
·অনলাইন মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের বিশ্বস্থ বন্ধু শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তা সহযোগে ভারতে রাখা সম্ভব হবে না। তাই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না দেশটির হাতে। ঠিক এ কারণেই ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে এত হইচই, বলছেন অনেকে।
(২)
প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় এসে বিএনপি ভালো পারফর্ম করতে পারলো না। সকালটা দেখলেই বোঝা যায়, বাকিটা দিন কেমন যাবে। অবশ্য একটা দল সরকার গঠন করার পরের প্রথম ছয় মাস দেখেই তার বাকি শাসনকাল কেমন হবে সেটা আন্দাজ করা যায় না। কিন্তু মন্দ হাওয়া বইছে। দল ক্ষমতায় আসার মাত্র ৮ মাসে দেশে যা কিছু ঘটেছে তার খুব কম ঘটনাই জনতার পক্ষে গেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা বলছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
(৩)
কী হতে পারে?
অনেক ‘বিশ্লেষক’ মনে করছেন আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা প্রকট। কারণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিশু*ত্যা, ধ*ণ, অ*সংযোগ, দ*ল, চাঁ*বাজিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাবে ‘ডিপস্টেট’।
(৪)
আ. লীগের সঙ্গে আমেরিকার একটা সমঝোতা হয়ে গেছে। এই দুষ্টু জনগোষ্ঠীকে শায়েস্তা করতে মার্কিনিদের হাতে সেন্টমার্টিন তুলে দিতে আগ্রহী দলটি। তাই তারা আবারও ক্ষমতায় ফিরতে চায়। আওয়ামী মেসেঞ্জার লীগের এক সদস্য সম্প্রতি এই অপতথ্য ছড়াতে শুরু করেছেন। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশে আবারও তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন। ঘটনাটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু জানি না। কিন্তু দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনি কী মনে করেন, সম্ভব সেটা?
(৫)
ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধী দুটি শক্তিশালী দল জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ওপর বড় রকমের নির্যাতন চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি সেসব ভুলে গেছে। কারণ নেতারা ছিলেন নিরাপদে, এমনকি তাদের কয়েদখানাও ছিল ফাইভ স্টার। কর্মীরা ছিলেন ফেরারী। ক্ষমতায় ফেরার পর তাদের জন্য কিচ্ছু করতে পারেনি দলটি।
(৬)
সেসব নিয়ে তীব্র আক্ষেপ আছে দলের ভেতরে। একটু ওপরের সারির নেতারা পলাতক আওয়ামী লীগের সম্পদ পাহারা দিচ্ছে। রোজগার মন্দ নয়। তারা অতীত ভুলে গেছে। কিন্তু জামায়াত প্রতিশোধ নেবে। সরকার পতনের পর তারা ইন্টেরিমকে সামনে রেখে তারা দলের ভেতর গুছিয়েছে। জনগণকে সময় দিয়েছে, দেখানোর জন্য যে, বিএনপি কেমন পারফর্ম করে। পরের নির্বাচনে ভোটটা কাকে দেবে তারা, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেলো জনগণ। সর্বশেষ নির্বাচনে জামায়াতের অনেক আসন রীতিমতো মাথায় হাত বুলিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি, সেটা অনেকেরই জানা। কিন্তু পরেরবার খেলা হবে উলটো!
(৭)
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি যদি চলতি ছন্দে বইতে থাকে, তাহলে দেশ একটা তিন থেকে পাঁচ বছরের সে*শাসনের দিকে যেতে পারে। কেন বললাম এ কথা? সেনাবাহিনী যে কত ভালো কাজ করে, সেটা দেখানোর জন্য একটা ডকুমেন্টরি বানানো হয়েছে। দেখলেই বুঝবেন।
আবার সরাসরি সে*শাসন না হলেও সেনা-সৌজন্যে তত্বাবধায়ক শাসনের দিকেও যেতে পারে দেশ। তারপর অনেক দিন পর হবে নির্বাচন। সেই সময়ের মধ্যে এনসিপি নিজেদের প্রস্তুত করে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে শক্তপোক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলবে, তাদের স্পিড যদি ঠিক থাকে।
(৮)
আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে চলে যাবে অন্তত ১০টি বছর। তারপর নতুন শক্তি নিয়ে যদি আওয়ামী লীগ ফেরে, সায়মা ওয়াজেদ হবেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী প্রধান কর্ণধার। পরিবারতন্ত্রের হাত থেকে রেহাই পাবে না দলটি। তার দুই পাশে শক্ত হাতিয়ার হয়ে থাকবেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। তখনকার ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানটি শুনতে হবে অন্য রকম।
Rashel Mahmud’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















