, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন তাঁদের সবাই কি লালবদর?

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

মাহবুব ভাইয়ের তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগি এই লেখাটি আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এটা সত্য যে জুলাই–আগস্টে সারাদেশব্যাপি লক্ষ লক্ষ লোক রাস্তায় নেমেছিল। যার মধ্য মেটিউকুলাস ডিজাইনে ডিপ স্টেটের ডলার ভোগিদের জঘন্য ভুমিকা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। তবে আমার মতে এই লক্ষ লক্ষ জনতার ৯৫% মানুষ ছিল না বুঝে সাপের বিষ ভক্ষনকারির মত। যারা পরবর্তীতে তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
তবে ডিপস্টেটের মেটিউকুলাস ডিজাইনাররা তাদের অবস্থানে অটুট রয়ে গেছে।
আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পোড়ানো ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, হাজার হাজার পুলিশ হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক গ্রেপ্তার-নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ, সারাদেশে মববাজি, মুক্তিযুদ্ধের সকল নিশানা ধ্বংস, এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের মতো ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধেও যারা প্রতিবাদ করে নাই—তাদের জুলাই–আগস্টের অবস্থানকে অবশ্যই সুবিধাবাদী ও লালবদরিয় বলা একেবারেই যৌক্তিক মনে করি।

Shared post from Mahbub Kamal

May be an image of one or more people and people smiling. No photo description available.. May be an image of text

Mahbub Kamal

 যাঁরা চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন তাঁদের সবাই কি লালবদর? অবশ্যই নয়, লালবদরের সংজ্ঞা সহজ। যাঁরা সেই সময়ে ছাত্রহত্যার অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিশাল প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে দেশব্যাপী চরম নৈরাজ্য, লুটপাট, ধর্ষণ, মব-সন্ত্রাস, চৌর্যবৃত্তির, এমন কি স্বাধীনতার প্রতীকগুলো ধ্বংস করার সময়ে টু-শব্দটিও করেন নি তাঁরাই লালবদর।

পার্থ বড়ুয়া একজন অনুতাপবিহীন প্রধান লালবদর। তাঁর পক্ষে যাঁরা সাফাই গাইছেন, কিংবা তাঁর অনুষ্ঠান লাইভ করছেন তাঁদের সম্পর্কে এতটুকুই বলতে পারি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তাঁদের অবশ্যই আছে তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ‘নিশান-বরদার’ তাঁরা হতে পারেন কি?
বহুদিন আগে বেগম খালেদা জিয়া একটি কঠিন সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, ‘পাগল ও শিশু ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ হতে পারে না’। আমি এর সাথে মূর্খ শব্দটিও যোগ করতে চাই। প্রবাসী সহ সকল বাংলাদেশিদের মাঝে দুটোই পক্ষ। একটি পক্ষে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সকল সমর্থক, অপর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের বিএনপি-জামাত-এনসিপি ও তাবৎ লালবদররা (বিএনপিকে যাঁরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বলে বিশ্বাস করেন তাঁরা মূর্খদের কাতারেই পড়েন)। যাঁরা আন্তরিকভাবেই মাঝামাঝি থাকার প্রয়াস করেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে একটাই প্রশ্ন, ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’।
পক্ষ একটা নিতেই হবে। লালবদরদের পরিহার করুন। তবে প্রতিবাদ হউক শানিত ও শালীন।
সবাইকে লালবদর বলে দূরে ঠেলে দেয়ার পক্ষপাতী আমি নই। তবে অনুতাপহীন লালবদরদের আমরা যেন ঠিকমতোই চিনে রাখি। এদের বুকে টেনে নেয়াটা সন্দেহের উদ্রেক করে।
গত জানুয়ারিতে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন পার্থ বড়ুয়া এবং নকীব খানের একটি আমলনামা লিখেছিলেন। তাঁর অনুমতি না নিয়েই হুবহু কপি করলাম। অশেষ কৃতজ্ঞতার সাথে রিটনকে ধন্যবাদ জানাই। Lutfor Rahman Riton
* পার্থ বড়ুয়ার পোস্টের ফোটোটিও রিটনের পোস্ট থেকে নেওয়া। দুই শিল্পীর ছবি রিটনের পোস্টে থাকলেও, আমার সংগ্রহেও ছিল।
*বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে না যাওয়া কেউ যখন বলেন ‘পার্থ বড়ুয়ার নয়, আইয়ুব বাচ্চু, তপন চৌধুরীর সোলসের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি’ তখন সন্দ্বীপের কবি আব্দুল হাকিমের যে পঙতিটির কথা মনে পড়ে যায় সেটি আর উদ্ধৃত করলাম না।
“আমরা তোমাদের ভুলবো না–০২
> লালবদর নকীব খান ও পার্থ বড়ুয়া
লুৎফর রহমান রিটন
বাংলা ব্যান্ড ‘সোলস’-এর দুই কৃতী ও জনপ্রিয় শিল্পী নকীব খান এবং পার্থ বড়ুয়া দিন শেষে লালবদর হিশেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৪ এর জুলাই আগস্টের সন্ত্রাসের সময় প্রোফাইল লাল করা লালবদর নয়, এরা আরও লাল। তারচে গাঢ় লাল।
প্রোফাইল লাল করা অনেকেই পরবর্তীতে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে নিজের সেই সময়ের অবস্থানের কারণে বিব্রত হয়েছেন। দু:খিত ও লজ্জিত হয়েছেন। কিন্তু এরা হননি। প্রোফাইল লাল করা প্রতারিত মানুষজন আমার লেখার সাবজেক্ট নন। তারা দেশের জন্যে ক্ষতিকরও নন। ক্ষতিকর তারাই যারা প্রোফাইল লাল করেছিলো ডিপস্টেটের ডলার খেয়ে। আমার এই লেখার সাবজেক্ট শুধুই তারা।
জার্মান নাৎসিদের Heil Hitler এর অনুকরণে পার্থ তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছিলেন Heil Dr Muhammad Yunus.
জুলাই ষড়যন্ত্রের তথাকথিত আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিলেন পার্থ।
২০২৫ এর মধ্য ফেব্রুয়ারিতে জুলাই জঙ্গীদের সনদ ঘোষণার দিন সংসদ প্লাজার উন্মুক্ত সড়ক-ক্যাম্পাসে উপস্থিত অল্প ক’জনের সঙ্গে পার্থকেও দেখা গেছে।
ডিপস্টেট ইউএসএইডের ঊনত্রিশ মিলিয়ন ডলারের খুদকুঁড়োর কী বিরাট শক্তি!
নকীব খান প্রোফাইল লাল করেছিলেন দুইবার, চব্বিশের ৩০ জুলাই এবং ০২ আগস্ট।
চব্বিশের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার শোকার্ত দিনে নকীবের ‘ফটোকার্ড-স্ট্যাটাসটা’
ভয়ংকর বার্তা দিয়েছিলো আমাদের। (ওখানে ছিলো ইংরেজিতে তিন লাইনে তিনটি শব্দ–‘রিফর্ম রিভার্স আর রিবুইল্ড’। ওপরে লেখা–Bangladesh 2.0)
পাঠক, এক্ষণে আমরা স্মরণে আনতে পারি বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানমালার সিগনেচার সঙ্গীতটির দিকে।
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির প্রধানকর্তা কামাল আবু নাসের চৌধুরী পত্রিকায় জরুরি এলান জারি করে সারাদেশের গীতিকার সুরকারদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি ‘সিগনেচার সং’ আহবান করেছিলেন। ব্যাপক সাড়া পড়ে গিয়েছিলো দেশব্যাপী।
জনপ্রিয় শিল্পী শুভ্রদেবসহ বিপুল সংখ্যক গীতিকার সুরকার গান লিখে সুর দিয়ে স্টুডিও ভাড়া করে গায়ক গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রীদের পেমেন্ট দিয়ে সেই গান রেকর্ড করে এডিট করে সিডি ও পেন ড্রাইভ ভার্সনে সেগুলো কামাল আবু নাসের সাহেবের দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। প্রচুর খরচাপাতি করতে হয়েছিলো সবাইকেই। জমা পড়েছিলো প্রায় চার হাজার গান। কিন্তু কামাল আবু নাসের চৌধুরী সাহেব কারোটাই গ্রহণ না করে বাংলা সাহিত্যের অমর কবি কামাল চৌধুরীর লেখা একটা কবিতাকেই নির্বাচিত করেছিলেন সিগনেচার সঙ্গীত হিশেবে।
সুজেয় শ্যাম কিংবা সেখ সাদী খান প্রমুখের মতো প্রাজ্ঞপ্রবীন সুরস্রষ্টারা সেই সময় ধরাধামে জীবিত থাকলেও কামাল আবু নাসের চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উদযাপনের সিগনেচার সঙ্গীতটিতে সুর সংযোজন ও সঙ্গীতায়োজনের জন্যে নির্বাচন করেছিলেন ব্যান্ডের গায়ক নকীব খানকে।
নকীব সুরারোপিত গানটি অজস্রবার রেডিও টিভির সবক’টা চ্যানেলে প্রচারিত হতো দিবানিশি। বাংলাদেশের বিখ্যাত প্রায় সকল গায়ক গায়িকার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাও গানটির ভিডিও দৃশ্যে অংশ নিয়েছিলেন।
এই পর্যন্ত ঠিক ছিলো কিন্তু একটা দৃশ্যে আমরা দর্শকেরা বিস্মিত হয়ে অবলোকন করেছিলাম–প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পাশে গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলাচ্ছেন নকীব এবং কামাল চৌ স্বয়ং!
কামাল চৌধুরীর প্রিয় নকীব খান অত:পর চব্বিশের জুলাই জঙ্গীদের ভয়ংকর সন্ত্রাসে ছিন্নভিন্ন বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করলেন! আবেগে গদগদ হলেন। ইউনুসের নাম জপতে জপতে প্রায় পাগলপারা অবস্থা নকীবের।
কয়েকটি নমুনা পেশ করা হলো আমার আজকের এই রচনায়।
আগস্টের ০৫ তারিখে দ্বিতীয় স্বাধীনতাপ্রাপ্ত নকীব খান ০৯ আগস্ট তারিখে তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছিলেন
‘স্বাধীনতা এনেছি সংস্কারও আনবো।’
গত ষোলো মাসে বাংলাদেশে কী কী সংস্কার এনেছেন নকীব পার্থরা সেটা তো জাতি দেখতেই পাচ্ছে!
আহারে তাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা!
আহারে ডিপস্টেটের খুদকুঁড়ো!
ডিপস্টেটের ডলার খাওয়া এই লালবদরদরা ইতিহাসে ঘৃণ্য চরিত্র হিশেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একটা সুন্দর দেশকে তোমরা তছনছ করে দিয়েছো।
আমরা তোমাদের ভুলবো না।

অটোয়া ১৮ জানুয়ারি ২০২৬”

Nowsher Ali’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন তাঁদের সবাই কি লালবদর?

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

মাহবুব ভাইয়ের তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগি এই লেখাটি আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এটা সত্য যে জুলাই–আগস্টে সারাদেশব্যাপি লক্ষ লক্ষ লোক রাস্তায় নেমেছিল। যার মধ্য মেটিউকুলাস ডিজাইনে ডিপ স্টেটের ডলার ভোগিদের জঘন্য ভুমিকা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। তবে আমার মতে এই লক্ষ লক্ষ জনতার ৯৫% মানুষ ছিল না বুঝে সাপের বিষ ভক্ষনকারির মত। যারা পরবর্তীতে তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
তবে ডিপস্টেটের মেটিউকুলাস ডিজাইনাররা তাদের অবস্থানে অটুট রয়ে গেছে।
আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পোড়ানো ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, হাজার হাজার পুলিশ হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক গ্রেপ্তার-নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ, সারাদেশে মববাজি, মুক্তিযুদ্ধের সকল নিশানা ধ্বংস, এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের মতো ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধেও যারা প্রতিবাদ করে নাই—তাদের জুলাই–আগস্টের অবস্থানকে অবশ্যই সুবিধাবাদী ও লালবদরিয় বলা একেবারেই যৌক্তিক মনে করি।

Shared post from Mahbub Kamal

May be an image of one or more people and people smiling. No photo description available.. May be an image of text

Mahbub Kamal

 যাঁরা চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন তাঁদের সবাই কি লালবদর? অবশ্যই নয়, লালবদরের সংজ্ঞা সহজ। যাঁরা সেই সময়ে ছাত্রহত্যার অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিশাল প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে দেশব্যাপী চরম নৈরাজ্য, লুটপাট, ধর্ষণ, মব-সন্ত্রাস, চৌর্যবৃত্তির, এমন কি স্বাধীনতার প্রতীকগুলো ধ্বংস করার সময়ে টু-শব্দটিও করেন নি তাঁরাই লালবদর।

পার্থ বড়ুয়া একজন অনুতাপবিহীন প্রধান লালবদর। তাঁর পক্ষে যাঁরা সাফাই গাইছেন, কিংবা তাঁর অনুষ্ঠান লাইভ করছেন তাঁদের সম্পর্কে এতটুকুই বলতে পারি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তাঁদের অবশ্যই আছে তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ‘নিশান-বরদার’ তাঁরা হতে পারেন কি?
বহুদিন আগে বেগম খালেদা জিয়া একটি কঠিন সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, ‘পাগল ও শিশু ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ হতে পারে না’। আমি এর সাথে মূর্খ শব্দটিও যোগ করতে চাই। প্রবাসী সহ সকল বাংলাদেশিদের মাঝে দুটোই পক্ষ। একটি পক্ষে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সকল সমর্থক, অপর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের বিএনপি-জামাত-এনসিপি ও তাবৎ লালবদররা (বিএনপিকে যাঁরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বলে বিশ্বাস করেন তাঁরা মূর্খদের কাতারেই পড়েন)। যাঁরা আন্তরিকভাবেই মাঝামাঝি থাকার প্রয়াস করেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে একটাই প্রশ্ন, ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’।
পক্ষ একটা নিতেই হবে। লালবদরদের পরিহার করুন। তবে প্রতিবাদ হউক শানিত ও শালীন।
সবাইকে লালবদর বলে দূরে ঠেলে দেয়ার পক্ষপাতী আমি নই। তবে অনুতাপহীন লালবদরদের আমরা যেন ঠিকমতোই চিনে রাখি। এদের বুকে টেনে নেয়াটা সন্দেহের উদ্রেক করে।
গত জানুয়ারিতে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন পার্থ বড়ুয়া এবং নকীব খানের একটি আমলনামা লিখেছিলেন। তাঁর অনুমতি না নিয়েই হুবহু কপি করলাম। অশেষ কৃতজ্ঞতার সাথে রিটনকে ধন্যবাদ জানাই। Lutfor Rahman Riton
* পার্থ বড়ুয়ার পোস্টের ফোটোটিও রিটনের পোস্ট থেকে নেওয়া। দুই শিল্পীর ছবি রিটনের পোস্টে থাকলেও, আমার সংগ্রহেও ছিল।
*বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে না যাওয়া কেউ যখন বলেন ‘পার্থ বড়ুয়ার নয়, আইয়ুব বাচ্চু, তপন চৌধুরীর সোলসের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি’ তখন সন্দ্বীপের কবি আব্দুল হাকিমের যে পঙতিটির কথা মনে পড়ে যায় সেটি আর উদ্ধৃত করলাম না।
“আমরা তোমাদের ভুলবো না–০২
> লালবদর নকীব খান ও পার্থ বড়ুয়া
লুৎফর রহমান রিটন
বাংলা ব্যান্ড ‘সোলস’-এর দুই কৃতী ও জনপ্রিয় শিল্পী নকীব খান এবং পার্থ বড়ুয়া দিন শেষে লালবদর হিশেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৪ এর জুলাই আগস্টের সন্ত্রাসের সময় প্রোফাইল লাল করা লালবদর নয়, এরা আরও লাল। তারচে গাঢ় লাল।
প্রোফাইল লাল করা অনেকেই পরবর্তীতে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে নিজের সেই সময়ের অবস্থানের কারণে বিব্রত হয়েছেন। দু:খিত ও লজ্জিত হয়েছেন। কিন্তু এরা হননি। প্রোফাইল লাল করা প্রতারিত মানুষজন আমার লেখার সাবজেক্ট নন। তারা দেশের জন্যে ক্ষতিকরও নন। ক্ষতিকর তারাই যারা প্রোফাইল লাল করেছিলো ডিপস্টেটের ডলার খেয়ে। আমার এই লেখার সাবজেক্ট শুধুই তারা।
জার্মান নাৎসিদের Heil Hitler এর অনুকরণে পার্থ তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছিলেন Heil Dr Muhammad Yunus.
জুলাই ষড়যন্ত্রের তথাকথিত আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিলেন পার্থ।
২০২৫ এর মধ্য ফেব্রুয়ারিতে জুলাই জঙ্গীদের সনদ ঘোষণার দিন সংসদ প্লাজার উন্মুক্ত সড়ক-ক্যাম্পাসে উপস্থিত অল্প ক’জনের সঙ্গে পার্থকেও দেখা গেছে।
ডিপস্টেট ইউএসএইডের ঊনত্রিশ মিলিয়ন ডলারের খুদকুঁড়োর কী বিরাট শক্তি!
নকীব খান প্রোফাইল লাল করেছিলেন দুইবার, চব্বিশের ৩০ জুলাই এবং ০২ আগস্ট।
চব্বিশের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার শোকার্ত দিনে নকীবের ‘ফটোকার্ড-স্ট্যাটাসটা’
ভয়ংকর বার্তা দিয়েছিলো আমাদের। (ওখানে ছিলো ইংরেজিতে তিন লাইনে তিনটি শব্দ–‘রিফর্ম রিভার্স আর রিবুইল্ড’। ওপরে লেখা–Bangladesh 2.0)
পাঠক, এক্ষণে আমরা স্মরণে আনতে পারি বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানমালার সিগনেচার সঙ্গীতটির দিকে।
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির প্রধানকর্তা কামাল আবু নাসের চৌধুরী পত্রিকায় জরুরি এলান জারি করে সারাদেশের গীতিকার সুরকারদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি ‘সিগনেচার সং’ আহবান করেছিলেন। ব্যাপক সাড়া পড়ে গিয়েছিলো দেশব্যাপী।
জনপ্রিয় শিল্পী শুভ্রদেবসহ বিপুল সংখ্যক গীতিকার সুরকার গান লিখে সুর দিয়ে স্টুডিও ভাড়া করে গায়ক গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রীদের পেমেন্ট দিয়ে সেই গান রেকর্ড করে এডিট করে সিডি ও পেন ড্রাইভ ভার্সনে সেগুলো কামাল আবু নাসের সাহেবের দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। প্রচুর খরচাপাতি করতে হয়েছিলো সবাইকেই। জমা পড়েছিলো প্রায় চার হাজার গান। কিন্তু কামাল আবু নাসের চৌধুরী সাহেব কারোটাই গ্রহণ না করে বাংলা সাহিত্যের অমর কবি কামাল চৌধুরীর লেখা একটা কবিতাকেই নির্বাচিত করেছিলেন সিগনেচার সঙ্গীত হিশেবে।
সুজেয় শ্যাম কিংবা সেখ সাদী খান প্রমুখের মতো প্রাজ্ঞপ্রবীন সুরস্রষ্টারা সেই সময় ধরাধামে জীবিত থাকলেও কামাল আবু নাসের চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উদযাপনের সিগনেচার সঙ্গীতটিতে সুর সংযোজন ও সঙ্গীতায়োজনের জন্যে নির্বাচন করেছিলেন ব্যান্ডের গায়ক নকীব খানকে।
নকীব সুরারোপিত গানটি অজস্রবার রেডিও টিভির সবক’টা চ্যানেলে প্রচারিত হতো দিবানিশি। বাংলাদেশের বিখ্যাত প্রায় সকল গায়ক গায়িকার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাও গানটির ভিডিও দৃশ্যে অংশ নিয়েছিলেন।
এই পর্যন্ত ঠিক ছিলো কিন্তু একটা দৃশ্যে আমরা দর্শকেরা বিস্মিত হয়ে অবলোকন করেছিলাম–প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পাশে গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলাচ্ছেন নকীব এবং কামাল চৌ স্বয়ং!
কামাল চৌধুরীর প্রিয় নকীব খান অত:পর চব্বিশের জুলাই জঙ্গীদের ভয়ংকর সন্ত্রাসে ছিন্নভিন্ন বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করলেন! আবেগে গদগদ হলেন। ইউনুসের নাম জপতে জপতে প্রায় পাগলপারা অবস্থা নকীবের।
কয়েকটি নমুনা পেশ করা হলো আমার আজকের এই রচনায়।
আগস্টের ০৫ তারিখে দ্বিতীয় স্বাধীনতাপ্রাপ্ত নকীব খান ০৯ আগস্ট তারিখে তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছিলেন
‘স্বাধীনতা এনেছি সংস্কারও আনবো।’
গত ষোলো মাসে বাংলাদেশে কী কী সংস্কার এনেছেন নকীব পার্থরা সেটা তো জাতি দেখতেই পাচ্ছে!
আহারে তাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা!
আহারে ডিপস্টেটের খুদকুঁড়ো!
ডিপস্টেটের ডলার খাওয়া এই লালবদরদরা ইতিহাসে ঘৃণ্য চরিত্র হিশেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একটা সুন্দর দেশকে তোমরা তছনছ করে দিয়েছো।
আমরা তোমাদের ভুলবো না।

অটোয়া ১৮ জানুয়ারি ২০২৬”

Nowsher Ali’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।