
অনলাইন শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬
মৌসুমি আফা গো কোন কাহিনী মিছা কনচেন দেহি?১৯৯২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী সিদ্দিকুর রহমানের সাথে বিয়ে?এই যে কয়েকদিন আগে মৌসুমি আমার স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বা ব্যবহার করে যে কাউন্টার স্ট্যাটাস দিলেন এতে কি তার লাভ হয়েছে নাকি লোকসান হয়েছে?আমি বলবো তার লোকসান হয়েছে। কারণ এখন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বিশাল গর্ত থেকে আজদাহা সাপ বেরিয়ে এসেছে। এটা তিনি কিভাবে সুরাহা করবেন?হ্যাঁ আমি একশোবার বলবো মৌসুমি তার মা শামিমা আখতার জামানকে বিলবোর্ড বানিয়ে নিজের কলঙ্কিত অধ্যায় আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের সাথে দুটো নয়ন মনোহর ছবি তুলে একটা আবেগী প্যারাগ্রাফ লিখে ছেড়ে দিলেই কি তার তথাকথিত “কম্যুনিটি সেবা” জাস্টিফাই করা যাবে?নিউইয়র্ক কম্যুনিটির সবাই জানে মৌসুমি যেসব কর্ম করে বেড়াচ্ছেন। নিউইয়র্ক কম্যুনিটির বিশিষ্ট একজন জানিয়েছেন, প্রথমত মৌসুমির গ্রিনকার্ড নেই। তার গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন এখনো ঝুলে আছে। বর্তমানে গ্রিনকার্ড নেই বলে তিনি বাংলাদেশে যেতে পারছেন না। আগের পোস্টে আমি বলেছি মাসুদ রানা নামে এক ব্যবসায়ী মৌসুমির মাকে হোমকেয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আর সেই সুবাদে মৌসুমি সরকারের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছেন। মৌসুমি তার প্রিয় মাকে ডে’ কেয়ারে দিয়ে রেখেছেন। মাকে ডে’ কেয়ারে রেখে তিনি “বিশেষ সেবা” দিয়ে যাচ্ছেন। এসব কাজে তার প্রধান সহযোগী হল প্রিয় বান্ধবী বি গ্রেডের এক গায়িকা।
নব্বই দশকে মাত্র একটা সিনেমা “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” করেই বাজিমাত করেন মৌসুমি। ঠিক সেই সময় “প্রিয়জন” ম্যাগাজিনে বোমা ফাটায় সিদ্দিকুর রহমান। তার পরিচয় হল তিনি মৌসুমির স্বামী। প্রচ্ছদের হেডলাইন ছিল “বিয়ের ৬ মাসে মৌসুমির ডিভোর্স”!! অথচ গোটা ইন্ডাস্ট্রি জানতো মৌসুমি কুমারী। কেননা বিয়ের খবর তিনি গোপন করেছেন। সিদ্দিকুর রহমানের বাসা ছিল শাহজাহানপুর। তার বাবার নাম আলহাজ খলিলুর রহমান। তাদের ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা ছিল। মৌসুমির এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় হারুন অর রশিদের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। অর্থাৎ হারুন অর রশিদ ঘটকের দায়িত্ব পালন করেন। মৌসুমির এই বিয়ের কাহিনী সিনেমার মত। উচ্ছল সুদর্শন তরুণ সিদ্দিককে দেখেই তিনি পছন্দ করেন। পারিবারিকভাবে তারা একে অন্যের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। লং ড্রাইভে চলে যেতেন। কিন্তু হঠাৎ এক পর্যায়ে মৌসুমির মা বাবা বিয়ের তারিখ নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। কিন্তু ততদিনে মৌসুমি সিদ্দিককে ভালোবেসে ফেলেছেন। তাই বাবা মার উপর জেদ করে মৌসুমি সিদ্দিককে নিয়ে বাসাবো কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজেস্ট্রি করেন। বিয়ের দেনমোহর ধার্য্য করা হয় পাঁচ লক্ষ এক টাকা। ১৯৯২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী তাদের বিয়ে হয়।
আমার এই লেখার সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে পুরনো বইয়ের কয়েকটি পাতা এটাচ করে দেব। মৌসুমিকে নিয়ে মনগড়া বানোয়াট কাহিনী লিখে আমার কিসসু লাভ নেই। আমি কেবল সত্যকে তুলে এনে প্রকাশ করছি। যা তার অন্ধ ভক্তদের সহ্য হচ্ছেনা। ভক্ত হোন ঠিক আছে। কিন্তু মূর্খ ভক্ত হওয়া শুভ লক্ষ্মণ নয়। আমি তার ভালো কাজের প্রশংসা করেছি বলে খারাপ কাজের সমালোচনা করতে পারবো না- এটা কোন ডিকশিনারিতে লেখা আছে?সিদ্দিকের মা বাবা ছিলেন অত্যন্ত ধর্মভীরু। তাঁরা চাইতেন পুত্রবধূ নামাজ পড়ুক। কিন্তু মৌসুমির নামাজ পড়ার অভ্যাস ছিলনা। সিদ্দিক স্ত্রীকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে নামাজ পড়তে রাজি করান। সিদ্দিকের ভাষ্যমতে সেই বছর রমজান মাসে মৌসুমি তার জীবনে প্রথম আঠারোটি রোজা রাখেন। বিয়ের পর প্রথম ঈদে সিদ্দিক তার নবপরিণীতা স্ত্রীকে একসঙ্গে ছয়টি থ্রি-পিস, ছয় জোড়া জুতা, দুটি দামি কাতান শাড়ি এবং অলঙ্কারসহ সোয়া লাখ টাকার মার্কেটিং করে দেয়। বিয়ের দুইমাস পর মৌসুমি স্বামী বাবা ও ছোটবোন স্নিগ্ধাকে নিয়ে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে জেমস্ ফিনলের চা বাগানে যান। উদ্দেশ্য মেরিলের “স্প্রিং রেইন” শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে জীবনে প্রথম মডেল হওয়া এবং চা বাগানের মনোরম পরিবেশে হানিমুন যাপন। “ডিনস্টোন” নামের বাংলোয় তারা একরাত এবং আলাদাভাবে আরও দু’রাত কাটায়। আমার এই পোস্টের সাথে প্রমাণ স্বরুপ কয়েকটি পাতা যুক্ত করে দিলাম। মৌসুমি অনেক বড়মাপের অভিনেত্রী। কিন্তু তিনি তার ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। বর্তমানে নিউইয়র্ক কম্যুনিটিতে মৌসুমি প্রচন্ড বিতর্কিত একজন অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত।
Mili Sultana’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















