, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

মার্কিন রাষ্ট্রদূত দিল্লির ত্রিবেদী সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-ঢাকায় নেই খুব গুরুত্বপূর্ণ—টাইমিং?

  • প্রকাশের সময় : ১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ পড়া হয়েছে

·‎অনলাইন মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ত্রিবেদী দিল্লিতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত দোহায়, সেনাপ্রধানও দেশ-বিদেশে চক্করে—ঢাকার রাজনৈতিক হাঁড়িতে আসলে কী রান্না হচ্ছে? 😏
গত দুই-তিন দিনের ঘটনাগুলো একটু মিলিয়ে দেখছিলাম। আলাদা আলাদা করে দেখলে হয়তো সবই স্বাভাবিক। কূটনীতিকরা সফরে যাবেন, সেনাপ্রধান বিদেশ সফর করবেন—এ আর নতুন কী! কিন্তু ঘটনাগুলো যখন একটার পর একটা একই সময়ে সামনে আসে, তখন একটু কৌতূহল তো হয়ই।
কয়েক দিন ধরেই ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলছেন। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কথা হলো। এরপর হঠাৎ শেখ হাসিনাকে নিয়েও মুখ খুললেন। বললেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বিমান ভারতে যাওয়ার পর তাঁকে অবতরণ করতে দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে কার্যত আর কোনো উপায় ছিল না। বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত চেয়েছে, কিন্তু প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে—তাই কোনো সময়সীমা বলা যাচ্ছে না।
এদিকে ঢাকা থেকেও আবার বলা হচ্ছে, ভারতে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পথে বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আবার একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে, দিল্লির দিক থেকে নাকি কিছু “ইতিবাচক সংকেত”ও পাওয়া যাচ্ছে।
মানে একদিকে শেখ হাসিনা, আরেকদিকে তারেক রহমান, মাঝখানে ঢাকা-দিল্লি। কাহিনি এমনিতেই জমে উঠছিল।
এর মধ্যেই দীনেশ ত্রিবেদী হঠাৎ ঢাকা ছেড়ে দিল্লি!
খবরে বলা হচ্ছে, সঙ্গে নাকি “ঢাকার বার্তা”। দিল্লিতে গিয়ে আবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক।
এই জায়গাটাতেই আমার একটু খটকা লাগে। কী সেই “ঢাকার বার্তা”? শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিছু? তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে কিছু? নাকি ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের এমন কোনো নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে, যেটা আমরা এখনো বাইরে থেকে বুঝতে পারছি না?
আবার এর মধ্যে আমাদের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও দেখি বেশ ব্যস্ত। পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে নয় দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পথে। অস্ট্রেলিয়ায় সেখানকার সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের কর্মকর্তার সঙ্গেও বৈঠক, সামনে আবার ওয়াশিংটন।
তার মধ্যেই আরেক খবর—মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও ঢাকা ছেড়ে দোহার পথে।
এখন হিসাবটা দাঁড়াল কী?
ত্রিবেদী দিল্লিতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত দোহায়, সেনাপ্রধান অস্ট্রেলিয়া-আমেরিকা সফরে। আর ঢাকায় বসে আমরা শেখ হাসিনা, তারেক রহমান, দিল্লি আর ওয়াশিংটনের হিসাব মেলাচ্ছি! 😏
আমি বলছি না যে একটা ঘটনার সঙ্গে আরেকটার অবশ্যই যোগসূত্র আছে। সেটা বলার মতো তথ্যও এখনো সামনে নেই। কিন্তু রাজনীতিতে একটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ—টাইমিং।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির বক্তব্য, তাঁকে ফেরত পাঠানোর প্রসঙ্গ, ভারতে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঢাকার আপত্তি, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই সবকিছু যখন একই সময়ে আলোচনায়, ঠিক তখনই ভারতীয় হাইকমিশনারের দিল্লি ছোটা, মোদির সঙ্গে বৈঠক, সেনাপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর আর মার্কিন রাষ্ট্রদূতেরও ঢাকা ছাড়া।
এতগুলো জিনিস একসঙ্গে ঘটলে মানুষ একটু দুই আর দুই যোগ করবেই।
দুই আর দুই চার হচ্ছে, পাঁচ হচ্ছে, নাকি সাড়ে তিন—সেটা এখনই জানি না। 😄
আমি আপাতত হাঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে একটু গন্ধ নিচ্ছি।
ঢাকার রাজনৈতিক হাঁড়িতে আসলে কী রান্না হচ্ছে? শেখ হাসিনাকে ঘিরে কি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, নাকি সবাই যার যার কাজে গেছেন আর আমরাই বেশি গন্ধ পাচ্ছি?
সময়ই বলবে।
তবে হাঁড়ি যখন আগুনে, ধোঁয়াও যখন উঠছে—ঢাকনা কোনো একসময় খুলবেই।
তখনই দেখা যাবে ভেতরে খিচুড়ি, বিরিয়ানি—নাকি এমন কোনো নতুন রেসিপি, যার মেন্যু এখনো জনগণকে দেখানো হয়নি! 😏
Shakhawat Hossain’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

মার্কিন রাষ্ট্রদূত দিল্লির ত্রিবেদী সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-ঢাকায় নেই খুব গুরুত্বপূর্ণ—টাইমিং?

প্রকাশের সময় : ১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

·‎অনলাইন মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ত্রিবেদী দিল্লিতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত দোহায়, সেনাপ্রধানও দেশ-বিদেশে চক্করে—ঢাকার রাজনৈতিক হাঁড়িতে আসলে কী রান্না হচ্ছে? 😏
গত দুই-তিন দিনের ঘটনাগুলো একটু মিলিয়ে দেখছিলাম। আলাদা আলাদা করে দেখলে হয়তো সবই স্বাভাবিক। কূটনীতিকরা সফরে যাবেন, সেনাপ্রধান বিদেশ সফর করবেন—এ আর নতুন কী! কিন্তু ঘটনাগুলো যখন একটার পর একটা একই সময়ে সামনে আসে, তখন একটু কৌতূহল তো হয়ই।
কয়েক দিন ধরেই ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলছেন। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কথা হলো। এরপর হঠাৎ শেখ হাসিনাকে নিয়েও মুখ খুললেন। বললেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বিমান ভারতে যাওয়ার পর তাঁকে অবতরণ করতে দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে কার্যত আর কোনো উপায় ছিল না। বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত চেয়েছে, কিন্তু প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে—তাই কোনো সময়সীমা বলা যাচ্ছে না।
এদিকে ঢাকা থেকেও আবার বলা হচ্ছে, ভারতে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পথে বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আবার একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে, দিল্লির দিক থেকে নাকি কিছু “ইতিবাচক সংকেত”ও পাওয়া যাচ্ছে।
মানে একদিকে শেখ হাসিনা, আরেকদিকে তারেক রহমান, মাঝখানে ঢাকা-দিল্লি। কাহিনি এমনিতেই জমে উঠছিল।
এর মধ্যেই দীনেশ ত্রিবেদী হঠাৎ ঢাকা ছেড়ে দিল্লি!
খবরে বলা হচ্ছে, সঙ্গে নাকি “ঢাকার বার্তা”। দিল্লিতে গিয়ে আবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক।
এই জায়গাটাতেই আমার একটু খটকা লাগে। কী সেই “ঢাকার বার্তা”? শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিছু? তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে কিছু? নাকি ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের এমন কোনো নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে, যেটা আমরা এখনো বাইরে থেকে বুঝতে পারছি না?
আবার এর মধ্যে আমাদের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও দেখি বেশ ব্যস্ত। পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে নয় দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পথে। অস্ট্রেলিয়ায় সেখানকার সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের কর্মকর্তার সঙ্গেও বৈঠক, সামনে আবার ওয়াশিংটন।
তার মধ্যেই আরেক খবর—মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও ঢাকা ছেড়ে দোহার পথে।
এখন হিসাবটা দাঁড়াল কী?
ত্রিবেদী দিল্লিতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত দোহায়, সেনাপ্রধান অস্ট্রেলিয়া-আমেরিকা সফরে। আর ঢাকায় বসে আমরা শেখ হাসিনা, তারেক রহমান, দিল্লি আর ওয়াশিংটনের হিসাব মেলাচ্ছি! 😏
আমি বলছি না যে একটা ঘটনার সঙ্গে আরেকটার অবশ্যই যোগসূত্র আছে। সেটা বলার মতো তথ্যও এখনো সামনে নেই। কিন্তু রাজনীতিতে একটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ—টাইমিং।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির বক্তব্য, তাঁকে ফেরত পাঠানোর প্রসঙ্গ, ভারতে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঢাকার আপত্তি, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই সবকিছু যখন একই সময়ে আলোচনায়, ঠিক তখনই ভারতীয় হাইকমিশনারের দিল্লি ছোটা, মোদির সঙ্গে বৈঠক, সেনাপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর আর মার্কিন রাষ্ট্রদূতেরও ঢাকা ছাড়া।
এতগুলো জিনিস একসঙ্গে ঘটলে মানুষ একটু দুই আর দুই যোগ করবেই।
দুই আর দুই চার হচ্ছে, পাঁচ হচ্ছে, নাকি সাড়ে তিন—সেটা এখনই জানি না। 😄
আমি আপাতত হাঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে একটু গন্ধ নিচ্ছি।
ঢাকার রাজনৈতিক হাঁড়িতে আসলে কী রান্না হচ্ছে? শেখ হাসিনাকে ঘিরে কি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, নাকি সবাই যার যার কাজে গেছেন আর আমরাই বেশি গন্ধ পাচ্ছি?
সময়ই বলবে।
তবে হাঁড়ি যখন আগুনে, ধোঁয়াও যখন উঠছে—ঢাকনা কোনো একসময় খুলবেই।
তখনই দেখা যাবে ভেতরে খিচুড়ি, বিরিয়ানি—নাকি এমন কোনো নতুন রেসিপি, যার মেন্যু এখনো জনগণকে দেখানো হয়নি! 😏
Shakhawat Hossain’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।