ধরা হয়েছে নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার শারীরিক জটিল প্রক্রিয়াটি।
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে কিশা আবদুল্লাহ জানান, এ আইডিয়ার সূচনা হয়েছিল একটি সাধারণ কিন্তু ভিন্নধর্মী চিন্তা থেকে। সন্তান জন্মদানের প্রতিটি স্তরকে হাইফ্যাশনে রূপ দেওয়ার ভাবনা কাজ করছিল।
কিশা বলেন, ‘সন্তানের জন্মের সময় মায়ের সি সেকশনের মধ্য দিয়ে যেতে হলে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, সেটি খুবই কঠিন। একটি একটি করে এত স্তর কেটে একটি শিশুর জন্ম দেওয়ার ভাবনাটি কত্যুর গাউনে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। আর তাই গাউনটির নাম রাখা হয় “লেয়ার্স অব লাইফ”।’
সে ভাবনা থেকেই একাধিক স্তর ও রঙে এই ওমব্রে গাউন (একেক স্তরে একেক রঙের কাপড় দিয়ে বানানো গাউন) বানানো হয়। পোশাকের প্রতিটি উপাদানই দারুণ ভূমিকা রেখেছে পৃথিবীতে একটি নতুন প্রাণ আনার গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে।
ডিজাইনার জানিয়েছেন, সি সেকশনের যে সাতটি স্তর ছবির মাধ্যমে আমরা দেখে থাকি, সেটাকেই গাউনের ওপর দেখাতে চেয়েছি। এমন করে অস্ত্রোপচারের জটিলতাকে ফ্যাশনের মাধ্যমে শিল্পরূপ দেওয়া নিয়ে ফ্যাশনবোদ্ধাদের তুমুল করতালি পাচ্ছেন কিশা।
প্রথমে একটি সাধারণ স্কেচের মাধ্যমে মিস উগান্ডার সঙ্গে ভাবনাটি শেয়ার করেন ডিজাইনার। তাঁর প্রাথমিক অনুমতির পরই কাগজ-কলমের এ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবনাকে পরিধানযোগ্য পোশাকে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়।
পোশাকে রঙের বিন্যাস ঠিক করাটা ছিল সবচেয়ে কঠিন ধাপ। প্রতিটি রঙের অনেক শেড কাপড়ে সহজলভ্য, ফলে পুরো দলকে একদম জুতসই রং বেছে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
যে ভাবনা থেকে গাউনটি বানিয়েছেন, সেটি যে এত মানুষকে ছুঁয়ে গেছে, এতেই কিশার ভালো লাগছে। সৃজনশীল ভাবনা যখন মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে, সেখানেই শিল্পীর সার্থকতা বলে মনে করেন তিনি। কিশা এ-ও মনে করেন, সি সেকশনের মতো একটি জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হলে মায়েদের কষ্ট কিছুটা হলেও অনুভব করার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: পিপলস, হিন্দুস্তান টাইমস ও খালিজ টাইমস





















