, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধা এবং অমুক্তিযোদ্ধা দ্বন্দ্ব

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০ পড়া হয়েছে

অনলাইন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধা এবং অমুক্তিযোদ্ধা (প্রত্যাগত) অফিসারদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব একটি বড় ধরনের ও সুদূরপ্রসারী সংকট ছিল। এই দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জ্যেষ্ঠতা বা সিনিয়রিটি নিয়ে ক্ষোভ। বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ দুই বছরের অগ্রিম জ্যেষ্ঠতা বা ‘অ্যান্টি-ডেটেড সিনিয়রিটি’ দেওয়ায় পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত অনেক সিনিয়র অফিসার দেশে ফিরে তাদের জুনিয়র হয়ে যান, যা তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করে। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল আদর্শিক অমিল। মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররা ছিলেন গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় পুষ্ট ও জাতীয়তাবাদী চেতনাসম্পন্ন, অন্যদিকে প্রত্যাগতরা ছিলেন কঠোর প্রথাগত সামরিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। এছাড়া সেনাবাহিনীতে প্রত্যাগতদের সংখ্যা বেশি (প্রায় ২৮ হাজার) হলেও শীর্ষ পদগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের (প্রায় ১০ হাজার) দখলে থাকা এবং সমসাময়িক সময়ে ‘জাতীয় রক্ষীবাহিনী’ গঠনকে ঘিরে সামরিক বাহিনীর উভয় অংশের মধ্যকার বঞ্চনাবোধ এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দেয়।
অফিসারদের মধ্যকার এই বিভাজন নবগঠিত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এর মর্মান্তিক ও চরম পরিণতি দেখা যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে ৩রা ও ৭ই নভেম্বরের পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানগুলো মূলত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও অন্তর্কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে (১৯৭৭-১৯৮১) সেনাবাহিনীতে অসংখ্য ছোট-বড় বিদ্রোহ ও ক্যু-এর চেষ্টা ঘটে, যা অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করা হয়। এসব বিদ্রোহ দমনের নামে গঠিত সামরিক ট্রাইব্যুনালগুলোর মাধ্যমে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সেনাসদস্যের ফাঁসি বা চাকরিচ্যুতি ঘটে, যার ফলে সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের উপস্থিতি ও প্রভাব ব্যাপকভাবে নিশ্চিহ্ন হতে থাকে।
১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে যে শুদ্ধি অভিযান চলে, তাতে টিকে থাকা অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসারও বাদ পড়েন। ফলে সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের প্রভাব প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে এবং প্রত্যাগত অফিসারদের আধিপত্য নিরঙ্কুশ হয়। এই আধিপত্যের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ১৯৮২ সালে, যখন একজন প্রত্যাগত অফিসার জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একটি রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। নবগঠিত রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব কেবল বাহিনীটিকেই দুর্বল করেনি, বরং তাদের বারবার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ কয়েক দশকের জন্য চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

The Saifullah’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধা এবং অমুক্তিযোদ্ধা দ্বন্দ্ব

প্রকাশের সময় : ০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধা এবং অমুক্তিযোদ্ধা (প্রত্যাগত) অফিসারদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব একটি বড় ধরনের ও সুদূরপ্রসারী সংকট ছিল। এই দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জ্যেষ্ঠতা বা সিনিয়রিটি নিয়ে ক্ষোভ। বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ দুই বছরের অগ্রিম জ্যেষ্ঠতা বা ‘অ্যান্টি-ডেটেড সিনিয়রিটি’ দেওয়ায় পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত অনেক সিনিয়র অফিসার দেশে ফিরে তাদের জুনিয়র হয়ে যান, যা তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করে। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল আদর্শিক অমিল। মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররা ছিলেন গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় পুষ্ট ও জাতীয়তাবাদী চেতনাসম্পন্ন, অন্যদিকে প্রত্যাগতরা ছিলেন কঠোর প্রথাগত সামরিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। এছাড়া সেনাবাহিনীতে প্রত্যাগতদের সংখ্যা বেশি (প্রায় ২৮ হাজার) হলেও শীর্ষ পদগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের (প্রায় ১০ হাজার) দখলে থাকা এবং সমসাময়িক সময়ে ‘জাতীয় রক্ষীবাহিনী’ গঠনকে ঘিরে সামরিক বাহিনীর উভয় অংশের মধ্যকার বঞ্চনাবোধ এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দেয়।
অফিসারদের মধ্যকার এই বিভাজন নবগঠিত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এর মর্মান্তিক ও চরম পরিণতি দেখা যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে ৩রা ও ৭ই নভেম্বরের পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানগুলো মূলত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও অন্তর্কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে (১৯৭৭-১৯৮১) সেনাবাহিনীতে অসংখ্য ছোট-বড় বিদ্রোহ ও ক্যু-এর চেষ্টা ঘটে, যা অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করা হয়। এসব বিদ্রোহ দমনের নামে গঠিত সামরিক ট্রাইব্যুনালগুলোর মাধ্যমে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সেনাসদস্যের ফাঁসি বা চাকরিচ্যুতি ঘটে, যার ফলে সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের উপস্থিতি ও প্রভাব ব্যাপকভাবে নিশ্চিহ্ন হতে থাকে।
১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে যে শুদ্ধি অভিযান চলে, তাতে টিকে থাকা অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসারও বাদ পড়েন। ফলে সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের প্রভাব প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে এবং প্রত্যাগত অফিসারদের আধিপত্য নিরঙ্কুশ হয়। এই আধিপত্যের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ১৯৮২ সালে, যখন একজন প্রত্যাগত অফিসার জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একটি রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। নবগঠিত রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব কেবল বাহিনীটিকেই দুর্বল করেনি, বরং তাদের বারবার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ কয়েক দশকের জন্য চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

The Saifullah’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।