, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য করতে রা‌জি নয়: শামা ওবায়েদ জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী

১৭ বছর ধরে মার্কিন ডিপ্লোম্যাটদেরকে পাত্তা দিতেন না শেখ হাসিনা?

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৭২ পড়া হয়েছে

অনলাইন  রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের উপর আস্থা রেখে লীগের লোকজন প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রতিনিয়ত এদেশে নিযুক্ত মার্কিন ডিপ্লোম্যাটদেরকে পাত্তা না দিয়ে অত্যন্ত কুৎসিত কদাচিত নোংরা ভাষার হেলাফেলা করে নাম রাখতেন, লীগ এখন সেদেশের উপর ভর করে পুনরায় এদেশের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাকে তার বাসার ‘কাজের বুয়া মর্জিনা’র সঙ্গে তুলনা করা, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইকে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ বলে উপহাস করা, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা, কিংবা পিটার ডি. হাসকে রাজহাঁস বলে প্রকাশ্যে বারবার অপমান ও হেয় করার মতো ঘটনাগুলো নিয়ে আজ নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
প্রশ্ন হলো এসবের রাজনৈতিক প্রাপ্তি কী ছিল?
কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে অপমানজনক নামে ডাকা, কোনো দেশের মন্ত্রীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কিংবা একজন কূটনীতিককে ইচ্ছেকৃত ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা এগুলো কোনো সুস্থ, আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিছ অংশ হতে পারে না।
রাষ্ট্রদূত একজন ব্যক্তিমাত্র নন। তিনি তার রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
কোনো দেশের নীতির সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তাদের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনাও করা যেতে পারে। এমনকি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে তীব্র উত্তেজনাও তৈরি হতে পারে।
কিন্তু মতপার্থক্য আর ব্যক্তিগত অপমান এক জিনিস নয়।
একটি সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমরা নীতির সমালোচনা করব, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করব, প্রয়োজন হলে কূটনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান নেব কিন্তু ব্যক্তিকে হেয় করব না।
কারণ একজন মানুষকে কীভাবে সম্বোধন করি, প্রতিপক্ষকে কীভাবে সম্মান করি এবং ক্ষমতা হাতে থাকলেও কতটা সংযত থাকি এসবের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক চরিত্র প্রকাশ পায়।
ক্ষমতা আছে বলেই কি অন্য মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে হবে না?
এটি শুধু কূটনীতির প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জাতীয় চরিত্রের প্রশ্ন।
মার্শা বার্নিকাটের ওপর হামলার অভিযোগ হোক কিংবা পিটার ডি. হাসকে ঘিরে উত্তেজনাকর ঘটনাগুলো যে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভয় দেখানো বা ব্যক্তিগত অপমান বাংলাদেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
বরং এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
আমাদের সবার মনে রাখতে হবে—
বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষা মানে শুধু বিদেশিদের সামনে শক্ত অবস্থান নেওয়া নয়; বরং মতপার্থক্যের মধ্যেও নিজের আচরণে রাষ্ট্রের পরিপক্বতা ও আত্মমর্যাদা প্রমাণ করা।
একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাউকে গালাগালি করে শক্তিশালী হয় না।
একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি কাউকে অপমান করে নিজের মর্যাদা বাড়াতে পারে না।
কঠোর হওয়া যায়, কিন্তু অশালীন না হয়েও। প্রতিবাদ করা যায়, কিন্তু অপমান না করেও। মতবিরোধ করা যায়, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়াই।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমাদের এই সংস্কৃতিটাই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত ইতিহাস শুধু কে ক্ষমতায় ছিল তা মনে রাখে না। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কে কীভাবে আচরণ করেছিল, সেটিও মনে রাখে।
অন্যায়, অপমান, সহিংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচার ইতিহাসের আদালতে একদিন না একদিন হয়।
আল্লাহ তাআলা মহাসহিষ্ণু ও মহাধৈর্যশীল। তিনি সময় দেন কিন্তু অন্যায়কে চিরদিনের জন্য ছেড়ে দেন না। লীগের লোকজন যাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন, এখন লীগের তাদের কাছেই ধ্বর্ণা ধরতে হচ্ছে।
রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকতে পারে, শত্রুতা নয়। মতপার্থক্য থাকতে পারে, অমানবিকতা নয়। কঠোরতা থাকতে পারে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিসর্জন নয়

Md. Anowar Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য করতে রা‌জি নয়: শামা ওবায়েদ

১৭ বছর ধরে মার্কিন ডিপ্লোম্যাটদেরকে পাত্তা দিতেন না শেখ হাসিনা?

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন  রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের উপর আস্থা রেখে লীগের লোকজন প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রতিনিয়ত এদেশে নিযুক্ত মার্কিন ডিপ্লোম্যাটদেরকে পাত্তা না দিয়ে অত্যন্ত কুৎসিত কদাচিত নোংরা ভাষার হেলাফেলা করে নাম রাখতেন, লীগ এখন সেদেশের উপর ভর করে পুনরায় এদেশের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাকে তার বাসার ‘কাজের বুয়া মর্জিনা’র সঙ্গে তুলনা করা, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইকে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ বলে উপহাস করা, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা, কিংবা পিটার ডি. হাসকে রাজহাঁস বলে প্রকাশ্যে বারবার অপমান ও হেয় করার মতো ঘটনাগুলো নিয়ে আজ নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
প্রশ্ন হলো এসবের রাজনৈতিক প্রাপ্তি কী ছিল?
কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে অপমানজনক নামে ডাকা, কোনো দেশের মন্ত্রীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কিংবা একজন কূটনীতিককে ইচ্ছেকৃত ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা এগুলো কোনো সুস্থ, আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিছ অংশ হতে পারে না।
রাষ্ট্রদূত একজন ব্যক্তিমাত্র নন। তিনি তার রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
কোনো দেশের নীতির সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তাদের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনাও করা যেতে পারে। এমনকি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে তীব্র উত্তেজনাও তৈরি হতে পারে।
কিন্তু মতপার্থক্য আর ব্যক্তিগত অপমান এক জিনিস নয়।
একটি সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমরা নীতির সমালোচনা করব, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করব, প্রয়োজন হলে কূটনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান নেব কিন্তু ব্যক্তিকে হেয় করব না।
কারণ একজন মানুষকে কীভাবে সম্বোধন করি, প্রতিপক্ষকে কীভাবে সম্মান করি এবং ক্ষমতা হাতে থাকলেও কতটা সংযত থাকি এসবের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক চরিত্র প্রকাশ পায়।
ক্ষমতা আছে বলেই কি অন্য মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে হবে না?
এটি শুধু কূটনীতির প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জাতীয় চরিত্রের প্রশ্ন।
মার্শা বার্নিকাটের ওপর হামলার অভিযোগ হোক কিংবা পিটার ডি. হাসকে ঘিরে উত্তেজনাকর ঘটনাগুলো যে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভয় দেখানো বা ব্যক্তিগত অপমান বাংলাদেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
বরং এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
আমাদের সবার মনে রাখতে হবে—
বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষা মানে শুধু বিদেশিদের সামনে শক্ত অবস্থান নেওয়া নয়; বরং মতপার্থক্যের মধ্যেও নিজের আচরণে রাষ্ট্রের পরিপক্বতা ও আত্মমর্যাদা প্রমাণ করা।
একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাউকে গালাগালি করে শক্তিশালী হয় না।
একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি কাউকে অপমান করে নিজের মর্যাদা বাড়াতে পারে না।
কঠোর হওয়া যায়, কিন্তু অশালীন না হয়েও। প্রতিবাদ করা যায়, কিন্তু অপমান না করেও। মতবিরোধ করা যায়, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়াই।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমাদের এই সংস্কৃতিটাই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত ইতিহাস শুধু কে ক্ষমতায় ছিল তা মনে রাখে না। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কে কীভাবে আচরণ করেছিল, সেটিও মনে রাখে।
অন্যায়, অপমান, সহিংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচার ইতিহাসের আদালতে একদিন না একদিন হয়।
আল্লাহ তাআলা মহাসহিষ্ণু ও মহাধৈর্যশীল। তিনি সময় দেন কিন্তু অন্যায়কে চিরদিনের জন্য ছেড়ে দেন না। লীগের লোকজন যাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন, এখন লীগের তাদের কাছেই ধ্বর্ণা ধরতে হচ্ছে।
রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকতে পারে, শত্রুতা নয়। মতপার্থক্য থাকতে পারে, অমানবিকতা নয়। কঠোরতা থাকতে পারে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিসর্জন নয়

Md. Anowar Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।