
অনলাইন মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, ব্লুমবার্গ ইকোনোমিকস, ইয়াহু ফিনান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ODNI) পরিসংখ্যানিকভাবে প্রকাশ করেছে, চীনের অর্থনীতির বর্ধনশীলতা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। তবে আইএমএফের জরিপ অনুযায়ী ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে চীন ইতিমধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ।
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা বর্তমান রাশিয়াকে ভাবা হতো, কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষ চীন। অর্থাৎ চীনের অর্থনীতিকে ঘায়েল করতেই সমসাময়িক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের স্ট্রাটেজিক বিজনেস পার্টনার দেশগুলোর উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ডিপ স্টেটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন, আর না হয় যুদ্ধ ঠেলে দিচ্ছে। অর্থাৎ চীনের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে চীনের প্রতিবেশী ভারত বিশ্বের বৃহৎ পঞ্চম অর্থনীতির দেশ ৷ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী ২০২৭ সালে জাপান ও জার্মানিকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। তবে আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।
ভূরাজনৈতিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল চীনের অর্থনীতিকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে স্ট্রাটেজিক পার্টনার হিসেবে ব্যবহার করবে। কিন্তু সমসাময়িক কিছু বছরের প্রেক্ষাপট দেখে মোটেও মনে হচ্ছে না, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতিবাচক।
এর পেছনের অন্যতম কারণ ভারতের অর্থনীতির দ্রুত বর্ধনশীলতা। ভবিষ্যতে ভারত যদি চীনের ন্যায় প্রতিযোগি অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়ে যায়, এই ভয়টা যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করে বলেছে, “২০ বছর আগে চীনকে যে ধরণের বাণিজ্যিক সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সেই একই ভুল আর করবে না।”
অর্থাৎ এটি পরিষ্কার যে ভারতকে চীনের মতো শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হতে দিবে না। এই জন্য বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো নিয়ে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত ও চীনকে চাপে রাখার কৌশল এঁকেছে। পাশাপাশি ভারতকে বাধা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধকৃত রাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রত্যাহার করতে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজশকিয়ানের সাথে ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক ইতিবাচক করার আলোচনা করলে, যুক্তরাষ্ট্র হুশিয়ারি দেয়। অনুরূপ রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইতিবাচক করতে চাইলে শুল্ক আরোপের ভয় দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ফিলোসোফির কারণে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে একটি স্ট্রাটেজিক অ্যালায়েন্স গঠনের সম্ভাবনা আরও বিস্তর করে দিয়েছে। প্রভাবক ও এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে রাশিয়া, রাশিয়া চাচ্ছে ভারত ও চীনের ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক বিরোধ সম্পর্ক অবসান ঘটিয়ে স্ট্রাটেজিক পার্টনারে পরিণত হতে। বর্তমানে এটি প্রায় কাছাকাছি, মোদি ও শিং জিনপিংয়ের সম্পর্কে অনেকটাই ইতিবাচক। এটি পরিষ্কার যে মধ্য এশিয়ায় রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, উত্তর কোরিয়া মিলে একটি স্ট্রাটেজিক অ্যালায়েন্স গঠিত হবে, যেখানে মার্কিন কোনো পলিসি নাক গলানোর সুযোগ পাবে না। এমনকি ডলার বাদ দিয়ে অন্য কোনো মুদ্রা ব্যবস্থা চালু হতে পারে।
আগামীকাল ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইতিমধ্যে ভারতে অবস্থান করছে ভ্লাদিমির পুতিন ও শিং জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজশকিয়ান আসার কথা রয়েছে। সম্মেলন শেষে তিনজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিতে বিস্তর পরিণত আসবে।
মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার আসন্ন ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যতটুকু পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, ততটুকু মার্কিন আধিপত্য উচ্ছেদের সংকেত। বাংলাদেশ সরকার মার্কিন ডিপ স্টেটের কোলে বসে আছে, ফরেন পলিসিতে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনলে নিশ্চিত অর্থেই বর্তমান সরকার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপে পড়বে।
মনিরুল ইনসাইডার
(১১-০৯-২০২৬)
Monirul Insider ‘s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















